Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (87 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২০-২০১৩

ত্রিপুরা রাজপ্রাসাদের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক


ত্রিপুরা রাজপ্রাসাদের নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক
আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর- উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্য ত্রিপুরার সাবেক রাজপরিবারের বাসস্থান– আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্যালেসের নাম বদল করে ত্রিপুরা রাজ্য মিউজিয়াম রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে সে রাজ্যের সরকার।
 
উপজাতি আর বাঙালি অধিবাসীরা যেমন নাম পরিবর্তনের এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন, তেমনই রাজপরিবারের বর্তমান উত্তরাধিকারী বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন প্রাসাদের নাম বদল হলে তিনি নিজে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।
 
আগরতলার কেন্দ্রে ১১২ বছরের পুরণো রাজপ্রাসাদ উজ্জয়ন্ত প্যালেসে কয়েকদিন পর থেকেই চালু হবে ত্রিপুরা রাজ্য মিউজিয়াম।
 
ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মিউজিয়ামের নতুন প্রাঙ্গনের। কিন্তু ওই রাজপ্রাসাদটিকে ত্রিপুরা রাজ্য মিউজিয়ামে পরিচয় দেওয়ার সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ শুরু হয়েছে সেখানে।
 
প্রথমে ত্রিপুরার উপজাতিদের রাজনৈতিক সংগঠন আই এন পি টির প্রধান ও প্রাক্তন জঙ্গী নেতা বিজয় রাঙ্খল আর বৃহস্পতিবার রাজপরিবারের বর্তমান উত্তরাধিকারী প্রদ্যোৎ মানিক্য দেববর্মন নিজেই বামফ্রন্ট সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
 
মি. দেববর্মন বলেন, “উজ্জয়ন্ত প্যালেসের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটা হাস্যকর। উজ্জয়ন্ত প্যালেস নাম রেখে কি মিউজিয়াম করা যেত না? কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল বা দিল্লির লাল কেল্লা – এগুলোর কি নাম পাল্টানো হয়েছে? উজ্জয়ন্ত প্যালেসের নাম বদল করে দেয়া হলে ইতিহাস, ঐতিহ্য মুছে যাবে।“
 
প্রদ্যোৎ মানিক্য দেববর্মন জানিয়েছেন সরকার যদি সিদ্ধান্ত না বদলায় তাহলে তিনি সাধারন মানুষকে নিয়ে আন্দোলনে নামবেন, নেতৃত্ব তিনিই দেবেন।
আগরতলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের রাজপ্রাসাদ ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে ১৮৯৯ থেকে ১৯০১ – এই দুবছরে উজ্জয়ন্ত প্যালেস তৈরী করেন তৎকালীন মহারাজ রাধাকিশোর মাণিক্য।
তখন থেকেই এই প্রাসাদ-ই ছিল প্রায় ৮০০ বছরের পুরণো মাণিক্য রাজপরিবারের শাসনকেন্দ্র। ওই প্রাসাদের নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। পরিবারের উত্তরাধিকারী প্রদ্যোৎ মানিক্য দেববর্মন বলছিলেন উজ্জয়ন্ত প্যালেসের নাম বাদ দেওয়া হলে ত্রিপুরার ঐতিহ্যও মুছে যাবে।
 
রাজ্য সরকার অবশ্য বলছে, তারা প্রাসাদের নাম বাদ দিচ্ছে না। যে উচ্চ শিক্ষা দপ্তর মিউজিয়ামটির দায়িত্বে রয়েছে, তার সচিব কিশোর আম্বুলি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন যে ত্রিপুরা রাজ্য মিউজিয়াম, উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ – এইভাবেই ভবনটির পরিচয় দেয়া হবে।
 
তিনি আরো জানান যে দুবছর আগে পর্যন্তও যখন ওই প্রাসাদেই ত্রিপুরা বিধানসভা অবস্থিত ছিল, তখন তো সেটির নাম উজ্জয়ন্ত বিধানসভা ছিল না – শুধু বিধানসভাই ছিল।
 
প্রদ্যোৎ মাণিক্য দেববর্মনের কথায়, “সরকার যদি উজ্জয়ন্ত প্যালেস রাজ্য মিউজিয়াম বা রাজ্য মিউজিয়াম উজ্জয়ন্ত প্যালেস দেয়, তাতে আমার আপত্তি নেই।
 
কিন্তু কোথাও উজ্জয়ন্ত প্যালেসের নাম থাকবে না, সেটা মানব না। এটা শুধু আমার পরিবারের প্রাসাদ নয়, গোটা ত্রিপুরার মানুষের ইতিহাস জড়িয়ে আছে ওই প্রাসাদের সঙ্গে।
 
ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা মনে করছেন যে মিউজিয়ামটি রাজপরিবারের সংগ্রহশালা নয়, গোটা ত্রিপুরার ঐতিহ্য রাখা হবে সেখানে। অনর্থক বিতর্ক তোলা হচ্ছে নাম নিয়ে।
 
বিশ্লেষকেরা অবশ্য এই বিতর্কের মধ্যে রাজনীতির আভাসও দেখছেন। রাজপরিবারের সদস্যরা সক্রিয় কংগ্রেস নেতা। তাই বামফ্রন্ট সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য একাংশের। সূত্র: বিবিসি।

 

ত্রিপুরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে