Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ , ১ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০১-২০১৯

বৃষ্টিতেই উঠে যাবে ২৫ কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং

বৃষ্টিতেই উঠে যাবে ২৫ কোটি টাকার সড়কের কার্পেটিং

রাজবাড়ী, ০১ জুলাই- এলজিইডির তত্ত্বাবধানে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় চলমান গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের নির্মাণকাজে বিভিন্ন স্থানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাণকাজের প্রথম পর্যায়ে সিডিউলে যে পরিমাণ বালু ও খোয়া দেয়ার কথা ছিল তা ব্যবহার করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উল্টো দায়সারাভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এমনকি বালুর পরিবর্তে ধুলাবালু দিয়ে খোয়া মিক্স করে সড়কের নির্মাণকাজ করা হয়েছে। এতে খোয়ার পরিমাণও কম। সেই সঙ্গে খোয়ার মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে সড়ক নির্মাণ করলে ছয় মাসও টিকবে না।

এছাড়া সড়কের কার্পেটিং করার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্পেটিং কাজ শুরুর একদিন আগে তেল মেরে পরের দিন কার্পেটিং করা হয়েছে। এতে বড় বড় পাথরের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে সমতল বা মসৃণ হয়নি কার্পেটিংয়ের কাজ।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চরনারায়ণপুর বাজার থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত এক হাজার ১৫০ মিটার সড়ক এবং সুলতানপুর ইউপির সুলতানপুর বাজার থেকে আখ সেন্টার পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং কাজে এমন চিত্র দেখা গেছে।


পাশাপাশি সুলতানপুর, খানগঞ্জ, আলীপুর, বানিবহ, রামকান্তপুর, মিজানপুর ও চন্দনী ইউপিসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে ৩০ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় এ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সদর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় (এমএসআরডিপি-আইআরআইডিপি)-২ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরে ১৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হলেও চলমান রয়েছে ৩০ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কাজ। যার প্রতিটি কাজের মেয়াদ শুরু থেকে এক বছর।


মিজানপুর ইউপির চরনারায়ণপুরের এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি কেটে ফেলে রাখা হয়েছিল। এরই মধ্যে বালু ও খোয়া ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সড়কের কাজ হচ্ছে না। বালুর সঙ্গে খোয়া মিশিয়ে সড়কে ফেলা হচ্ছে। তবে খোয়ার পরিমাণ একেবারেই কম। এভাবে সড়ক নির্মাণ করলে ছয় মাসও টিকবে না। একটু বৃষ্টিতেই কাদা ভেসে উঠে সড়কে। বালু ও নির্দিষ্ট পরিমাণ খোয়া ফেলে সড়ক নির্মাণ না করা হলেও সড়ক করার দরকার নেই। সংশ্লিষ্টদের উচিৎ কাজের গুণগত মান যাচাই করা। এভাবে সড়ক করলে টিকবে না।

সুলতানপুরের এলাকাবাসী জানান, সুলতানপুর বাজার থেকে যে সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে তার মান ভালো না। ভারী বৃষ্টি হলে সড়কের পিচ উঠে যাবে। সড়কটি ছয় মাসও টিকবে না।


সুলতানপুর বাজার থেকে আখ সেন্টার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজের ঠিকাদার হরিপদ রানা বলেন, আমার কাজ বাংলাদেশের সেরা কাজ। ছয় মাস নয়, ছয় বছরেও সড়কের ক্ষতি হবে না। সিডিউলের সব নিয়ম মেনে সড়ক নির্মাণের কাজ করছি আমি।

এলজিইডির সদর উপজেলার প্রকৌশলী স্বপন কুমার গুহ বলেন, সদর উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১৫ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া এই অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকার কাজ হবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।


তিনি আরও বলেন, লোকবল কম থাকলেও নিয়মিত সড়ক নির্মাণকাজের তদারকি এবং কাজের গুণগত মান যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ তদারকি করছে। যাচাই-বাছাইয়ে কোথাও কাজের মান খারাপ পাওয়া গেলে ঠিকাদারের বিল আটকে দেয়া হবে।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/০১ জুলাই

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে