Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ , ২ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০২-২০১৯

পার্লামেন্ট ভবনে বিক্ষোভকারীদের ভাংচুরের নিন্দা লামের

পার্লামেন্ট ভবনে বিক্ষোভকারীদের ভাংচুরের নিন্দা লামের

হংকং, ০২ জুলাই- আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভবনে বিক্ষোভকারীদের ভাংচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হংকংয়ের শীর্ষ নির্বাহী ক্যারি লাম।

সোমবার রাতের ওই ঘটনাকে ‘সহিংসতার চরম ব্যবহার’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশদের কাছ থেকে চীনের হাতে হংকংয়ের হস্তান্তরের ২২ বছর পূর্তির দিনে শহরটির একদল বিক্ষোভকারী অঞ্চলটির আইন পরিষদ কয়েক ঘণ্টা দখলে রেখে সেখানে ভাংচুর চালায় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ থেকে দলছূট হওয়া একদল বিক্ষোভকারী আইন পরিষদে হানা দিয়েছিল।

বিতর্কিত একটি বহিঃসমর্পণ বিল নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হংকংয়ে অস্থিরতা চলছে। তীব্র বিক্ষোভের মুখে গত মাসে সরকার ওই বিল পাসের পরিকল্পনা স্থগিত করার পর বিলটি আর উত্থাপন করা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা সরকারের এ পদক্ষেপেও সন্তুষ্ট নয়; তারা বিলটি বাতিলের ঘোষণার পাশাপাশি শীর্ষ নির্বাহী ক্যারি লামের পদত্যাগেরও দাবি জানিয়ে আসছে।

পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে আইনপরিষদ দখলমুক্ত করার পর মঙ্গলবার ভোররাতে এক সংবাদ সম্মেলনে লাম বিক্ষোভকারীদের সহিংস আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।

পুলিশ কমিশনার লো ওয়াই চুংকে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, “আইন পরিষদে ঢুকে পড়ার ঘটনাটি এমন একটি ঘটনা জোরালেভাবে যার নিন্দা করা উচিত আমাদের, কারণ হংকংয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই আর হতে পারে না।”

১৯৯৭ সালের ১ জুলাই যুক্তরাজ্য হংকংকে চীনের হাতে হস্তান্তর করে। প্রতি বছর এদিনে গণতন্ত্রপন্থিরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে। বিতর্কিত ওই বহিঃসমর্পণ বিল নিয়ে কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতায় এবার বর্ষপূর্তির দিনটি ঘিরে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বিলটি পাস হলে তা দিয়ে ভিন্নমতের রাজনীতিকদের আধা-স্বায়ত্তশাসিত হংকং থেকে চীনের মূল ভূখণ্ডে বিচারের জন্য পাঠিয়ে দেয়া সম্ভব হতো বলে আশঙ্কা সমালোচকদের।

অন্য বছরগুলোর মতো এদিনও শুরুতে গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। হস্তান্তরের বর্ষপূর্তিতে পতাকা উত্তোলনের এক অনুষ্ঠানকেন্দ্রের আশপাশের রাস্তা আটকে তারা প্রতিবাদ দেখায়। পতাকা উত্তোলনের ওই অনুষ্ঠানে ক্যারি লামও উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরের দিকে একদল বিক্ষোভকারী মূল কর্মসূচি থেকে সরে এসে আইনপরিষদের দিকে রওনা হয়। কাঁচের ফটক ভেঙে তারা যখন পার্লামেন্ট ভবনটি দখল করে নেয় তখনও কয়েকশ বিক্ষোভকারী খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে তা দেখছিল। 

সহিংস বিক্ষোভকারীরা এরপর আইন পরিষদের কেন্দ্রীয় অংশে হংকংয়ের প্রতীকটি নষ্ট করে দেয়, ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলের পতাকা উত্তোলন করে, দেয়ালজুড়ে স্প্রে দিয়ে বিভিন্ন বার্তা লেখে এবং ভেতরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

প্রায় মধ্যরাতে ভবনের সামনে প্লাস্টিকের হেলমেট পরা ও হাতে ছাতা ধরা বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশের লাঠি চার্জের মুখে পিছুঁ হটে। দাঙ্গা পুলিশ দ্রুতই বিক্ষোভকারীদের অস্থায়ী বাধাগুলো সরিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়।

একঘণ্টা পর ভবনটির আশপাশের সড়কগুলোতে সংবাদকর্মী ও পুলিশ ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায়নি।

মঙ্গলবার ভোরের আগে পুলিশ সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে লাম বিক্ষোভকারীদের ভাংচুরের ঘটনাকে ‘খুবই দুঃখজনক’ অ্যাখ্যা দিয়ে এ ঘটনা লোকজনকে স্তম্ভিত করেছে বলে মন্তব্য করেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি ঠিকঠাক মানা হয়নি এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আন্দোলনের মুখে বহিঃসমর্পণ বিল পাসের পরিকল্পনা স্থগিতের উদাহরণ দেন।

“আমরা যা শুনেছি, সে অনুযায়ী ওই পদক্ষেপ ছিল খুবই ইতিবাচক,” বলেছেন তিনি।

আন্দোলনকারীরা গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাইকে ‘ক্ষমা করে দিতে’ বললেও হংকংয়ের এ শীর্ষ নির্বাহী ওই দাবি মানতে আপত্তি জানান।

“আইনের শাসনের স্বার্থেই এটা করা যাবে না,” বলেন লাম। 

বিক্ষোভকারীদের সব ‘বেআইনী কার্যক্রমের’ বিরুদ্ধে হংকং কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

চীন আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে সোমবারের ঘটনাকে ‘গুন্ডামির চেয়ে কম নয়’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

“অন্ধ অহংকার ও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলার পূর্ণ অমর্যাদা করেছে,” ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে এমনটাই বলা হয়েছে।

সোমবারের সহিংসতার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়েছিলেন। ‘গণতন্ত্রের অভিপ্রায়ে’ বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন কর্মসূচি করছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

“দূর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু সরকার গণতন্ত্র চায় না,” বেইজিংকে ইঙ্গিত করে এমনটাই বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরমি হান্ট ‘হংকং ও এর স্বাধীনতার’ প্রতি তার দেশের সমর্থন অবিচল আছে জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ক্রোধ ও হতাশা হংকংয়ের জনগণকে উত্তেজিত করে তুলছে, বলেছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ।

সূত্র: বিডি নিউজ
এমএ/ ০৪:০০/ ০২ জুলাই

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে