Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ , ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-৩১-২০১৯

রাজপালঙ্ক ঘরে, ডিসি ঘুমান ‘ফ্লোরে’

রাজপালঙ্ক ঘরে, ডিসি ঘুমান ‘ফ্লোরে’

মাগুরা, ০১ জুন- ষোড়শ শতাব্দীর ভূষণা রাজ্যের রাজা সীতারামের একটি পালঙ্ক মাগুরার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাংলোয় স্থানান্তারিত হয়েছে এমন খবরে বিব্রত জেলা প্রশাসন। মাগুরার জেলা প্রশাসক আলী আকবর আজ শুক্রবার আমাদের সময়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘পালঙ্কটি ৩০ বছর ধরে ডিসির বাংলোয় স্টোর রুমেই ছিল। সেটি এখনো সেখানেই আছে।’

পালঙ্কটিতে তিনি ঘুমান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, ‘পালঙ্কটিতে আমি ঘুমাই, এটি একটি হাস্যকর তথ্য। এটি ব্যবহারের উপযোগী নয়। তাছাড়া এটি যে সীতারামের পালঙ্ক, তার কী তথ্য-প্রমাণ আছে। অতীতের জেলা প্রশাসকরা যেভাবে এটিকে দেখেছেন, আমি একইভাবে দেখেছি। আমি কোনো পরিবর্তন করিনি।’

জানা গেছে, ১৬৮৬ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজসভা থেকে রাজা উপাধি লাভ করেন সীতারাম রায়। প্রতাপশালী এই রাজার রাজত্বের সীমারেখা ছিল উত্তরে পাবনা এবং দক্ষিণে সুন্দরবন পর্যন্ত। আর তার রাজধানী ছিল মাগুরার মহম্মদপুরে। কীর্তি হিসেবে যেখানে এখনো রয়েছে রাজপ্রাসাদ, কাঁচারি বাড়ি, দোলমঞ্চসহ আরও অনেক নিদর্শন। রাজত্বকালে তিনি গড়ে তোলেন অস্ত্র তৈরির কামারশালা। প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর রাজা সীতারাম রায়ের রাজপ্রাসাদ এবং দোলমঞ্চটিতে সংস্কার কাজ চালালেও কালের বিবর্তনে রাজপ্রসাদ থেকে হারিয়ে গেছে ব্যবহৃত মূল্যবান অনেক কিছুই।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজা সীতারামের অস্ত্র ভাণ্ডারের স্মৃতি হিসেবে কিছু তরবারি মহম্মদপুর থানায় পুলিশের মালখানায় রয়ে গেছে। আর যে পালঙ্কটিতে রাজা বিশ্রাম নিতেন, সেটি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে। নতুন ভবন নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের সুবিধার জন্যে প্রত্নতাত্ত্বিক এই নির্দশনটি ট্রেজারি থেকে কখনো রেকর্ড রুমের স্তুপে আবার কখনো জিম্মাখানার অন্যান্য অব্যবহৃত উপকরণের পাশে জায়গা পেয়েছে। সর্বশেষ অবস্থান ছিল, ট্রেজারি রুমের পাশে রেকর্ড রুমে দলিল দস্তবেজের মধ্যে।

মাগুরা জেলা প্রশাসনের নেজারত, ট্রেজারি ও রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি পালঙ্কটি মাগুরার এনডিসি রাজিব চৌধুরীর সহায়তায় জেলা প্রশাসকের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে রাজিব চৌধুরী বলেন, ‘সীতারামের একটি মূল্যবান পালঙ্কের কথা শুনেছি। কিন্তু এখন কোথায়, কীভাবে আছে সেটি আমার জানা নেই।’

তবে পালঙ্কটি দীর্ঘদিন রেকর্ডরুমে সংরক্ষিত ছিল বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইসাহাক আলী।

রেকর্ডরুমের বর্তমান দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, ‘রেকর্ড রুমে থাকলেও এখন নেই। কিন্তু কেন নেই, সেটিও জানা নেই।’

বিষয়টি নিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলী আকবর বলেন, ‘পালঙ্কটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসক বাংলোতেই রয়েছে। আমার আনার প্রশ্নই ওঠেনা। বরং এটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বিধায় আমি মেরামত ও রং করিয়েছি।’


পালঙ্কটি কেন জাদুঘরে পাঠানো হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, ‘আমার আগের জেলা প্রশাসক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরকে এটি গ্রহণ করার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু অদ্যাবধি তারা এটি গ্রহণ করেননি। এই মূল্যবান সম্পত্তিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ গ্রহণ না করলে আমি কি সেটা রাস্তায় ফেলে দেব? জেলা প্রশাসক হিসেবে সম্পদটি সযত্নে সংরক্ষণের স্বার্থেই আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।’

পালঙ্কে ঘুমানো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ডিসি বলেন, ‘ছাত্র জীবন থেকেই আমার ফ্লোরে ঘুমানো অভ্যাস। এখনো আমি ফ্লোরেই ঘুমাই। রাজার পালঙ্কে ঘুমানোর প্রশ্নই ওঠেনা।’

আর/০৮:১৪/০১ জুন

মাগুরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে