Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১৭-২০১৯

জামিন নামঞ্জুর, ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

জামিন নামঞ্জুর, ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ঢাকা, ১৭ জুন - ফেনীর নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় গ্রেফতার সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেননি আদালত। সেইসঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস শামস জগলুল হোসেনের আদালতে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন আইনজীবী মাসুমা আক্তার। এর আগে সোমবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটে মোয়াজ্জেম হোসেনকে আদালতে তোলা হয়।

শুনানিতে মামলার বাদী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতকে বলেন, 'মোয়াজ্জেম হোসেন একজন আইনের লোক হয়ে আইন অমান্য করেছেন। তার বিরুদ্ধে গত ২৭ মে গ্রেফতারি পরোয়ান জারি করা হয়। অথচ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে তিনি পলাতক। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিনের মাথায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি পলাতক থেকে সমস্ত পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে কলঙ্কিত করেছেন। আমরা তার জামিনের বিরোধিতা করছি।'

রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, 'মামলাটির ওয়ারেন্ট তামিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। সে মোতাবেক ফেনী সোনাগাজী থানা পুলিশ আসামি গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেছে। আসামিপক্ষে জামিন শুনানিতে বলেছে এ ভিডিও আসামির ফেসবুক থেকে প্রকাশ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে ওসি মোয়াজ্জেম ভিডিওটি নিজের মোবাইলে ধারন করে তা শেয়ার ইট অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ করেছেন। যার ফলে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। তাই আমরা জামিনের বিরোধিতা করেছি।'

এ সময় আসামির পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, 'আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে- তিনি ভিডিও প্রচার করেছেন। তিনি প্রচার বা প্রকাশ করেন নাই- মূলত একটি মামলার এজাহার হলে পরবর্তী বাদী বিভিন্ন চাপের কারণে মামলা উঠিয়ে নেয়। মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে মোয়াজ্জেম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তবে তিনি প্রচার করেন নাই। আর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে যে; তিনি পলাতক ছিলেন। আসলে তিনি পলাতক ছিলেন না। তিনি আদালতে আসা নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিলেন। আদালতে আসার কোনো পরিবেশ ছিল না। তাছাড়া তিনি হাইকোর্টে জামিন নিতে গিয়েছিলেন। ওখানে (জামিন আবেদনে) হাইকোর্টের একটা টেন্ডার নম্বরও আছে। তাকে ওইখান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই তিনি হাইকোর্টে জামিন নিতে গিয়েছিলেন। আসামি আদালতে হাজির আছেন। আমরা তার জামিনের প্রার্থনা করছি।'

এসময় বিচারক বলেন, 'উনি একজন ওসি। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তা কেমন করে সম্ভব!'

এরপর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে তোলার আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে হাজতখানায় রাখা হয়। রোববার শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার মোয়াজ্জেমকে সোমবার সকালে ফেনীর সোনাগাজী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় নুসরাতের। ৬ এপ্রিলের দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সেসময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা জারির দু'দিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন বলে জানান তার আইনজীবীরা।

সুত্র : জাগো নিউজ
এন এ/ ১৭ জুন

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে