Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৬-০৮-২০১৯

হল মাতাচ্ছে ‘পাসওয়ার্ড’

হল মাতাচ্ছে ‘পাসওয়ার্ড’

ঢাকা, ০৮ জুন- বিনোদনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে সিনেমা। ঈদ উপলক্ষে সিনেমা হল গুলোতে দেখা যায় দর্শকদের উপচে পড়া ভীড়। এবার ঈদে মুক্তির মিছিলে থাকা পাঁচটি ছবির মধ্যে মুক্তি পায় তিনটি ছবি। পাসওয়ার্ড, আবার বসন্ত ও নোলক এই তিনটি ছবির দুটিরই নায়ক শাকিব খান এবং আরেকটিতে রয়েছেন তারিক আনাম খান।

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত শ্যামলী সিনেমা হলে চলছে ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটি। এখন পর্যন্ত এবার ঈদে রেকর্ড সংখ্যক সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান অভিনীত এই ছবিটি। ঈদের দিন থেকে বৈরি আবহাওয়া ও বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আমেজ নিয়েও ‘পাসওয়ার্ড’ দেখতে সিনেমা হলে ভীড় করছেন দর্শকরা।

আজ শনিবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় সরেজমিনে শ্যামলী হলে দেখা যায় আগ্রহ নিয়ে পাসওয়ার্ড দেখতে ভীড় করছেন দর্শকরা। একেকজন দুইটি তিনটি কিংবা চারটি করে টিকেট কিনছেন কেউবা পরে দেখবেন বলে অগ্রিম কিনছেন। সকালের দিকে খুব বেশি দর্শক দেখা না গেলেও মোটামুটি দর্শক দেখা গিয়েছে হলে। অনেকে টিকেট কেটে লাইন ধরে বসে আছেন ছবি দেখার অপেক্ষায়। কিছুদিন আগেও শ্যামলী হলে ডিলাক্স ও প্রিমিয়াম টিকেট বিক্রি হতো ১৫০ ও ২০০ টাকা করে। কিন্তু এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ২০০ ও ২৫০ টাকা করে। তারপরও দর্শক আগ্রহ নিয়ে টিকেট কিনছেন।

আজ ঈদের চতুর্থ দিন চলছে। শ্যামলী হলে সিট সংখ্যা ৩০৬ টি। চতুর্থ দিন পর্যন্ত তিনটি শো ছাড়া এখন পর্যন্ত সবগুলো শো হাউসফুল গিয়েছে বলে জানা যায়। বৃষ্টি কিংবা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আমাজের এই সময়েও দর্শকরা ছবি দেখতে হলে আসছেন বলে জানান শ্যামলী সিনেমা হলের ম্যানেজার আহসান উল্লাহ হাসান।

শ্যামলী সিনেমা হলের ম্যানেজার আহসান উল্লাহ হাসান বলেন, ছবির সেল মোটামুটি ভালো যাচ্ছে। মোটামুটি না বেশ ভালো যাচ্ছে আমি বলবো। দর্শকরা আগ্রহ নিয়ে ছবিটি দেখতে আসছে। আজ তো চতুর্থ দিন, তৃতীয় দিন পর্যন্ত ভালো গিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখন ঈদের সময়। আর শাকিব খান হালের ক্রেজ। টপ মোস্ট স্টারের মধ্যে সেই একজন আছে। এই সময়টাতে শাকিব খানের ছবির জন্য সবাই ঝুঁকে থাকে। দীর্ঘ কয়েকমাস পর ভালো এবং সুপারহিট একটা ছবি মুক্তি পেলো। ঈদের মধ্যেও মানুষ একটা ভালো ছবির আকাংখায় থাকে যে একটা ভালো ছবি আসবে। এই বছরে আমরা যতগুলা ছবি চালিয়েছি তার একটি ছবিও ব্যবসাসফল হয়নি। অনেক দিন পর একটা ভালো ছবি পেয়েছি এবং সেটা অনেক ভাল যাচ্ছে এখন পর্যন্ত। এখন যে সেল হচ্ছে এতে আমরা সুখী ও সন্তুষ্ট। এই সেলে যদি আমরা ৩/৪ সপ্তাহ চালাতে পারি ছবিটা তাহলে আমার মনে হয় আবারও ইন্ডাস্ট্রির হলগুলো বাঁচবে।

বৃষ্টি, বিশ্বকাপ উপেক্ষা করেও দর্শক ছবিটি দেখতে আসছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ছবি যদি ভাল হয় তাহলে বৃষ্টি কিংবা বিশ্বকাপ যাই থাকুক না কেন দর্শক ছবি দেখতে আসবেই। ছবির গল্প,মেকিং এবং টেকশিয়ানের দিক থেকে সবকিছু যদি ভালো হয় দর্শক সেই ছবি দেখবেই। ঈদের দিন থেকেই অনেক বৃষ্টি ছিল। কিন্তু তারপরও আমাদের এখানে অনেক দর্শক এসেছেন। যেমন এর আগে আয়নাবাজি, ঢাকা অ্যাটাক ছবির কোন একটার সময়ও কিন্তু প্রচন্ড বৃষ্টি ছিলো তারপরেও কিন্তু আমাদের চারটা করে শো হাউসফুল গিয়েছে। আমি মনে করি না যে এই ইস্যুগুলোর সাথে এটা জড়িত হয়। ছবি ভালো হলে অন্য কোন ইস্যুই দর্শককে আটকাতে পারে না। তবে হয়তো এর জন্য কিছুটা এফেক্ট পড়ে কিন্তু তখন দর্শকরা পরবর্তী শোয়ের টিকেট কিনে দেখে। যখন ভালো ছবির জন্য মানুষের আকর্ষণ থাকে তখন একটা শোয়ের জন্য সময় না পেলে পরের শোয়ের টিকেট নেয়। তারা যেই শোয়ের টিকেট পাচ্ছে সেটাতেই আসছে। দর্শকরা কিন্তু দেখছে। হয়তো আমরা আজকে পাচ্ছিনা, কালকে পাচ্ছি। কিন্তু যারা আবার ক্রিকেটের একদম ভক্ত তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা। তারা হয়তো ক্রিকেট নিয়ে আছে, ক্রিকেট নিয়েই থাকবে। এ ধরনের দর্শকও আছে। আর বিশেষ করে এই এফেক্টটা হয় যখন নিজের দেশের খেলা থাকে তখন। অন্য দেশের খেলার ক্ষেত্রে তেমন একটা আগ্রহ থাকে না।

ঈদের দিন একটা শো ছাড়া সবগুলো শো হাউসফুল গিয়েছে। গতকাল শুক্রবার থাকায় সকালের শো এবং ম্যাটিনি শো একটু ফাঁকা ছিল আর বাকিগুলো হাউসফুল। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার সকালের শোতে কিছু সিট ফাঁকা ছিল আর বাকি সব ফুল। এখন পর্যন্ত ভালো যাচ্ছে ছবিটি, আমরা এতে সন্তুষ্ট আছি। আমরা যেই সেল আশা করেছিলাম ছবিটি নিয়ে সেদিক থেকে আমরা খুশি।

এখনও যেহেতু ঈদের আমেজটা রয়েছে আর দুইদিন যাওয়ার পর আমরা বুঝতে পারবো আসলে ছবিটা কতটা সফল হবে। এই ধারাবাহিকতা যদি অব্যাহত থাকে এখনের মত তাহলে ছবিটি সফল হবে। এখন যারা ছবি দেখছে তাদের বেশিরভাগই হচ্ছে ঈদের দর্শক। তারা সময় কাটাতে ছবি দেখতে আসে। ছবি কোনটা ভালো আর কেমন সেটা আমরা বলতে পারবো রবিবার কিংবা সোমবারের পর। তখন আমরা জেনুইন সেলটা বুঝতে পারবো, জাস্টিফাই করতে পারবো। তখন যদি সেল রেটটা এরকমই থাকে তাহলে মনে করবো যে ছবিটা টিকে গেলো। ছবিটা যেহেতু ভাল যাচ্ছে যতদিন ভালো যাবে ততদিনই আমরা ছবিটা চালাবো। এরপর অন্য ছবি আনবো।

হল মালিক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, মধুমিতা হলে পাসওয়ার্ড ছবিটি চলছে। খারাপ যাচ্ছে না , ভালোই যাচ্ছে। ঈদের দিন বৃষ্টি ছিল তারপরও স্পেশাল শো খুব ভাল ছিল। আর ম্যাটিনি ও ইভেনিং শো দুইটাই হাউসফুল ছিলো। ঈদের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত আমাদের ম্যাটিনি ও ইভেনিং শো একদম হাউসফুল। আজকে যেহেতু বাংলাদেশের খেলা আছে সেটা হয়তো একটু ড্রপ করতে পারে। কিন্তু গত দিনের হিসেব থেকে বললে আমি মনে করি আজকের ইভেনিং শোটাও ফুল যাবে।

তিনি আরও বলেন, দর্শকরা ছবিটি পছন্দ করছে, দেখছে। তরুণরা দেখছে বেশি। আমি যতটুকু জানলাম আবার বসন্ত খারাপ যাচ্ছে, নোলকও খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। এমনিতেই আমাদের ক্রাইসিসের সময়। নোলক ও পাসওয়ার্ড দুইটাই তো শাকিবের ছবি। তবে নোলক যেহেতু একটু পারিবারিক ছবি তাই আমার মনে ছবিটা দুই সপ্তাহ পরে মুক্তি দিলে এটি খুব ভালো করতো। এখন পর্যন্ত পাসওয়ার্ড এক নাম্বারে আছে। ইয়াং জেনারেশন ছবিটা খুব পছন্দ করছে। অনেকদিন পর শাকিবের ছবি এসেছে, দেশের বাইরের কিছু নতুনত্ব আছে সবকিছু মিলিয়ে ছবিটার একটা চাহিদা তৈরি হয়েছে। যার কারণে ছবিটা দর্শক ছবিটা দেখছে। এখন পর্যন্ত যেই সেল আসছে এতে আমরা অনেক সন্তুষ্ট (মোর দ্যান স্যাটিসফায়েড)। দুই সপ্তাহ ছবিটা চালাবো এরপর সেল ভালো হলে বা অন্য ছবি না থাকলে এটাই চলবে।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ
আর এস/  ০৮ জুন

ঢালিউড

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে