Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-৩০-২০১৯

আলোচনাই যেন আরিফের নিয়তি!

রফিকুল ইসলাম কামাল


আলোচনাই যেন আরিফের নিয়তি!

সিলেট, ৩১ মে- সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন আরিফুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, দেশের অন্যান্য সিটিতে যখন ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই মেয়র হিসেবে নির্বাচিত, তখন সিলেটে বিএনপি নেতা আরিফ বিরুদ্ধ স্রোতে লড়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রেই আছেন আরিফ।

আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে ২০১৩ সালে প্রথম দফায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। তখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেয়ার বছৃরখানেকের মধ্যে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় দুটি মামলায় অভিযুক্ত হন আরিফ। তাকে যেতে হয় কারাগারে। কারান্তরীণ আরিফকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে চলে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

মায়ের অসুস্থতার জন্য প্যারোলে মুক্ত হন আরিফ। প্যারোলের মেয়াদ শেষে ফের যেতে হয় কারাগারে। দুই বছরের কিছুটা বেশি সময় কারান্তরীণ থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আইনি লড়াইয়ে ফিরে পান মেয়র পদ। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনের জনসভায় বোমা হামলার মামলায়ও আরিফের নাম যুক্ত হয়। মামলার অভিযোগপত্রে নাম ওঠায় আরিফকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ফের আইনি লড়াইয়ে জিতে মেয়রের চেয়ারে বসেন আরিফ। এসব বিষয় নিয়ে তখন জল ঘোলা হয় অনেক। ‘বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে’ আরিফকে মামলায় ‘জড়ানো’ এবং তাকে ‘বরখাস্ত করা হয়’ বলে বিএনপি থেকে অভিযোগ ওঠে। তবে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে সে অভিযোগ উড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রথম দফায় মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য, সিলেট-১ আসনের তৎকালীন সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ঘনিষ্ঠজন হয়ে ওঠেন আরিফুল হক চৌধুরী। আরিফ বিরোধী বলয়ের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও সিলেটের উন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখে তাকে কাছে টেনে নেন মুহিত। এ বিষয়টিও ওই সময়ে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এছাড়া প্রথম দফায় নগরীর ছড়া-খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, ছড়া-খাল উদ্ধার, ছড়ায় স্পিডবোট চালানো, ফুটপাত হকারমুক্ত করা প্রভৃতি কারণেও আলোচনায় ছিলেন আরিফ।

গেল বছরের জুলাইয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের চতুর্থ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে ফের লড়েন আরিফুল হক চৌধুরী। সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি সেই একই, আওয়ামী লীগের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। একই সময়ে দেশের অন্যান্য সিটিতে আওয়ামী লীগের নেতারাই মেয়র পদে বিজয়ী হন, ভরাডুবি ঘটে বিএনপির প্রার্থীদের। কিন্তু সিলেটে চমক দেখিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হন আরিফ। এ নিয়ে সারাদেশেই আলোচনা হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে আরিফ সাংসদ ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে খুব বেশি সময় পাননি মুহিতকে। গেল বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, ছিলেন তাঁর ছোট ভাই ড. এ কে আব্দুল মোমেন। নির্বাচনে মোমেন বিজয়ী হন, পরে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এবার ড. মোমেনের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকেন মেয়র আরিফ। সিলেট সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন ও অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে তাঁর কাছে সহযোগিতা চান মেয়র। এজন্য মেয়র ছুটে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সিলেটস্থ বাসায়ও। বড় ভাইয়ের মতো আরিফকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ড. মোমেনও। মোমেন-আরিফ ‘কম্বিনেশন’ নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এ প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরীর বক্তব্য হচ্ছে, ‘সিলেট নগরীর উন্নয়নে আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সহযোগিতা আমি চেয়েছি, পেয়েছিও। এখন এ কে আব্দুল মোমেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, তার সহযোগিতাও প্রয়োজন। এখানে কে কোন দল করলেন, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে সিলেটের স্বার্থে আমরা সবাই এক।’

গেল ১৭ মে সিলেট জেলা প্রশাসনের ইফতার ছিল। ইফতারে বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকতারা আমন্ত্রণ পেলেও সে তালিকায় নাম ছিল না মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মেয়রকে ‘অবহেলা’ নিয়ে সিলেটে তখন আলোচনার ঝড় ওঠে।

গেল বছর একইদিনে রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে নির্বাচনে রাজশাহীতে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও খুলনায় তালুকদার আব্দুল খালেক নির্বাচিত হন। তাদের সাথে সিলেটে নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। লিটন ও খালেককে গত মঙ্গলবার (২৮ মে) প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে সরকার। এছাড়া ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামকে দেয়া পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা। কিন্তু আরিফের ‘ভাগ্যে জুটেনি কিছুই’।

আরিফ প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালেও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী কোনে মর্যাদা পান নি। এবার দ্বিতীয় মেয়াদেও এখনও পর্যন্ত এরকম কোনো মর্যাদা দেয়া হয়নি আরিফকে। তাকে ‘বঞ্চিত’ করার এই বিষয়টি নিয়ে এখন সরগরম সিলেট। নাগরিক সমাজ, সাধারণ মানুষ প্রায় সবাই-ই বলছেন, আরিফকে বিরোধী দলের রাজনীতিবিদ হিসেবে না দেখে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে বিবেচনা করে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হোক।

এ প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলছেন, ‘মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ার কোনো লোভ নেই আমার। আমাকে সিলেটের মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এতেই আমি খুশি। তবে অন্য সিটির মেয়ররা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারলে, সিলেটের মেয়র কি দোষ করলেন? এ বঞ্চনা আসলে পুরো সিলেটের।’

বিএনপি সরকারের আমলে ‘প্রতিহিংসা না করে’ আওয়ামী লীগের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা দেয়ার বিষয়টিও সামনে আনছেন আরিফ।

সর্বশেষ সিলেট জেলা প্রশাসনের ঈদ কার্ড পাওয়া-না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ফের আলোচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। গত বুধবার সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, সচিব মোহাম্মদ বদরুল হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের ঈদ শুভেচ্ছা কার্ড পান। কিন্তু মেয়র আরিফের নামে ছিল না কোনো ঈদ কার্ড। এ নিয়ে সিলেটে নানা কথার ফুলঝুরি ছুটতে থাকে। অবশেষে কাল বৃহস্পতিবার বিকালে মেয়র আরিফকে জেলা প্রশাসনের ঈদ শুভেচ্ছার কার্ড পৌঁছে দেয়া হয়।

সূত্র: সিলেটভিউ

আর/০৮:১৪/৩১ মে

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে