Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৪-২০১৯

বিমানে ভয়ানক ফাঁকি

গোলাম সাত্তার রনি


বিমানে ভয়ানক ফাঁকি

ঢাকা, ৪ জুলাই- এবার উঠে এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে ফাঁকি দেওয়ার এক উদ্বেগজনক চিত্র। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একদিন ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটির ৪৬৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীই বিলম্বে কর্মস্থলে যোগদান এবং কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগে অফিস ত্যাগ করেছেন।

শুধু তাই নয়, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে এসে নির্দিষ্ট যন্ত্রে মুখম-লের ছাপ দেওয়ার পর দীর্ঘ সময়ের জন্য অফিস ত্যাগ করা কর্মীর সংখ্যাও কম নয়। দিন দিন এ প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে বিমানের কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা অনুপস্থিত থাকা ও কাজে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। এসব কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের। শুধু তাই নয়, এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার; বিশ্বাঙ্গনে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে দেশেরও।

প্রসঙ্গত বিমানে লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে বছরের পর বছর। এ কারণে গত ৩০ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দিক আহমেদকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়; তার দেশত্যাগে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এর পরও বিমান থেকে সরানো যায়নি অনিয়ম-দুর্নীতির কালো ছায়া। সংস্থাটির ভেতরে এখনো সক্রিয় দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট। কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়ার পর বিমানে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। কিন্তু এ শুদ্ধি অভিযান ব্যাহত করতে চলছে সিন্ডিকেটের নানা অপতৎপরতা।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমানে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে প্রায় ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঝটিকা অভিযান চালান। অভিযানকালে তারা দেখতে পান, সেদিন ৪৬৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এক থেকে তিন কর্মঘণ্টা ফাঁকি দিয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতির তথ্য-উপাত্তও তারা যাচাই করে দেখেন। পরে কর্মে ফাঁকি সংক্রান্ত একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে।

প্রতিবেদনে অনুসন্ধানী কর্মকর্তাদের বরাতদিয়ে উল্লেখ করা হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত বাংলাদেশ বিমানের মোটর ট্রান্সপোর্ট শাখা, গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগ, বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং শাখা ও বিমান প্রকৌশল শাখাসহ প্রায়  সব শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী দলবেঁধে কর্মে ফাঁকি দিয়ে আসছেন বছরের পর বছর।

এ চিত্র দেখার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানের দিন সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা কাজে অনুপস্থিত থাকা ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর উদ্দেশে গত ৯ জুন নোটিশ পাঠানো হয়েছে বিলম্বের ব্যাখ্যা চেয়ে। এ ছাড়া ৪০ কর্মচারী কর্মস্থলে ইউনিফর্ম পরিধান না করায় তাদের শোকজ করা হয়েছে। চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ৯ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগে মোটর ট্রান্সপোর্ট শাখার ১০ কর্মচারীর নামে পাঠানো হয়েছে তলবি নোটিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা। এ বন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে প্রতিদিন বিমানের ২৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এসব ফ্লাইটের নিরাপত্তা, যাত্রীদের নিরাপত্তা, লাগেজ/ব্যাগেজ রক্ষণাবেক্ষণসহ পুরো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার সঙ্গেও সম্পৃক্ততা রয়েছে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। কিন্তু শিডিউল বা রোস্টার অনুযায়ী তাদের অনেকেরই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে লাগেজ/ব্যাগেজ আপলোড-আনলোডে বিলম্ব হয়, এমনকি ফ্লাইটে শিডিউল বিপর্যয় পর্যন্ত ঘটে। এ কারণে যাত্রী হয়রানির দুর্নামের পাশাপাশি জরিমানাও গুনতে হয় বাংলাদেশের পতাকাবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির। অন্যদিকে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালে যখন-তখন বন্দরের বাইরে যাওয়া-আসা করায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ইস্যুতেও উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে। আবার বিমানের ইউনিফর্ম পরিধান করে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মী কর্মস্থলের বাইরে কোনো অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে এর দায়ও বিমানের ঘাড়ে বর্তাবে।

বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার এ প্রতিবেদককে বলেন, বিলম্বে যোগদান এবং দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ পাওয়া গেছে যাদের বিরুদ্ধে, তাদের প্রত্যেককে কারণ দর্শানো হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যথাসময়ে কর্মস্থলে যোগদান ও কর্মস্থল ত্যাগসহ শৃঙ্খলা মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।

বিমানের এক কর্মকর্তা জানান, শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানকর্মীদের অনুপস্থিতির এহেন উদ্বেগজনক দৃশ্যের তথ্যে সংশ্লিষ্ট সবাই বিস্মিত। শিগগিরই চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আরও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে এমন ঝটিকা অভিযান চালানো হবে।

আর/০৮:১৪/০৪ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে