Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ , ২ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০১-২০১৯

নুসরাত হত্যা মামলায় তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ


নুসরাত হত্যা মামলায় তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

ঢাকা, ১ জুলাই - ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যায় দায়ের মামলায় তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষগ্রহণ ও আসামিপক্ষের কৌঁসুলিদের জেরা শেষ হয়েছে।

সোমবার (১ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে নুসরাতের সহপাঠি নিশাত সুলতানার সাক্ষগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের ১৬ কৌঁসুলি তাকে জেরা করেন। পরে অপর সহপাঠি নাসরিন সুলতানা ফূর্তি সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে আদালত মঙ্গলবার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত রোববার হত্যা মামলার বাদী ও নসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামীপক্ষের কৌঁসুলিদের জেরা শেষ হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, আদালতে মামলার বাদী ও নুসরাতের দুই সহপাঠি সাক্ষ্য প্রদান করছেন। বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হলেও অপর দুই জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেলা চলছে।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে সরকারী কৌঁসুলী (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ বলেন, আদালতের নুসরাতের ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য প্রদান ও জেরা শেষ হয় রবিবার। সোমবার নুসরাতের সহপাঠি নিশাত সুলতানার সাক্ষগ্রহণ ও জেলা শেষ হলেও অপর সহপাঠির নাসরিন সুলতানা সাক্ষগ্রহণ শুরু হলে আদালত পরদিন মঙ্গলবার পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন। এই সময় আদালতের কাঠগড়ায় ১৬ আসামীর সবাই উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।

গত ২৯ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠাসংবলিত নথি ও চার্জশীট দাখিল করেন। এরপর গত ৩০ মে মামলার ধার্য তারিখে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত শুনানি না করে ওই মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানোর আদেশ দিয়ে ১০ জুন মামলার শুনানির দিন ধার্য করেন। পরে ১০ জুন আদালত চাজশিট আমলে নিয়ে ২০ জুন চার্জ গঠন করেন। ২৭ জুন বাদীসহ তিনজনের স্বাক্ষগ্রণের দিন ধার্য করেন আদালত। ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেলা শেষ করে আদালত। ১ জুলাই নুসরাতের দুই সহপাঠির সাক্ষগ্রহণ শুরু করেন। প্রথমে নিশাত সুলতানার সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে নাসরিন সুলতানার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। পরে আদালত পরদিন (মঙ্গলবার) পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম’র (২০) সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করে চার্জশিট প্রদান করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

সূত্র : পূর্বপশ্চিমবিডি

এন এইচ, ১ জুলাই.

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে