Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (58 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৫-২০১৩

কালাইয়ে আলুর বাজারে ধস : বিপাকে হিমাগার মালিক


	কালাইয়ে আলুর বাজারে ধস : বিপাকে হিমাগার মালিক
কালাই (জয়পুরহাট), ১৪ সেপ্টেম্বর-জয়পুরহাটের কালাইয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ করে আলুর দাম কমে বাজারে ধস নেমেছে। এতে করে বিপাকে পরেছেন হিমাগার মালিকরা। আর চরম হতাশায় ভুগছেন এলাকার কৃষক ও আলু ব্যবসাসীরা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এখন প্রতিবস্তা আলু ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কম দরে বেচাকেনা হচ্ছে। আলু তোলার মৌসুমে অধিক লাভের আশায় আলু বিক্রি না করে তা কোল্ড স্টোরেজে রেখে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন এ এলাকার কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। ফলে উৎপাদন খরচসহ আনুসঙ্গিক অন্যান্য খরচ তুলতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। একদিকে আলুর দাম কম অন্যদিকে বাজারে ক্রেতা সংকটের কারণে আলুর দাম ক্রমেই কমছে। ফলে লোকশানের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। গত বছরের চেয়ে এবছর অন্তত ৪৫ দিন পরে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে তাদের সংরক্ষিত আলু তুলতে শুরু করায় এবং এক সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ করে আলুর চরম মূল্য পতনের কারণে হিমাগারগুলোতে বর্তমানে কৃষক ও ব্যবসায়ীর উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে। ফলে কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীদের সাথে  বিপাকে পরেছেন হিমাগার মালিকরাও। 
এলাকার কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারে উৎপাদন মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় সে সময় আলু বাজারে বিক্রি না করে এলাকার কোল্ড স্টোরেজগুলোতে সেগুলো সংরক্ষণ করেছে। আবার আলু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় নিজেদের মূলধন ছাড়াও হিমাগারে সংরক্ষিত তাদের আলুর বিপরীতে মোটা অংকের ঋণ গ্রহণ করে অতিরিক্ত  আরও আলু কিনে এলাকার বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করেছেন। ফলে এ এলাকার হিমাগারগুলোতে গত বছরের তুলনায় এরার আলুর সংরক্ষণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। আর এর প্রভাব পরে চলতি মৌসুমে হিমাগারগুলোতে আলুর দাম কমেছে, পাশাপাশি কমেছে আলুর আনলোডের (খালাস) পরিমাণও। হিমাগার মালিকরা কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে সুদ ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যে কৌশলে ফাঁদ পাতে। আর হিমাগার মালিকদের পাতানো সেই ফাঁদে পা দিয়ে ঋণের টাকায় কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা হিমাগারগুলোতে গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণ করে এখন চরম হতাশায় ভুগছেন। সুদের টাকা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যে হিমাগার মালিকরা আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে হিমাগারে অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে এখন না পারছেন আলু আনলোড করাতে না পারছেন ভাড়া, ঋণ ও সুদের টাকা আদায় করতে। আলুর চরম মূল্য পতনের কারণে হিমাগারগুলোতে বর্তমানে কৃষক ও ব্যবসায়ীর উপস্থিতি কমতে শুরু করায় এবং ক্রেতা সংকটের কারণে বিপাকে পরেছেন হিমাগার মালিকরাও। 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিলা। বাম্পার ফলন হওয়ায় উৎপাদিত আলুর পরিমাণ ছিলো এক লাখ মেট্রিক টন। এলাকার হাট-বাজার ও হিমাগারগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে গ্র্যানোলা (সাদা) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৫৬০ টাকায়, কার্ডিনাল ও স্টিক (লাল) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৮৭০ টাকায়, ডাইমন্ড (সাদা) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৯০০ টাকায়, দেশী পাকরি (লাল) জাতের আলু প্রতিবস্তা ১০০০ টাকায় এবং রুমানা (পাকরি) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হঠাৎ করে বাজারে ধস নামায় চলতি সপ্তাহে গ্র্যানোলা (সাদা) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৩৯০ টাকায়, কার্ডিনাল ও স্টিক (লাল) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৬৬০ টাকায়, ডাইমন্ড (সাদা) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৭০০ টাকায়, দেশী পাকরি (লাল) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৭৫০ টাকায় এবং রুমানা (পাকরি) জাতের আলু প্রতিবস্তা ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীদের গত সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি লোকশান গুণতে হচ্ছে গড়ে ২৫০ টাকা।  
উপজেলার কোল্ড স্টোরেজগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরে এ সময়ে প্রতিটি হিমাগারে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সংরক্ষণকৃত আলুর বস্তা বের করে দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছিলো কোল্ড স্টোরেজের শ্রমিক ও কর্মচারিদের। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা গত বছর এ সময় তাদের সংরক্ষণকৃত আলুর বস্তা বের করে নেয়ার জন্য প্রচন্ড রকম ভীড় করলেও এ বছরের চিত্র অন্যরূপ। বিভিন্ন হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি অপ্রতুল। ফলে হিমাগারগুলোতে সংরক্ষিত আলুর সিকি পরিমাণ অংশও এখন পর্যন্ত বের হয়নি। এবারে পুনট কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণকৃত ১ লাখ ৭০ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত বের হয়েছে ৩৪ হাজার বস্তা, শিমূলতলী আরবি স্পেশালাইস্ট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডে সংরক্ষণকৃত ১লাখ ৬৭ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত বের হয়েছে ৩৬ হাজার বস্তা, সড়াইল নরওয়েস্ট কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণকৃত ৫৮ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত বের হয়েছে ৬ হাজার ৬শ বস্তা, মোলামগাড়ীহাট নর্থ কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণকৃত ১ লাখ ৩৫ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত বের হয়েছে ১৪ হাজার ৬৩৭ বস্তা,  বৈরাগীরহাট সাউথপোল কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণকৃত ১ লাখ ২১ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত বের হয়েছে ২৩ হাজার বস্তা, নিশ্চিন্তা পল্লী হিমাগরে সংরক্ষণকৃত ৮৬ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত বের হয়েছে ২০ হাজার বস্তা। বালাইট সালামিন ফুডস লিমিটেডে সংরক্ষণকৃত ৯৭ হাজার বস্তা আলুর মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত বের হয়েছে ১৪ হাজার বস্তা, এবং সড়াইল এম ইসরাত হিমাগারে সংরক্ষণকৃত ৫১ হাজার ৫শ বস্তা আলুর মধ্যে বর্তমান পর্যন্ত বের হয়েছে ৮ হাজার ৫শবস্তা। 
উপজেলার এলতা গ্রামের কৃষক আলিম বলেন, আলু উৎপাদন মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় সে সময় সেগুলো বিক্রি না করে অধিক লাভের আশায় হিমাগারে সব জাতের আলু মিলে সংরক্ষণ করি ৩৮০ বস্তা। তাতে হিমাগার ভাড়াসহ সবমিলে গ্যানোলা (সাদা) জাতের প্রতি বস্তা আলুতে আমার খরচ পরেছে  ১ হাজার টাকা, কার্ডিনাল ও স্টিক (লাল) জাতের আলুতে ১ হাজার ১শ টাকা, দেশী পাকরি (লাল) জাতের আলুতে ১ হাজার ১৫০টাকা। আলুর দর পতনের কারণে এক সপ্তাহের ব্যবধানেই আমাকে লোকশান গুণতে হচ্ছে অন্তত ১ লাখ টাকা। এমতাবস্থায়, লাভ তো দূরের কথা উল্টো মূল ধন খুঁইয়ে লোকশান গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আলুর বিকল্প ফসল ফলানোর চিন্তা না করে উপায় নেই।
কালাই পাঁচশিরা বাজারের ‘কৃষক বন্ধু’ চাল কলের সত্ত্বাধিকারী ও আলু ব্যবসায়ী মাহবুব বলেন-  লাভের আশায় এ বছর এম ইশরাত হিমাগারে সব জাতের আলু মিলে সংরক্ষণ করি  ৪ হাজার বস্তা। বর্তমানে আলুর যে বাজার চলছে, তাতে এ মুহূর্তেই আলু বিক্রি করলে আমাকে লোকশান গুণতে হবে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা। এ লোকশানের সাথে প্রতি মাসে ব্যাংক ঋণের সুদ বাবদ অতিরিক্ত আরও ৬৬ হাজার টাকা হারে ৬মাসে আমাকে আরও লোকশান গুণতে হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। এ অবস্থায়, আলু বিক্রি করবো নাকি আরও কিছু দিন অপেক্ষা করবো, তা স্থির করতে পারছিনা। 
সড়াইল এম ইসরাত হিমাগারে প্রধান হিসাব রক্ষক রাইহান আলম বলেন- হিমাগার মালিকরা সংরক্ষিত আলুর বিপরীতে যে ঋণ বিতরণ করেছেন, তা উত্তোরনের জন্য আলু ব্যবসায়ী ও কৃষকদের প্রতি চাপ সৃষ্টি করে। হিমাগার ও বাজারে আলুর দর পতন ও ক্রেতা সংকটের কারণে ওই আলু ব্যবসায়ী ও কৃষকরা তাদের সংরক্ষিত আলুর দলিল পত্র (হিমাগার কর্তৃক প্রদত্ত কার্ড) হিমাগার কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। ফলে সংরক্ষিত সব আলু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আনলোড হবে কিনা সে সংশয় মাথায় রেখে হিমাগার কর্তৃপক্ষ দ্রুত আনলোডের প্রতিযোগীতায় নামায় আলুর বাজারে ধস নেমেছে বলে আমি মনে করি।

জয়পুরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে