Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯ , ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১২-২০১৯

প্রতি এক ঘন্টা অন্তর খোলা হয়, কেউ চিঠি দেয় না!

সোহাগ হোসেন


প্রতি এক ঘন্টা অন্তর খোলা হয়, কেউ চিঠি দেয় না!

সাতক্ষীরা, ১২ জুন - লিপিতার শুরুতে-ই তোমাকে জানাই বসন্তের সকালের শিশির ভেজা গোলাপের ভেজা-ভেজা পাঁপড়ির ন্যায় শুভেচ্ছা ও ভালবাসা। তুমি কেমন আছো? আমার কথা মনে পড়ে তোমার? কতদিন তোমাকে দেখি না। কতদিন পর তোমাকে লিখছি। তোমাকে ভীষণ মনে পড়ে।

এমন ভালবাসা আর মায়ার আঁচড়ে কেউ চিঠি লেখে না এখনকার দিনে। যান্ত্রিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রায় হারিয়ে গেছে চিঠি পত্রের আদান-প্রদান। হয়তো যান্ত্রিকতার সাথে তাল মেলাতে না পেরে হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি-পত্রের লেনদেন এক কথায় ডাকসেবা।

নববধূ এখন আর অপেক্ষা করে প্রিয়জনের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার জন্য। প্রেমিকা সারা সপ্তাহ জুড়ে অপেক্ষা করে না ডাকপিয়নের ভাঙ্গা সাইকেলের শব্দের জন্য। অপেক্ষা নেই বললেও চলে। আধুনিকতা সব পত্র লেনদেন আর ডাক সেবাকে পিছনে রেখে বেশ এগিয়ে গেছে।

বছর দশেক আগেও মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করা হতো পোষ্ট অফিস। পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে সমস্ত মনভাবের আদান প্রদান হতো। সময়ের ব্যবধানে আজ ডাকসেবাটি নামে থাকলেও হারিয়ে যাওয়ার অবশিষ্ট প্রায়। শুধু ডাক বাক্সের দন্ডয়মান উপস্থিতি দেখা যায় পোষ্ট অফিসের সামনে। আগের মত নিত্য নতুন রঙ্গে সাজানো হয় না ডাক বাক্সগুলোকে। রংচটা অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে ঢের অপেক্ষা নিয়ে তবুও কেউ একটি চিঠি দেয় না।

সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধানী তথ্যে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোসহ অঞ্চলভিত্তিক পোষ্ট অফিসগুলো মৃত প্রায়। ডাক বাক্স ধূলাবালিতে তার নিজস্ব রংটাও হারিয়েছে। প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ ও কর্মচারী থাকলেও তারা বেকার সময় পার করেন। কারণ কোন চিঠি আসে না বা কেউ পাঠায় না। সপ্তাহের দু’একবার হাতেগুনা দু’চারটা নোটিশ আর চাকরির চিঠি ছাড়া কিছু আসে না। এর বাইরে তাদের কোন কাজ নেই। দিনের পুরো ব্যস্ততার সময়টি এখন তারা অবশাদে কাটিয়ে দেন। ডাকপিয়ন একটি সময়ে গ্রাম অঞ্চলের মানুষের কাছে কাঙ্কিত বিষয় হলেও সেটা এখন গুরুত্বহীন। আধুনিক সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যম সব পোষ্ট সার্ভিস ও ডাকপিয়নদের কাজ কমিয়ে দিয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জার, মেইলসহ আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিটা মাধ্যমেই যোগাযোগে মানুষ এখন অভ্যস্ত। পুরনো দিনের ধূলে মুছে চিঠি পড়ার দিনগুলো আর স্মৃতিতে নেই। সকল স্থান এখন আধুনিকতা আয়াত্বে।

জেলার তালা উপজেলায় সুভাশ মজুমদার নামের এক ডাকপিয়ন বলেন, কিছু বছর আগেও সারাদিন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে যেতে হত। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা আত্নীয়-স্বজনরা গ্রামে চিঠি পাঠাতো। আমি এক হাতে সব বিতরণ করতাম। মানুষের কাছে চিঠি পৌঁছে দেওয়ায় এক ধরনের আনন্দ কাজ করতো। অনিচ্ছাকৃত ভাবেও কেউ চিঠি দেয় না। মাঝে মধ্যে কিছু সরকারি নোটিশ আর চাকরির পত্র আসে। এর মধ্যেই সকল কিছু সীমাবদ্ধ এখন।

সাতক্ষীরা জেলার প্রধান ডাকঘরের পোষ্ট মাস্টার শেখ শাহবাজ আলী জানান, জেলার গ্রাম অঞ্চলের ডাকঘরগুলো আগের তুলনায় অনেক কর্মব্যস্ততা কমে গেছে। কারণ মানুষ চিঠিপত্র বা ডাক ঘরের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে।

তিনি আরও জানান, আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বারা মুহুত্বেই দেশের অন্য প্রান্তের থাকা মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে ফলে পোষ্ট অফিসের প্রয়োজনীয় দিনে দিনে হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে জরুরী পার্সেল সরবারহের জন্য মানুষ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর দিকে ঝু্ঁকছে।

সুত্র : বিডি২৪লাইভ

এন এইচ / ১২ জুন

সাতক্ষীরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে