Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (129 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৫-২০১৩

ব্যাংককে লাল-সবুজের পতাকা

ইসমাত আরা



	ব্যাংককে লাল-সবুজের পতাকা

ব্যাংকক, ১৫ সেপ্টেম্বর- আমি কয়েক বছর ধরে ব্যাংককপ্রবাসী। ৪ সেপ্টেম্বর ছিল আমার ছেলে আবীরের স্কুলে (রামকামহ্যাং অ্যাডভেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল) আন্তর্জাতিক ডের কর্মসূচি। এখানে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ছেলেমেয়েরা এখানে পড়ে। স্কুলে এই দিন পালনের উদ্দেশ্য; বিভিন্ন দেশের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা এবং বিভিন্ন দেশ ও দেশের মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করা। ছাত্রছাত্রীদের এটা বোঝানো, তারা বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতি থেকে এলেও তাদের ভেতরে আসলে কোনো পার্থক্য নেই। তারা সবাই মানুষ। কালো-সাদা ও ধনী-গরিব বলে কোনো ভেদাভেদ নেই।সেদিন আমিও গিয়েছিলাম স্কুলে ছেলের সঙ্গে। ঢুকতেই দেখি ছেলেমেয়েরা কেউ নিজ দেশের পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নানা রঙের পোশাক। আবার কেউ নিজ দেশের পতাকা নিয়ে ছুটোছুটি করছে। কেউ দেশের জাতীয় পশুর প্রতীক-সংবলিত পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্কুলটা বিভিন্ন দেশের পতাকা এবং রং দিয়ে সাজানো হয়েছে। 

 
অনুষ্ঠানের প্রথমেই ছিল প্যারেড। শিক্ষার্থীরা দেশ হিসেবে ভাগ হয়ে এতে অংশ নেয়। প্রথমে আসে আমেরিকা। ফ্ল্যাগ হাতে একজন সামনে। তার পেছনে দুজন আমেরিকার জাতীয় পোশাক পরা। তাদের পেছনে আমেরিকান অন্যান্য ছাত্রছাত্রী। তারা যখন মূল মঞ্চের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমেরিকার জাতীয় সংগীত বাজানো হলো। এরপর একে একে ব্রিটেন, ফ্রান্স, আফ্রিকা, ত্রিনিদাদ, টোবাকো, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, লাওস। তারপর বাংলাদেশ। এরপর ভারতসহ অন্যান্য আরও কয়েকটি দেশ।প্যারেডে বাংলাদেশের পালায় লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে সামনে একজন। তার সঙ্গে একজন; পাঞ্জাবি পরা একটা ছেলে। তার হাতে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। পেছনে অনেকটা ভারতীয় স্টাইলে জামা পরা একটা মেয়ে। তার সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েল বেঙ্গল টাইগার সেজে আরেকজন। তাদের পেছনে বাংলাদেশি পতাকা হাতে অন্যান্য ছাত্রছাত্রী। তারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বলে চিৎকার করছিল। যখন হেঁটে মঞ্চের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ বেজে উঠল। আমার চোখ দিয়ে তখন জল পড়ছে, কোনোভাবেই আটকাতে পারলাম না চোখের জল। কত দিন পর বিদেশের মাটিতে নিজ দেশের পতাকা দেখছি আর জাতীয় সংগীত শুনছি। নিজের দেশের প্রতি মায়া মনে হয় একেই বলে। আমারও মনে হচ্ছিল, ওদের সঙ্গে আমিও ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ বলে চিৎকার করি। ছেলের স্কুলে আন্তর্জাতিক দিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আবারও বুঝলাম নিজ দেশ, জন্মভূমির সঙ্গে আসলেই কোনো কিছুর তুলনা হয় না। নিজ দেশ নিজ সন্তান ও মায়ের মতো।
 
দ্বিতীয় পর্বে  ছিল প্রদর্শনী। এ পর্যায়ে এক ক্লাস একটি দেশ। তাই তারা নিজেদের শ্রেণীকক্ষে সেই দেশকে ফুটিয়ে তুলেছে। যে যত সুন্দর করতে পারে। প্রতিটি ক্লাসের দরজায় বসে ছিল একজন ইমিগ্রেশন অফিসার। সবার হাতে আগে থেকে বানানো পাসপোর্ট দিয়ে দিয়েছে ক্লাস টিচার। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এটা শেখানো যে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে হলে ইমিগ্রেশন পার হতে হয় এবং পাসপোর্টে সেই দেশের ভিসা লাগাতে হয়। আমরা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা একে একে সব দেশ পরিদর্শন করছি। আমরাও জানলাম অনেক কিছু। বিভিন্ন দেশের ইতিহাস, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুদ্রা জাতীয় খাবার, সরকারব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা, ধর্ম, আবহাওয়া, সময়, জাতীয় ফুল, ফল, পশু, আরও কত কী।
 
ক্লাস ১১ ছিল বাংলাদেশ। আমি সেখানে গেলাম আমার প্রিয় বাংলাদেশকে দেখার জন্য। ছেলেমেয়েরা অনেক যত্ন করে সাজিয়েছে। ফুটিয়ে তুলেছে বাংলাদেশের সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য। দুই পাশে গাছ, গাছে বসা দোয়েল পাখি, পেছনে সবুজের সমারোহ, ইলিশ মাছ আর এক জীবন্ত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ঘুরে বেড়াচ্ছে ক্লাসজুড়ে। আর সবুজ গাছগাছালির মধ্যে বড় করে লেখা বাংলাদেশ। ক্লাসের বোর্ডে বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সরকারব্যবস্থা, জাতীয় পশু-পাখি, ফুল-ফল, কৃষি, মাথাপিছু আয়সহ আরও অনেক কিছু ছবিসহ ছাপা কাগজে লাগানো ছিল। বাংলাদেশের সামগ্রিক বিষয় তুলে আনা হয়েছে। ব্যক্তিত্বের ছবির মধ্যে ছিল বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মুহাম্মদ ইউনূসের নামের পাশে লেখা ছিল নোবেলজয়ী প্রথম বাংলাদেশি। ছিল সুন্দরবন আর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিস্তারিত বিবরণ আর ছবি।
 
তৃতীয় পর্বে ছিল বিভিন্ন দেশের খাবার প্রদর্শনী। বাস্কেট বল কোর্টে দেশগুলো যার যার দেশের খাবারগুলো সাজিয়ে রেখেছিল। কী খাবার ছিল না সেখানে! থাই স্যুপ, ফ্রায়েড রাইস, চিকেন ফ্রাই, অস্ট্রেলিয়ান দিম সিমস, চিকো রোলস, পাভলভা, ইন্ডিয়ান চিকেন বিরিয়ানি, আলু পরোটা, জাপানিজ সুশী, চায়নিজ নুডলস, স্যুপ, বাংলাদেশি চিকেন বিরিয়ানি, চিকেন তরকারি ও রুটি এবং ইতালিয়ান পিৎজাসহ আরও অনেক ধরনের খাবার।
 
সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আমরা উপভোগ করলাম বিভিন্ন দেশের নাচ-গান। সত্যি অনেক সুন্দর। আমি প্রতিটা পর্ব উপভোগ করছিলাম আর ভাবছিলাম, আমাদের দেশে আমরা গাধার মতো সব মুখস্থ করি আর মনে রাখার চেষ্টা করি। আর এরা হাতে-কলমে নিজেরা আনন্দের মাঝে শিখছে। যখন বাড়ি ফিরছি, তখন কেবলই মনে হচ্ছিল, আমাদের দেশেও যদি বাচ্চাদের এ রকম শেখানো যেত তাহলে কতই না ভালো হতো।
 
 

আফ্রিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে