Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯ , ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১৫-২০১৯

এখন নির্বাচন থাকলে দিদি এই রংবাজিটা করত না, মমতাকে তোপ অধীরের

এখন নির্বাচন থাকলে দিদি এই রংবাজিটা করত না, মমতাকে তোপ অধীরের

কলকাতা, ১৫ জুন - এখন নির্বাচন নেই বলেই এত রংবাজি করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নির্বাচন থাকলে এমনটা তিনি করতেন না৷ রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে অচলাবস্তা নিয়ে নিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন কংগ্রেসের দাপুটে নেতা অধীর চৌধুরী৷ শনিবার এনআরএস হাসপাতালে গিয়ে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি৷

রাজ্যের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী।শনিবার দিল্লি যাওয়ার আগে রাজ্য এই ইস্যুতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে রফি আহমেদ কিদওয়াহি রোড থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি৷ অধীর চৌধুরীর দাবি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে৷ তিনি বলেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেউকেটা হয়ে যাননি৷ আপনি নির্বাচিত জন প্রতিনিধি৷আলোচনা করলে আপনার জাত যাবে না৷দেমাক, দাম্ভিকতা ছেড়ে ওনার উচিত আলোচনায় বসা৷”

তারপর এনআরএস হাসপাতালে গিয়ে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করেন৷ রবিবার দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বৈঠকে কংগ্রেসের মুখ্য প্রতিনিধি হয়ে থাকবেন অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, সুযোগ পেলে বাংলার ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সেকথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আরও একবার জানাবেন। এনআরএস কাণ্ডে ইতিমধ্যেই মোদীকে চিঠি লিখেছেন অধীর৷

কয়েকদিন আগে ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অধীর লেখেন, আপনি এখন ধমকানি আর চমকানি দিয়ে ডাক্তারদের কাজে যোগদান করতে বলছেন! সারা বাংলায় চিকিৎসা পরিষেবা কয়েকদিন ধরে সম্পূর্ণ অচল, কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙলো আপনার, ডাক্তার আর সাধারণ মানুষের মধ্যে সংঘাত তৈরি করতে আপনি উস্কানি শুরু করলেন ― খুবই দুর্ভাগ্যের।

সম্মান জানিয়ে ডাক্তারদের আলোচনায় ডাকুন। তাঁরা আপনার পার্টির পঞ্চায়েত মেম্বার নয়। রোগী ও ডাক্তারের মধ্যে সেবা দেওয়া আর সেবা নেওয়ার সম্পর্ক থাকা দরকার। ‘দিদি’র ‘চোখ রাঙানি’ সমস্যা আরও জটিল করবে, আলোচনা আলোচনা আর শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধানের রাস্তা বের করতে হবে।

পরের দিন আরও একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “‘দিদি’র পণ, ‘কোনোমতেই ডাক্তার বাবুদের সাথে কথা বলে সমাধান কোরবো না’!!! বাংলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কি ‘দিদি’ সম্পূর্ণ বেসরকারীকরণ করাতে চাইছেন?”

উল্লেখ্য, এক জুনিয়র চিকিৎসককে মারধরের প্রতিবাদে কর্মবিরতি শুরু করেন এনআরএস-এর জুনিয়র ডাক্তাররা। সেই আন্দোলন এনআরএস-এর গণ্ডি টপকে শুধু কলকাতা বা এ রাজ্য নয়, ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে এসে আন্দোলনরত চিকিৎসকের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত কাজে যোগ দিতে হবে। নচেৎ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য কার্যত ঘি ঢালে আন্দোলনের আগুনে। শহরের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরেই ন্যাশনাল মেডিক্যাল, আর জি কর, এন আর এস এবং কলকাতা মেডিক্যালে আন্দোলন আরও জোরদার করেন জুনিয়র ডাক্তারেরা।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, শনিবার পর্যন্ত সাতশোরও বেশি চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির জন্য রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করছে চিকিৎসক মহল। সরাসরি না বললেও ইস্তফার কারণ হিসেবে প্রশাসনিক অসহযোগিতাকেই কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের অধিকাংশ দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে৷ তিনি চান শান্তিতে সব সমস্যার সমাধান হোক৷ কিন্তু তারপরও এনআরএসের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁরা আন্দোলনে অনড় থাকছেন৷

এন এ/ ১৫ জুন

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে