Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ , ২ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৬-০১-২০১৯

বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা নেয়ার অভিযোগ

বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা নেয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইল, ০১ জুন- টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা একটি শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা। প্রধানমন্ত্রী তিন বছর আগেই এ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষণা করেছেন। যা ভূঞাপুর তথা টাঙ্গাইলবাসীর জন্য গর্বের। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার অনিয়ম আর দূর্নীতির কারণে আজ কলুষিত হচ্ছে শতভাগ বিদ্যুতায়ন। যা সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করছে।

ভূঞাপুর বিদ্যুৎ অফিসের নানা ভোগান্তির কারণে আজ গ্রাহকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ আর হতাশা। ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নতুন সংযোগের নামে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া, কাজ না করেই মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ এবং নতুন সংযোগের জন্য মিটার প্রতিকিলো অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে লক্ষাধিক টাকারও বেশি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এখন প্রকাশ্য।

নতুন সংযোগের জন্য মিটারসহ ৫০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট দেয়ার কথা থাকলেও গ্রাহকদের কাছ আদায় করা হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৮০০ টাকা থেকে ২৫০০টাকা। যার মধ্যে মিটার প্রতি ৩০০ টাকা করে জমা পড়ছে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাকের ফান্ডে। আর বাকি টাকা বন্টণ হচ্ছে অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে।

শুধু তাই নয় কিলো ভেদে বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরির সংযোগ দিতে এর পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৩০ হাজার থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। বিশেষ করে শিল্প কারখানা, গভীর নলকূপ বা রাইস মিলে থ্রি ফেইজের লাইন নিতে গ্রাহকদের গুণতে হচ্ছে এর চেয়ে অনেক বেশি। যা ভূঞাপুরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সকলেই অবগত।

এছাড়াও সরকারিভাবে নতুন সংযোগের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় নতুন সংযোগ পেতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। গ্রাহকদের মাঝে প্রচলন আছে মোটা অঙ্কের টাকা ছাড়া কোন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়না।

২০১৭- ২০১৮ অর্থ বছরে গোবিন্দাসী তোতা মাস্টারের মোড় হতে গোবিন্দাসী মধ্যপাড়া পর্যন্ত নতুন লাইন নিতে ওই এলাকার গ্রাহক আব্দুল্লাহ মাস্টারকে গুণতে হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। যা অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে চলে যায় নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাকের হাতে। একই অর্থ বছরে চর অলোয়া থেকে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের যদুরগাতী পর্যন্ত ট্রান্সফর্মারসহ নতুন লাইন নিতে ওই এলাকার গ্রাহকদের গুণতে হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

যা ঠিকাদার আবদুর রহিম ও প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাকের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়। কিছুদিন আগে নলুয়া থেকে নিকরাইল রশিদের মিল পর্যন্ত ১১ টি খুঁটি দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। এ সংযোগ দিতে বিদ্যুৎ অফিস হাতিয়ে নিয়েছে ৭ লাখ টাকা। এ রকম উপজেলার ফলদা, পাঁচটিকড়ী, অলোয়া সিংগুরিয়াসহ প্রত্যেক এলাকাতেই নতুন লাইন নিতে লাখ লাখ টাকা গুণতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।

গোবিন্দাসী গ্রামের আব্দুল্লাহ মাস্টার বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে ঝামেলায় ছিলাম। এতো টাকা গেলে কি আর করার আছে তারপরও লাইন যে পেয়েছি এটাই সৌভাগ্যর।

যদুরগাতী গ্রামের খন্দকার বেলাল হোসেন বলেন, আমরা মেইন গোবিন্দাসীর লোকজন। তারপরও আমরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি, কোন কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে লাইনটি পেয়েছি। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলায় এমন অনিয়ম সত্যিই অবাক করার মতো।

এ দিকে প্রতিমাসে লাইন সংস্কার ও গাছ কাটা বাবদ বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে লাখ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও আকাশে মেঘ জমলেই লাইনে সমস্যার অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। রমজান চলমান।

গত কয়েকদিন ধরেই সেহেরির সময় মিলছেনা বিদ্যুৎ। মোমবাতি আর চার্জার লাইটের আলোতেই সারতে হচ্ছে সেহরি ও ইফতার খাওয়া। প্রচন্ড গরমে ব্যাপক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে রোজাদারদের।

রাউৎবাড়ী গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন পর পরই হাজার হাজার টাকা খরচ করে লাইন সংস্কার, গাছ কাটার জন্য বিদ্যুৎ সারাদিনব্যাপী বন্ধ রাখা হয়। তারপরও আকাশে একটুখানি মেঘ জমলেই বিদ্যুৎ লাপাত্তা। সেহেরিতে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ ছাড়াই সেহেরি খেতে হচ্ছে। একই অভিযোগ গোবিন্দাসী গ্রামের ফরিদুল ইসলাম বাবুরও। তিনি বলেন, এটা নতুন না আকাশে মেঘ জমলে আমরা ধরেই নেই আজ আর বিদ্যুৎ পাবোনা। গত কয়েকদিন ধরে সেহেরিতে মোমবাতি জ্বালিয়েই খাবার খেতে হচ্ছে। অফিসে সব চোর একখানে হয়েছে।

সরকারি সব আইনকানুনকে উপেক্ষা করে শতভাগ বিদ্যুতায়িত এ উপজেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাকের এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশ্যে রুপ নিলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। যা সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করছে। আবদুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে এ উপজেলায় কাজ করছেন বলে তার এ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাত্রা অনেকাংশে বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের লোকজন।

বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ভূঞাপুর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ব্যাংক ড্রাফট ৫০০ টাকা। আনুষাঙ্গিক খরচের কারণে টাকা বেশি নেয়া হয়। তবে খরচটা কি তা তিনি খোলাসা করে কিছু বলেন নি। এ ছাড়াও লাইন নেয়ার জন্য যে মোটা অঙ্কের টাকা লাগে সে বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষ টাকা দিয়ে লাইন নেয়ার জন্য এতো অস্থির হয় কেন? আস্তে আস্তে লাইন এমনিতেই হয়ে যাবে। আমরা কাউকে টাকা দেয়ার জন্য বলে দেই? এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

এদিকে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারের শতভাগ বিদ্যুতায়ন যেন কলুষিত না হয় সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ
আর এস/  ০১ জুন

টাঙ্গাইল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে