Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯ , ৫ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.6/5 (57 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০২-২০১১

বায়তুল আমান মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে ভূয়া ভোটার হয়েছিলেন যারা

।। দেশে বিদেশে রিপোর্ট।।


বায়তুল আমান মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে ভূয়া ভোটার হয়েছিলেন যারা
মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সব ধর্মের লোকেরা তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে স্রষ্টাকে ডাকে, ক্ষমা চায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে যারা পাপ কার্য করে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যারা রাজনীতি করে, ধর্মের পবিত্রতা যারা ক্ষুন্ন করে সমাজে তারা নিন্দনীয়। তারপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত টরন্টোর বায়তুল আমান মসজিদ পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য আমাদের পত্রিকা দফতরে পৌঁচেছে। উক্ত নির্বাচনে জয়লাভের আশায় যে ক?জন ভোটারকে লাইফমেম্বার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ১৮জনকে ভূয়া হিসেবে চিহ্নিত করে আদালত তাদের ভোট বাতিল করে দেয়।(বায়তুল আমান মসজিদের মামলা সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছে দ্য ল'ইয়ার্স উইকলি-র ২১ অক্টোবর ২০১১ সংখ্যায়) কেমন করে এরা মেম্বার হলো, কিভাবে ভোটার হলো, কে করলো, এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির কাছে জানতে চাইলে কমিটির কোষাধক্ষ্য জহির উদ্দিন জানান, `গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তি দশ হাজার ডলার নগদ দান করলে তাঁকে মসজিদ কমিটির লাইফ মেম্বার করা হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে সার্ভিস এবং জিনিষপত্র দানের মাধ্যমেও এ অর্থ পরিশোধ করা যায়। তবে ভোটার হতে গেলে সদস্য লাভের এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।' তিনি বলেন, `বিগত নির্বাচনে জয়নাল-ফজল গং কারচুপি করে জেতার আশায় এ নিন্দনীয় পথ বেছে নেন। যাদেরকে লাইফ মেম্বার করা হয়েছে, যেভাবে করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ প্রতারণা। এ বিষয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা কেউ কিছু জানেন না।' তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, `একজন ব্যক্তি দশ হাজার ডলার দেবেন, লাইফ মেম্বার হবেন আর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা কেউ কিছু জানবেন না তা কি করে হয়?' তিনি বলেন, `তালিকায় এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যাদের মসজিদ আঙ্গিনায় কখনও দেখা যায়নি অথচ তারা ঐদিন লজ্জার মাথা খেয়ে ভোট দিতে মসজিদে এসেছিলেন। তারা কি রকম মুসলমান চিন্তা করুন।'
কাদেরকে ভোটার করা হয়েছে, কিভাবে করা হয়েছে -
আব্বাস উদ্দিন- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৭ই সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৯ এবং ২০১০ সালের রমজান মাসে ৩,২০০ ডলারের ইফতারি দিয়েছেন। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৬, ৮০০ ডলারের।
আবু ফারুক- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৬ই সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১০ সালের রমজান মাসে ৫ হাজার ডলারের ইফতারি দিয়েছেন। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৫০০০ ডলারের।
আলী আহমেদ- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৯ এবং ২০১০ সালের রমজান মাসে ৩ হাজার ৩শত ডলারের ইফতারি দিয়েছেন। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৬,৭০০ ডলারের।
ফারুক ইসলাম- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১০ সালের রমজান মাসে ৪,২০০ ডলারের ইফতারি দিয়েছেন।  তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৫,৮০০ ডলারের।
কামাল উদ্দিন- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ১০১০। তিনি ২০০৯ এবং ২০১০ সালের রমজান মাসে ৩,৪৫০ ডলারের ইফতারি দিয়েছেন। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৬,৫৫০ ডলারের।
খাদিজা খানম- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ৩,০১৪ ডলারের ইফতারি দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি নগদ ২,৩৮৫.৬৮ ডলার দিয়েছেন। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৪,৬০০ ডলারের।
খন্দকার হক- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৯ এবং ২০১০ সালের রমজান মাসে ৩,৩৭৫ ডলারের ইফতারি দিয়েছেন। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৬,৬২৫ ডলারের।
মাহবুবুল আলম- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ৪ হাজার ৮শত ডলারের ইফতারি দিয়েছেন। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৪,২৪০ ডলারের।
মাহমুদা ভূঁইয়া- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ৩,৭৩০ ডলারের ইফতারি দিয়েছেন। তিনি নগদ দিয়েছেন ৩ হাজার ডলার আর তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৩১৭০ ডলারের।
মুনিরুল সিকদার- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ইফতারি দিয়েছেন ৩,১০০ ডলারের। তিনি মনট্রিয়লে তহবিল সংগ্রহের সার্ভিস চার্জ হিসেবে ২,০০০ ডলার এবং মনট্রিয়লের ইমামকে টরন্টো নিয়ে আসা বাবদ ১০০০ ডলার চার্জ করেছেন। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৩,৯০০ ডলারের।
নিয়াজ রহমান- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি মসজিদের অনুষ্ঠানে শেফ হিসেবে ৩,৮০০ ডলারের সার্ভিস দেন। তিনি নগদ দিয়েছেন ১,২০০ ডলার এবং তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৫,০০০ ডলারের।
মীনা রহমান- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিন নগদ দিয়েছেন ৫ হাজার ডলার এবং তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ডলারের।
মোহাম্মদ আমিন চৌধুরি- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর ২০১০। তাকে ১০ হাজার ডলারের ক্রেডিট দেয়া হয়েছে।
নূর উদ্দিন শাহাবুদ্দিন- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৮ ২০০৯ এবং ২০১০ সালে ইফতারি দিয়েছেন ৫ হাজার ২শত ডলারের। তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৪,৭০০ ডলারের।
রাজিব রহমান- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি নগদ ৫ হাজার ডলার দিয়েছেন এবং তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ডলারের।
রওশন রানু- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি প্রিন্টিং,সাপ্লাই এবং সার্ভিস দিয়েছেন ৪,৯৫৯ ডলারের। নগদ দিয়েছেন ২,০০০ ডলার এবং তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৩,০৪১ ডলারের।
শমসের আলী হেলাল- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি নগদ দিয়েছেন ৩,০০০ ডলার এবং তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৭,০০০ ডলারের।
তসলিমা বেগম- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০১০ সালে ৫ হাজার ডলারের ইফতারি দিয়েছেন এবং তাকে ক্রেডিট দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ডলারের।
মিজানুর রহমান- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত ইফতারি দিয়েছেন ৪,৫০০ ডলারের। তিনি মসজিদের হিসাব রক্ষনাবেক্ষনের সার্ভিস দিয়েছেন ৫ হাজার ডলারের।
নজরুল ইসলাম- সদস্যপদ দেয়ার তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১০। তিনি মসজিদের হিসাব রক্ষনাবেক্ষনের সার্ভিস দিয়েছেন ৫,৫০০ ডলারের। তিনি ২০০৮, ২০০৯ সালে ইফতারি দিয়েছেন ৩,১৮০ ডলারের।
উল্লিখিত হিসাবে দেখা যায় বায়তুল আমান মসজিদের মুসল্লীরা গত দুই বছরে প্রায় ৬০ হাজার ডলারের ইফতারি খেয়েছেন। আরও মজার বিষয় হচ্ছে উপরে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গরা লাইফমেম্বার হয়েছেন (অথবা করা হয়েছে) ৩ সেপ্টেম্বর ২০১০ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০১০ সালের মধ্যে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে।
এদিকে মসজিদে হাজার হাজার ডলারের ইফতারি দেয়ার কথা শুনে নিয়মিত মুসল্লীদের অনেকে আশ্চর্য হয়ে গেছেন। অনেকে এ প্রতিবেদককে জিজ্ঞেস করলেন, `৬০ হাজার ডলারের ইফতার খেতে গেলে কতজন লোক লাগে?'
বর্তমান কমিটির সহ কোষাধক্ষ্য আকিল আহমেদ বলেন, `এত টাকার ইফতারি কোন দিকে এলো আর কে খেলো আমরা কিছুই জানিনা। তিনি বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন মুসল্লীরা ইফতারি নিয়ে আসতেন। আশেপাশে বসবাসকারি বাংলাদেশী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকেও পর্যাপ্ত পরিমান ইফতারি আসতো। ইফতারি বাবদ যে অর্থ দেখানো হয়েছে তা কেউ বিশ্বাস করবে না।'
মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আরিফুর রহমান সারওয়ার বলেন, `ইফতারির সাথে মেম্বারশীপের সম্পর্কটা কোথায়? লাইফমেম্বার করা হয় মসজিদের তহবিল উন্নয়নের জন্য। সেখানে ইফতারি খাইয়ে মেম্বার হওয়াটা বেমানান। মসজিদে দান করতে গেলে নিয়তটা স্পষ্ট থাকা চাই।'
গত কুড়ি বছর ধরে নিয়মিত মসজিদে যাতায়াতকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মুসল্লী জানান, `বাঙালি মুসলমানরা টরন্টোতে ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছে। বুঝা যাচ্ছে এ মসজিদে মুসল্লীরা নামাজ পড়তে নয়; ইফতারি খেতে আসতেন।  তিনি বলেন, মসজিদে যারা মিথ্যা দান করেছে বলে দেখাতে পারে এরা জঘন্য মানুষ।'
বায়তুল আমান মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাহার বলেন, `যেসব ব্যক্তিরা হাজার হাজার ডলারের ইফতারি দিয়েছেন বলে দেখানো হয়েছে প্রথমত: তাদের আয়ের উৎস নিয়েই অনেক প্রশ্ন আছে। এছাড়া এদের অনেকেই সামাজিক ভাতা, আবার কেউ কেউ সরকারি বিভিন্ন বেনিফিট এর উপর নির্ভরশীল বলে জানা যায়। তারা তাদের বিবেককে প্রশ্ন করুক এটা ঠিক হয়েছে কিনা? তারা তাদের ছেলেমেয়েদের কাছে কিভাবে মুখ দেখায়?'
মসজিদ পরিচালনা কমিটির পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ জাহিদুর রহিম বলেন, `মসজিদে রাজনীতি করার জন্যে জনৈক শমসের আলী হেলাল শুধু ভূয়া ভোটারই কেবল হননি, তিনি ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছেন যা লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন করেন- বায়তুল আমান মসজিদের পক্ষ থেকে যে তাকে ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তা তার কোন যোগ্যতায়?'
মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি আবু তাহের নূরী বলেন, `আমরা আর কি বলবো? আদালতই প্রমাণ করেছে তারা ভূয়া। তিনি বলেন, ক্রেডিট বা বাকিতে মেম্বারশীপ যদি বৈধ হয় তবে আমরা কয়েক হাজার লোককে যেকোন সময় মেম্বার বানাতে পারি। এটা কেবল মসজিদ নয়, কোন সংগঠনের গঠনতন্ত্রেও এ ধরনের কোন বিধান কেউ দেখাতে পারবে না। তিন আরও বলেন, বিগত কমিটির অনেক অনিয়মের একটি মাত্র এটা। আমরা আরও অনেক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছি। তারা এসব অনিয়মের যথাযথ উত্তর না দিলে আমরা জনসমক্ষে বিস্তারিত তুলে ধরবো এমনকি আইনের আশ্রয় নিতেও বাধ্য হবো।'

কানাডা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে