Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.5/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৬-২০১৩

অষ্টে্রলিয়ায় এখনো 'গো ব্যাক টু হয়ার ইউ কাম ফ্রম' বিতর্ক 

আশরাফুল আলম



	অষ্টে্রলিয়ায় এখনো 'গো ব্যাক টু হয়ার ইউ কাম ফ্রম' বিতর্ক 
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মেলবোর্নের সেন্ট আলবানস লাইব্রেরীতে এক লেখক আড্ডায় নিজের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিলেন স্বনামখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান লেখিকা এলিস পাং। এলিস দ্বিতীয় প্রজন্মের এশিয়ান অভিবাসী, অভিবাসন নিয়েই মুলত লেখেন, এবং সেটা শুধু এশিয়ানদের নিয়ে নয়, সব অভিবাসীদেরকে নিয়েই। তার যখন বয়স দশ বছর, তার মানে আশির দশকের শুরুর দিকে, তখন তাদের পরিবার থাকত ব্রেব্রুক এলাকায়। ওখানে একদিন বিকেলে খেলার মাঠ থেকে ফেরার সময় হঠাতই একটি গাড়ী এসে তার পাশে থামে, জানালা দিয়ে একটা বয়স্কমতন লোক গলা বের করে চীতকার করে ওঠে - হেই ইউ, গো ব্যাক টু ইয়োর হোম। গো ব্যাক টু হয়ার ইউ কাম ফ্রম।   
 
আশির দশক একটা অস্থির সময় অস্ট্রেলিয়ার জন্য। দীর্ঘদিনের সাদা-অধ্যুষিত অস্ট্রেলিয়া তার আগ-পর্যন্ত কেবল অল্পকিছু অ-সাদা অভিবাসী দেখেছে। আশির দশকে বানের জলের মতন আসতে থাকে ভিয়েতনামিজ রিফিউজিরা, আসতে থাকে উপমহাদেশের নানান দেশের মানুষেরা। রাস্তাঘাটে, শপিংমলে, বাসে-ট্রামে তাদেরকে দেখা যেতে থাকল আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী হারে। ফলে অনেক অস্ট্রেলিয়ানের চোখে একটা কালার-শক হওয়াটা অসম্ভব নয়। সবাই তো আর উদার বিশ্বপ্রেমিক নয়; সব সমাজেই বহিরাগতদের ব্যাপারে শুরুতে বেশ খানিকটা সন্দেহ আর বিদ্বেষ থাকে, বিশেষ করে সেই বহিরাগতরা যদি দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে খুব আলাদা হয়। ভেতরে ভেতরে সব মানুষই আসলে এক, কিন্তু এসব দার্শনিক তত্বকথার ধার বেশী লোক ধারেন না।     
 

গত তিন দশকে মারে-ডার্লিং নদীতে অনেক জল গড়িয়েছে। অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়েছে ক্রমবর্ধমানহারে। অস্ট্রেলিয়া এখন মাল্টিকালচারাল; বহুসংস্কৃতির মিলনমেলা। তবে এখনো এলিসের মতন অভিজ্ঞতা একেবারে বিরল নয়। এই সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তেমনি এক ঘটনা হৈচৈ ফেলে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াতে। ফাওয়াদ আহমেদ, এলিসের প্রায় সমবয়সী, জন্মেছিলেন উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে। ইসলামিক উগ্রপন্থী তালিবানদের ভয়ে রিফিউজি হিসেবে দেশ ছেড়েছেন ২০১০ সালে, অস্ট্রেলিয়ায় এসে তার ক্রিকেটীয় দক্ষতার গুণেই এবছর এখানকার নাগরিকত্ব পেয়েছেন বেশ তড়িঘড়ি করে, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম সময়ে। খেলেছেন স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেটে, বিগ-ব্যাশ টি-টুয়েন্টি লীগে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে ডাকও পেয়েছেন সম্প্রতি। উসমান খাজার পরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা মাত্র দ্বিতীয় মুসলিম, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এখন খেলছেন ইংল্যান্ডে। অস্ট্রেলিয়ান দলের প্রধান স্পন্সর কার্লটন ইউনাইটেড বিয়ার কোম্পানীর লোগোওয়ালা শার্ট পড়তে অসম্মতিজ্ঞাপন করায় ফেসবুকে টুইটারে সম্প্রতি অনেকেই তাকে বীরদর্পে 'গো ব্যাক টু হয়ার ইউ কাম ফ্রম' শুনিয়ে দিয়েছেন।  
  
এলিস অবশ্য সেই সময় বুঝতে পারেন নি যে, তার 'হোম' আবার কোথায়। তাকে কোথায় ফিরে যেতে বলছিল ওই পথচারী। যেহেতু অস্ট্রেলিয়াতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা, সেই কারনেই তার মনে হয়েছিল যে, তার অধিকার এখানে আর কারো চেয়ে কম নয়। কাজেই বিষয়টা তার স্মরণে আছে বটে, তবে গায়ে ততখানি লাগেনি। ফাওয়াদ আহমেদের ব্যাপারটা একটু আলাদা - জীবনের একটা বড় অংশ পাকিস্তানে কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন রিফিউজি হিসেবে। কাজেই, আইনগতভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও, 'গো ব্যাক টু হয়ার ইউ কাম ফ্রম' তার গায়ে যে লাগে নি সে কথা বলার উপায় নেই। শুধু সাধারন মানুষেরা নয়, ফাওয়াদ আহমেদকে নিয়ে এ ধরনের কথা বলেছেন বেশ নামীদামী লোকেরা। পত্রিকায় ব্লগে টিভিতে খেলার মাঠে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে এই নিয়ে। এলিসের মতন এক বিকেলে নাম-না-জানা এক পথচারী শুধু নয়, ফাওয়াদের ইস্যুতে ক্রিকেট-রাগবির সাবেক কিংবদন্তীরা মাঠ গরম করছেন নানান রকমের বাণী দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ানরা সপ্তাহের পাঁচ দিন কাজ করে, বাকী দুই দিন বিয়ার খায় বলে একটা কথা আছে। অস্ট্রেলিয়ার এসে বিয়ার না খাও, অন্তত বিয়ারকে সন্মান করো - বিয়ারের সঙ্গে সহাবস্থান করো, এই হল তাদের মত।   
 
১৯৮০ সালে নয়, ঘটনাটা ঘটেছে ২০১৩ সালে। ব্যাপারটা ভাববার বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরই নিজেদের অথবা তাদের পিতামাতার জন্ম বিদেশে। প্রায় একশটি ভাষায় কথা বলে অস্ট্রেলিয়ার মানুষেরা - নানান বর্ণের, নানান ধর্মের। সরকার নীতিমালা দিয়ে এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে অভিবাসীদেরকে নিজেদের সংস্কৃতি ও ধর্ম পালন করতে সহায়তা করে। নানান চড়াই উতড়াই পেরিয়ে এখানকার মাল্টিকালচারিজম স্থিরতা পেয়েছে, আদল পেয়েছে। কাজেই, যে যাই বলুক, ফাওয়াদ আহমেদের 'হোম' আসলে অস্ট্রেলিয়াই। আর অস্ট্রেলিয়া বলেই এখানে শুধু ক্রিকেটীয় মেধাতেই ক্রিকেট দলে জায়গা পাওয়া যায়, তা আপনি সমাজের মেজরিটি বা মাইনরিটি যে অংশের লোকই হোন না কেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সব জায়গাতেই কিছু লোক থাকবে, যারা উগ্র জাতীয়তাবাদী - এদের সঙ্গে ঢাকার লোকাল বাসের একধরনের যাত্রীদের মিল খুঁজে পাই আমি। ফার্মগেটে যে লোক বাসে তিলধারনের স্থান না থাকা সত্বেও ঠেলেঠুলে বাসে উঠেছেন, বাকী যাত্রীদের 'ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই' রব উপেক্ষা করে, সেই একই লোক পরের স্টপেজে উচ্চকন্ঠে 'ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই' জঁপতে থাকেন, যাতে বাসে আর কেউ না ওঠে। 
  

সিডনীর টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ফাওয়াদের বিয়ার কোম্পানীর লোগোসম্বলিত শার্ট না পরার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা রিপোর্ট হয়েছিল, যেখানে সাবেক টেস্ট খেলোয়াড় ডাউ ওয়াল্টার্স বলেন, 'আমার ধারণা ফাওয়াদ যদি দলের পোষাক না পড়তে চায়, তাহলে তাকে দলে নেওয়া উচিত না। অবশ্য সে যদি পারিশ্রমিক নিতে না চায়, সেটা অন্য কথা।' এই ওয়াল্টার্স ১৯৭০ সালে এশেজের উদ্দেশে ইংল্যান্ডে যাওয়ার সময় বিমানে মাত্র কয়েক ঘন্টায় ৪৪ ক্যান বিয়ার গিলেছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে! এর পরে মুখ খোলেন সাবেক রাগবি খেলোয়ার ডেভিড ক্যাম্পসি - যিনি টুইটারে ডাউ ওয়াল্টার্সকে সমর্থন করে বলেন, 'ওকে বাড়ি ফিরে যেতে বলো'। টাকা পয়সার কথাটা উঠেছে এই কারনে যে, ক্রিকেটারেরা যে মোটা অংকের বেতন পায়, সেটা স্পন্সরদের টাকা থেকেই আসে, আর আজকালকার দিনে বিয়ার ও সিগারেট বিক্রেতারা পয়সার বস্তা নিয়ে খেলাধুলায় ঢালে, সে তো আমরা দেখছি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি একজন ক্রিকেটারকে স্পন্সরের লোগো ছাড়াই খেলার অনুমতি দেয়, তাহলে স্পন্সরেরা পয়সা কম দিতে পারে, কেননা মাঠে ও টেলিভিশনের পর্দায় তাদের 'জীবন্ত বিলবোর্ড' এর এগারো ভাগের এক ভাগ তখন ফাঁকা। কেউ কেউ বলছেন বিয়ার হল অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতির একটা অপরিহার্য উপাদান।   
  
এইসব ঘটনার পরে আমার আশেপাশের অনেকেই বলা শুরু করেছেন যে, অস্ট্রেলিয়ানরা কত বর্ণবাদী। সন্দেহ নেই, অস্ট্রেলিয়ানরা হয়তো কিছুটা বর্ণবাদী - আসলে আমরা সবাই একটু আধটু বর্ণবাদী, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে। তবে অস্ট্রেলিয়ানরা ভাগ্যবান যে, এদের কান্ডারীরা ঠিক ততটা বর্ণবাদী নয়। শতভাগ সাদাদের দেশে একজন সাদা সরকারপ্রধান নিজের গরজে 'সাদা অস্ট্রেলিয়া নীতি' বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একজন সাদা সরকারপ্রধান এদেশের আদিবাসীদের প্রতি কৃত অন্যায় অবিচারের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, আর্থিক ক্ষতিপূরণের পথও খুলে দিয়েছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের স্পন্সরকে বলে দিয়েছে যে, তোমরা পয়সা দাও আর না দাও, ফাওয়াদকে আমরা সমর্থন করি। কার্লটন ইউনাইটেডও ফাওয়াদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। মনে করিয়ে দিই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদবীরের কারণেই ফাওয়াদ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পরে বেশ তড়িঘড়ি করে মাত্র আট মাসের মাথায় গত জুলাইতে নাগরিকত্ব পান। অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াতে ফাওয়াদকে নিয়ে এই শোরগোলের একটা কড়া জবাব দিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান জেমস সাদারল্যান্ড এভাবেঃ  
 
"এই সমস্ত মন্তব্য আসলে অবান্তর, এবং অস্ট্রেলিয়ান সমাজের একটা খারাপ চিত্র এতে ফুটে ওঠে। ফাওয়াদ একজন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার, এবং এই দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার আর সবার মতই তারও আছে। গত জুলাইতে সে নাগরিকত্ব পেয়েছে, এখন তার একটি অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট আছে, এবং সে অস্ট্রেলিয়াকে তার নিজের দেশ হিসেবে আপন করে নিয়েছে সঙ্গত কারণে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত সবাই তাকে স্বাগত জানিয়েছে, এবং আমরা তাকে পেয়ে গর্বিত। কারো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, প্রতিটি অস্ট্রেলিয়ানেরই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ক্রিকেট খেলার অধিকার আছে, এবং যারা এই খেলায় ভাল তাদেরকে আমরা আমাদের দলে চাই।"  
 
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে যে, ক্রিকেটের মাঠে জিততে হলে স্পন্সরের টাকার বস্তা নয়, দলের দক্ষতা আর সংহতি দরকার। ক্রমবর্ধমানহারে মাল্টিকালচারাল হতে থাকা অস্ট্রেলিয়া যদি তাদের হাতে থাকা সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার না করে, অস্ট্রেলিয়ান দল দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকবে। এক দশক আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক কনফারেন্সে একজন বক্তা বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া যদি তাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং বহুজাতিক সমাজকে ক্রিকেটে আগ্রহী না করতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়াতে ক্রিকেটের ভবিষ্যত খুব ভালো নয়। তাদের টনক তখনই নড়েছিল। পাকিস্তানী বংশোদ্ভুত উসমান খাজা এখানকার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের একজন নামী খেলোয়াড়। আজকাল শ্রীলংকার অনেক অভিবাসী স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেটে খেলেন - তারাও নিশ্চয়ই একসময় প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। এভাবেই অভিবাসীরা অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনেই অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবেন সমাজের সকল ক্ষেত্রে। যা হোক, ডেভিড ক্যাম্পসি চাপের মুখে পরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। এই এক সপ্তাহের যে ডামাডোল, তাতে করে এই ক্ষমাপ্রার্থনাটা একটা হাস্যকর ব্যাপার দাঁড়িয়ে গেছে - এর আগেও আমরা দেখেছি হাশিম আমলাকে নিয়ে ডীন জোনসের আপত্তিকর মন্তব্য, অল্পক্ষণ পরেই ক্ষমা প্রার্থনা। তবে তাতে করে কাজ যা হবার সেটা হয়ে গেছে - অস্ট্রেলিয়ার জনগণ বুঝতে পেরেছে যে অস্ট্রেলিয়া বদলাচ্ছে। একে পেছনের দিকে ফেরানোর পথ নেই। সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী টনি এবট নৌকা বন্ধ করতে পারবেন কিনা জানিনা, তবে অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক পরিবর্তন, যেটা সূচিত হয়েছিল সত্তরের দশকে সাদা অস্ট্রেলিয়া নীতি তুলে নেওয়ার সময়ে, সেটা এক উল্টানো-অসম্ভব প্রক্রিয়া। এলিসেরা আজ আর ওয়ান্ডারল্যান্ডে নেই, তারা তাদের 'হোমে'ই আছে। অস্ট্রেলিয়াই এলিসদের কিম্বা ফাওয়াদদের 'হোম'। ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দলে সাউথ আফ্রিকায় বা পাকিস্তানে-ভারতে জন্ম নেওয়া অনেক ক্রিকেটার আছেন। কই, তাদেরকে তো কেউ 'গো ব্যাক টু হয়ার ইউ কাম ফ্রম' বলে না? এর একটা কারণ সম্ভবত এই যে, ব্রিটেন অনেক আগে থেকে মাল্টিকালচারাল। আমেরিকায় কেউ কাউকে আর 'গো ব্যাক টু হয়ার ইউ কাম ফ্রম' বলে না, সেও একই কারণে। অস্ট্রেলিয়ার মাল্টিকালচারাল অভিজ্ঞতা এখনো এক প্রজন্ম পেরোয়নি এখনো। গ্রোয়িং পেইন তো কিছু থাকবেই। 
 
মঞ্চে রাজাকারের ভূমিকায় অভিনয় করা এক অভিনেতা একবার বলেছিলেন, একেকটা মঞ্চায়নের পরে তার কাছে অনেক অচেনা মানুষ এসে অভিনয়ের প্রশংসা করে, এবং পাকিস্তান ভেঙ্গে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে, ভাবখানা এমন, যেন ওই অভিনেতা বাস্তবেও একজন রাজাকার। তাকে যেহেতু মঞ্চে রাজাকারের ভূমিকায় দেখা গেছে, সেকারনেই সম্ভবত কিছু রাজাকারপন্থী মানুষ তাকে কাছের মানুষ বলে মনে করেন এবং মনের গোপন কথা খুলে বলতে দ্বিধা করেন না। আজকের অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিতে, বিশেষ করে নির্বাচনী মৌসুমে, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপারে কে কত বেশী খড়গহস্ত হতে পারেন সেটা যখন ভোট পাওয়ার একটা মোক্ষম অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন যে কিছু সাধারন মানুষ (এবং কিছু অসাধারন মানুষ, যেমন সাবেক ক্রিকেটার ও রাগবি খেলোয়াড়) যে অভিবাসীদের ব্যাপারে চুন থেকে পান খসলেই তাদের নিজেদের মনের গোপন কথাগুলো জনসমক্ষে বলার সাহস করবেন, সেটাও স্বাভাবিক। তবে যা হয়েছে, খুব খারাপ হয়নি। অস্ট্রেলিয়ান বলতে কি বুঝায়, অস্ট্রেলিয়ান হতে হলে বা অস্ট্রেলিয়াকে রিপ্রেজেন্ট করতে হলে কি করতে হবে বা কি হতে হবে, তার কোন চুড়ান্ত ফয়সালা হয়তো হয় নি এই ঘটনার ফলে, তবে ক্রিকেটার ফাওয়াদ আহমেদের 'অস্ট্রেলিয়ান' হওয়ায় কেউ বাধ সাধতে পারেনি। না মিডিয়া, না বিয়ার কোম্পানীর লোগো। অস্ট্রেলিয়া বদলাচ্ছে বেশ দ্রুত, এবং সম্ভবত এই বদলানোর প্রক্রিয়া আর বেশিদিন এখানকার মূলধারার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে অবাক করবে না।   
 
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে