Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯ , ১ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০২-২০১৯

খৎনার সময় ওটিতে শিশুকে চিকিৎসকের চড়-থাপ্পর!

খৎনার সময় ওটিতে শিশুকে চিকিৎসকের চড়-থাপ্পর!

বগুড়া, ০৩ জুন - বগুড়ায় মুসলমানি অপারেশন করার সময় ব্যথাতে নড়াচড়া ও কান্নাকাটি করায় চিকিৎসক নজরুল ইসলাম ফারুকের চড়-থাপ্পড় ও নখের আঁচড়ে আয়মান আশরাফ (৫) নামে নার্সারি শ্রেণির এক শিশু রক্তাক্ত জখম হয়েছে।

শনিবার সকালে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে এ ঘটনায় শিশুটি আতংকিত হয়ে পড়েছে।

পরিবারের বাইরে কোনো মানুষ দেখলে ভয়ে আতকে উঠছে। রাতে ঘুমাতে পারেনি। ওই হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. ফারুক মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরএমও ডা. শফিক আমিন জানান, ঘটনা খুবই অন্যায় ও দুঃখজনক। শিশুর স্বজনদের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ওই চিকিৎসককে ডেকে সাবধান করে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ব্র্যাক ব্যাংক ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম মুরাদের শ্বশুরবাড়ি বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায়।

আয়মান ঢাকার মাইলস্টন স্কুল ও কলেজের নার্সারির ছাত্র। গত কয়েকদিন আগে ঈদের ছুটিতে সন্তান নিয়ে এ দম্পতি বগুড়ায় আসেন। তারা তাদের একমাত্র সন্তানকে মুসলমানি (খৎনা) করার উদ্যোগ নেন। মিশু কয়েকদিন আগে তার আত্মীয় (খালা) সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহানা পারভিন বকুলের মাধ্যমে ছেলে আয়মানকে ওই হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. ফারুককে দেখান।

ওই চিকিৎসক শনিবার সকালে মুসলমানি অপারেশন করার সময় দেন। ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আয়মনকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। সেখানে অপরাজিতা নামে ঢাকার ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রী, নার্স বকুল ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

লোকাল এনেসথেসিয়া দেয়ার পর ডা. ফারুক অপারেশন শুরু করেন। কিন্তু ঠিকমত অবশ না হওয়ায় শিশু আয়মান নড়াচড়া ও কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় ডা. ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুর গালে ৬-৭টি চড়-থাপ্পড় দেন। এছাড়া উরুতে নখের আঁচড় দেয়া হয়।

উপস্থিত নার্সরা অনুরোধ করেও ওই চিকিৎসককে শান্ত করতে পারেননি। তিনি নার্স ও অন্যদের ওটি থেকে বের হতে যেতে বলেন। পরে আবারো লোকাল এনেসথেসিয়া দেয়ার পর খৎনা করানো হয়।

শিশু আয়মান অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হবার পর বাবা-মাকে জানায়, ‘আর কখনো ওই ডাক্তারের কাছে যাবো না, ডাক্তার মারে’।

রোববার দুপুরে ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হবার পর জনগণের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শিশুর বাবা ব্যাংকার আশরাফুল ইসলাম মুরাদ জানান, ঠিকমত অবশ না হওয়ায় তার শিশু সন্তান চড়াচড়া ও কান্নাকাটি করলে ডা. ফারুক তার গালে ৬-৭টি চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন। তার বিশ্বাস ওই চিকিৎসক মানসিকভাবে অসুস্থ।

মুরাদ আরও জানান, আয়মানকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। রাতে ঘুমাতে পারেনি। নতুন কাউকে দেখলে আঁতকে উঠছে, ভয় পাচ্ছে। তিনি ওই চিকিৎসকের বিচার চেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান ও আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজলের কাছে অভিযোগ করেছেন। তারা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিলে তিনি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও শিশুর নানি (মায়ের খালা) শাহানা পারভিন বকুল এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত চিকিৎসক নজরুল ইসলাম ফারুক মোবাইল ফোন বন্ধ রাখা ও হাসপাতালে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজল বলেন, এ ঘটনায় আমরা খুবই বিব্রত। আমি ও তত্ত্বাবধায়ক তাকে ডেকে সাবধান এবং শিশুর পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।

সুত্র : যুগান্তর
এন এ/ ০৩ জুন

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে