Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৩-২০১৯

‘চাইলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, হইলাম জঙ্গি’

‘চাইলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, হইলাম জঙ্গি’

কুষ্টিয়া, ০৩ জুলাই- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনুষদীয় সভায় জঙ্গি, সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দিয়েছেন ওই অনুষদের শিক্ষকরা।

এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভূক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘জঙ্গি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়ার বক্তব্য অনতিবিলম্বে অনুষদকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ওই বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দেয়া হয়।

এসময় মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘চাইলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, হইলাম জঙ্গি’, ‘আমি জঙ্গি?’, ‘চাইলাম ডিগ্রি, হইলাম সন্ত্রাস’, ‘ডিগ্রি নিয়ে প্রহসন কেন?’, ‘আর নয় কালক্ষেপণ এবার চাই বাস্তবায়ন।’, ‘দাবি মোদের একটাই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী চাই।’, ‘যে তদন্ত কমিটি আমাদের জঙ্গি বলে তাদের সিদ্ধান্ত মানি না।’ এমন বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক ফেস্টুন প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সারা বিশ্ব যেখনে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সেখানে আমাদেরকে সন্ত্রাস এবং জঙ্গি বলে বিতর্কিত করা হচ্ছে। ভিসি স্যার নিজেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে জঙ্গিমুক্ত ঘোষণা করেছেন। এ অবস্থায় অনুষদের এ মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বিতর্কিত করে তুলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, ‘চেয়েছিলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, হয়ে গেলাম জঙ্গি। আমরা যদি জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হই এখানে দাঁড়িয়ে আছি গুলি করুন। আর আমরা যদি জঙ্গি হই তাহলে যে সব শিক্ষকরা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির আশ্বাস দিয়েছেন তারা জঙ্গির মদদদাতা। অচিরেই এই শব্দদয় অনুষদীয় মিটিংয়ে লিখিতভাবে বাতিল করতে হবে।’

মানববন্ধনের এক পর্যায়ে প্রতিনিধি দল বেলা দুপুর ১২টার দিকে ভিসির প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় তিনি বলেন, একাডেমিক কমিটির সভায় শিক্ষকদের সামনেই এটি বাতিল করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা অনুষদীয় সভায় এটি লিখিতভাবে বাতিলের দাবি করেন। পরে ভিসির আশ্বাসে তারা মানববন্ধন প্রত্যাহার করেন।

এ বিষয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৯ এপ্রিলে অনুষদীয় সদস্যরা তাদের আন্দোলন ও কার্যক্রমকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন। পরে গত ২৫ জুন একাডেমিক কাউন্সিলে এই শব্দ দুইটি এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। ২৩ এপ্রিল একই দাবিতে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে আমরণ অনশনে নামে। ওই রাতে অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলাম ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণকে অনুষদের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন। ভোর ৪টার দিকে আন্দোলনরত ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।

সকালে আন্দোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি ভঙ্গ করে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে আটকের ১৩ ঘণ্টা পর মুক্তি দেয় তাদের। এ ঘটনায় দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। ২৯ এপ্রিল অনুষদীয় জরুরি সভায় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার পরিবর্তে তাদের বিচার চাওয়া হয়।

এ সময় সভার রেজুলেশন খাতায় শিক্ষার্থীদের আচারণকে ‘জঙ্গি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে অবহিত করা হয়। দুই মাস পর লিখিত কপি হাতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শিক্ষার্থীরা।

সূত্র: যুগান্তর
এমএ/ ১০:০০/ ০৩ জুলাই

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে