Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ , ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৬-২১-২০১৯

নিজে ভিক্ষা করেছেন, শিক্ষিত হয়ে বস্তির শিশুদের পড়াচ্ছেন এই নারী

নিজে ভিক্ষা করেছেন, শিক্ষিত হয়ে বস্তির শিশুদের পড়াচ্ছেন এই নারী

ছোটবেলায় পথে পথে হাত পেতে খাবার জোটাতেন। অচেনা মানুষজন যখন তখন উত্যক্ত করেছে, যৌন হয়রানিও করেছে অনেকেই। বছর বিশেক আগে দিল্লির একটি বস্তিতে স্থানীয় মন্দিদের পাশে বসে ভিক্ষা করতে দেখা যেত তাকে। কিন্তু যৌবনে এসে নিতু সিং ঠিক করেন, নিজের মতো দুর্ভাগ্যের শিকার হতে দেবেন না অন্তত তার অঞ্চলের পথশিশুদের।

আশেপাশের বস্তিতে যে শিশুরা নিতুর মতোই বড় হচ্ছিল, একই রকম নিয়তি তাড়া করছিল তাদেরও। কিন্তু নিতু সিং বুঝতে পেরেছিলেন একমাত্র শিক্ষাই পারে তাদের জীবনে সামান্যতম আশার আলো জাগাতে। ৩০ জন ছাত্র নিয়ে সে কারণে তিনি পথের পাশে গাছের ছায়ায় গড়ে তোলেন এক অস্থায়ী স্কুল। 

গনগনে সূর্যের তাপ উপেক্ষা করে তারা পড়ে যায় নামতা। স্লেটে দাগ টানে। স্কুলে আনন্দ করেই পড়াশোনা করে বাচ্চারা। অনেক পরে জুটেছে একটা ত্রিপলের ছাউনি ।

কিন্তু এ ধরনের শুভ প্রচেষ্টায় বাধা তো বাঁধাধরা। নিতু সিংকেও পড়তে হচ্ছে এই বাধার মুখে। গুণ্ডাদের শাসানি, পুলিশের চোখরাঙানি সহ্য করতে করতে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন নিতু। 

কিন্তু পিছু হটেন না, ছাড়েন না আশা। ছোট থেকেই নিতু বুঝে গিয়েছিলেন তার জীবনের অন্ধকারময় দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথে জ্ঞানই হতে পারে একমাত্র আলোর দিশা। দিল্লির বস্তিতে বড় হতে হতে কত যে কঠিন ছিল এই লড়াই! সংসারে টাকা জুগিয়েও পড়াশোনাটা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া ছিল এক চ্যালেঞ্জ। 

পড়াশোনায় যে খুব উজ্জ্বল ছিলেন নিতু এমনও নয়। কিন্তু তা স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কখনোই। সরকারি স্কুলে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তিনি হরিয়ানা থেকে স্নাতকস্তরের পাঠ শেষ করেন। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন নিরন্তর সাহায্য, অনুপ্রেরণা। তাদের কারণেই তিনি পড়াশোনা শেষ করতে পেরেছেন। সরকারি স্কুলে পড়াশোনা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হলেও মা-বাবা পাঠাতে চাইতেন না স্কুলে। প্রাথমিক থেকে উচ্চবিদ্যালয়ে এবং অবশেষে কলেজ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে অবশেষে অর্জন করেছেন স্নাতক ডিগ্রি। এরপর তিনি বি. এড.ও করেন।

প্রথম চাকরি পান দিল্লির দৃষ্টিহীনদের স্কুলে, যোগ দেন অতিথি শিক্ষক হিসেবে। প্রাণ দিয়ে পড়ান তার ছেলে-মেয়েদের। চাকরি করে, রোজগার করে তিনি চেয়েছিলেন বস্তির দুর্দশা থেকে তার পরিবারকে মুক্ত করতে। পড়ানোতেই ছিল তার উৎসাহ। জীবিকা হিসেবে শিক্ষকতাকেই সারা জীবনের জন্য ভেবে এসেছিলেন আগাগোড়া। উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াবার স্বপ্নও সত্য হলো। কিন্তু অল্প কিছুদিনের জন্য। 

তারপরই তিনি জীবিকাহীন হয়ে গভীর অবসাদে ভুগতে থাকেন। কিন্তু তারপর, রাস্তার বাচ্চাদের তারই মতো ভিক্ষা করতে দেখে তার মনে হয় কিছু যদি করা যায়। মনে পড়ে যায় তার শিক্ষকদের অবদান। ভালো প্রতিষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে পড়ানোর চেয়ে বস্তির এই ছেলেপুলেদের শিক্ষা দিয়ে যদি দারিদ্র্যমুক্ত করা যায়, সে তো অনেক বেশি মহৎ কাজ হবে! 

এই স্বপ্নেই বিভোর হলেন নিতু। কিন্তু প্রথম থেকে সহজ ছিল না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বাবা অভিভাবকদের রাজি করানো ছিল বেশ কঠিন। রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করলে দু’টো পয়সা ঘরে আসবে। কিন্তু পড়তে গেলে তো আর তা হবে না। মা-বাবারাই ঠেলে কাজে পাঠিয়ে দেন বা ভিক্ষা করতে বসান। 

নিতু চেয়েছিলেন এই মানসিকতার বদল হোক। বাবা মায়েদের রাজি করিয়ে খোলেন স্কুল, ‘সব কি পাঠশালা’। একে একে ছেলেমেয়েরা আসতে শুরু করে, সঙ্গে আসতে শুরু করে স্থানীয় গুণ্ডাদের হুমকি! স্কুল চালালে খুন হয়ে যেতে পারেন অথবা হতে পারেন ধর্ষিতা, এমন সব ভয়াবহ হুমকিকে, পুলিশের অসহযোগিতার পরেও নিতু চালিয়ে যাচ্ছেন তার পাঠশালা। ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তার স্বপ্ন। তাদের জীবনকে আলোয় ভরিয়ে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ তিনি।

সূত্র: কালের কণ্ঠ
এইচ/২১:১৫/২১ জুন

বিচিত্রতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে