Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৩-২০১৯

সাহিত্যেই জীবন-জীবিকা মেলাতে পেরেছি: জন্মদিনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

সাহিত্যেই জীবন-জীবিকা মেলাতে পেরেছি: জন্মদিনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঢাকা, ২৪ জুন - 'আমার জীবন ও জীবিকার মধ্যে কোনো ফারাক দেখতে পাইনি। কারণ, আমার শিক্ষকতা সাহিত্যের, লেখাও সাহিত্য। এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাই আমার জীবন ও জীবিকা মেলাতে পেরেছি।' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ৮৪তম জন্মদিন উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে 'আত্মজীবনীমূলক বক্তৃতা'য় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সমাজ রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানাতে আসে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী সংঘ, সাওল হার্ট ভৌত, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্র ইউনিয়ন।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ছোট বয়সে কোলরিজের একটি উক্তি পড়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, 'মানুষের মধ্যে ট্যালেন্ট এবং জিনিয়াস দুটোই থাকে। একই মানুষের মধ্যে দুটোই থাকে। জিনিয়াস হলো বড় আর ট্যালেন্ট হলো ছোট। আমি জিনিয়াসকে দিয়েছি আমার জীবনকে আর ট্যালেন্ট দিয়েছি আমার জীবিকাকে।' আমার জিনিয়াস থাকার প্রশ্নই নেই, কিন্তু ট্যালেন্ট যদি থেকে থাকে তা আমার জীবন ও জীবিকা দুটোকেই দিয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাকে যখন ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার প্রস্তাব করা হয় তখন তা তিন কারণে ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ, আমি এরশাদের আমলে ভিসি হতে পারি না। আমার ছাত্র জিয়াউদ্দীন বাবলু তখন ডাকসুর সেক্রেটারি ছিল, সে আমার জন্য সুপারিশ করার কথা বলে। আমি তাকে বলি তুমি যদি আমার ছাত্র হয়ে থাকো তাহলে এ কাজ করো না। ডিজিএফআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসাররা বলেন আমার নাম সবার ওপরে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আমি যখন ডিন ছিলাম তখন উপলব্ধি হয়েছে প্রশাসন চালানো আমার কাজ নয়। কারণ নানা ধরনের প্রমোশন, নিয়োগের সুপারিশ নিয়ে সবাই আসত। যার কারণে আমি বাসায় থাকতাম। কিন্তু তখন বিচ্ছিন্ন মনে হতো। ভিসি হলে আমি এই বিচ্ছিন্নতা মেনে নিতে পারব না। তৃতীয়ত, আমার ছাত্রীরা হলে গাদাগাদি করে থাকবে, ছাত্ররা গেস্টরুমে নির্যাতনের শিকার হবে আর আমি ভিসির মতো বড় দায়িত্বে থাকব- সেটা মেনে নিতে পারব না। আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, আমি লেকচারার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে বিয়ে করেছি। পরে আমার বন্ধু ছিল সামরিক বাহিনীতে, তাদের দিয়ে দায়িত্ব না নেওয়ার কথা জানিয়ে দেই।

মার্কসবাদী এই লেখক মনে করেন, সম্পদের ব্যক্তিমালিকানাই সমাজের দুরবস্থার জন্য দায়ী। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মার্কসবাদী সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, সমাজতন্ত্র তো বর্তমানের জন্য নয়, সমাজতন্ত্র ভবিষ্যতের জন্য। বর্তমানে পুঁজিবাদের ক্রান্তিকাল যাচ্ছে। কারণ বিশ্বজুড়ে মানুষ নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তাই পুঁজিবাদের ধ্বংস থেকেই সমাজতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ঘটবে। এ জন্য বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যাবে না।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের আলোচনা হবে দ্বন্দ্বমূলক। আমরা এমনটা ভাবব না যে, যা ভাবি তা-ই শতভাগ সঠিক। বরং যা ভাবি তার ৬০ ভাগ সত্য এবং ৪০ ভাগ সত্য নয়। এটার মধ্যে যা ভালো তা গ্রহণ করতে হবে। সমালোচনা থাকবেই; কিন্তু তা হবে সৃষ্টিশীল।

সময়ের ব্যবধানে সমাজের অনেক ধারণাই পরিবর্তন হয়েছে। তাই সময়কে নিজের জীবনে বেঁধে রাখতে জীবনী লেখার তাড়নাও বোধ করেন দেশসেরা এই বুদ্ধিজীবী।

সুত্র : সমকাল
এন এ/ ২৪ জুন

সাহিত্য সংবাদ

আরও সাহিত্য সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে