Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ , ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১৬-২০১৯

ভ্রমণ কর বিড়ম্বনা: ৫০০ টাকার জন্যেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সীমান্তে

ফখরে আলম


ভ্রমণ কর বিড়ম্বনা: ৫০০ টাকার জন্যেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সীমান্তে

যশোর, ১৭ জুন - ভ্রমণ কর নিয়ে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকরা ভ্রমণ কর দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। কারণ ভারতের চেকপোস্টে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ কর দিতে না হলেও বাংলাদেশের চেকপোস্টে ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বচসা, কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটছে। ভ্রমণ কর প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য গত এপ্রিল মাসে সিলেট চেম্বার অব কমার্স নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। গত মে মাসে ইন্দো-বাংলা চেম্বারের পক্ষ থেকেও অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

চেকপোস্টের দায়িত্বরত রাজস্ব কর্মকর্তারা ভ্রমণ কর নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার কথা স্বীকার করে বলছেন, ‘আমাদের করার কিছুই নেই। সরকারের আইন বাংলাদেশ থেকে যেকোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে গমন করলেই ভ্রমণ কর দিতে হবে।’

বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা, হিলি, বাংলাবান্ধা, তামাবিলসহ ১৩টি সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাতায়াত করা যায়। বর্তমানে আত্মীয়তা, লেখাপড়া, ভ্রমণের জন্য বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে আসছে। রাজস্ব কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সাধারণত দেশ থেকে ফেরার সময় ভারতীয় নাগরিকদের কাছে তেমন টাকা-পয়সা থাকে না। এ জন্য ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর দিতে অনেকে অপারগতা প্রকাশ করে। তারা এও বলে, আমাদের দেশে ভ্রমণ কর নেই। তোমাদের দেশ থেকে নিজের দেশে ফিরতে কেন ভ্রমণ কর দেব?’ বাংলাদেশি অনেক দরিদ্র নাগরিকও চিকিৎসাসহ নানা কাজের জন্য ভারতে যায়। তারাও ভ্রমণ কর দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।

চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকার গৃহবধূ অঞ্জনা বর্মণ বলেন, ‘আমার বাবার বাড়ি যশোর শহরের চারখাম্বা মোড়ে। শুধু ৫০০ টাকা ভ্রমণ করের জন্য আমরা বাবার বাড়ি যেতে পারি না।’ কলকাতার শোভা বাজারের ব্যবসায়ী বিমল সাহা বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার অনেক আত্মীয় রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আসার সময় আমাদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর নেওয়া হয়। আমরা যদি বাংলাদেশিদের জন্য হাজার টাকা ভ্রমণ কর ধরি, তাহলে কি আত্মীয়তা, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি থাকে?’ যশোরের চাঁচড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খুবই গরিব মানুষ। ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর দিতে কষ্ট হয়। ২০ টাকা ভাড়ায় ট্রেনে কলকাতা পৌঁছাতে পারলেও ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর না থাকলে সীমান্ত পাড়ি দিতে পারি না। যারা বিমানযোগে বিদেশে যায়, তাদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর নেওয়া উচিত; আমাদের ছাড় দেওয়া উচিত।’

ইন্দো-বাংলা চেম্বারের ল্যান্ডপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ভ্রমণ কর তুলে নেওয়ার জন্য সিলেট চেম্বার দাবি জানিয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে লিখিত জানিয়েছি। ভ্রমণ কর তুলে নিলে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরো গভীর হবে।’ এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বেনাপোল চেকপোস্টের দায়িত্বরত রাজস্ব কর্মকর্তা ইমদাদুল হক বলেন, ‘ভ্রমণ কর নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। ভারতীয় নাগরিকরা ভ্রমণ কর দিতে আপত্তি জানায়। কিন্তু আমরা আইনমতো কাজ করি। আমাদের এ ব্যাপারে করার কিছুই থাকে না।’

সুত্র : কালের কন্ঠ
এন এ/ ১৭ জুন

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে