Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০১-২০১১

বিশ্ব এইডস দিবস আজ

বিশ্ব এইডস দিবস আজ
আজ বিশ্ব এইডস দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- 'গেটিং টু জিরো' অর্থাৎ নতুন এইচআইভি সংক্রমণ ও এইডস রোগীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ এবং এইডস সম্পৃক্ত মৃত্যু, এই তিনটি বিষয়ই শূন্যে নামিয়ে আনা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন এবং বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে এইডস প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর তুলনায় অনেক কম। এর প্রকোপ শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি আরো বলেন, এইচআইভি আক্রান্তের প্রতি সামাজিক বৈষম্য রোধ করতে হবে।

১৯৮৮ সালে আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটি গঠনের পর থেকেই ১ ডিসেম্বরকে বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির মধ্য দিয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এইডসের প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করা হয় লালফিতা বা রিবন। লালফিতার মাধ্যমে এইচআইভি/এইডস আক্রান্তদের প্রতি সহমর্মিতাসহ প্রতিরোধের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

বর্তমান বিশ্বে প্রতি বছরই প্রায় ২৭ লাখ মানুষ এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্ত হচ্ছে। ইউএন এইডসের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে আনুমানিক ১১ হাজার।

এদিকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে এইচআইভি পজিটিভ মানুষ, এইডস রোগী এবং এইডসজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। কয়েক হাজার মানুষ নিজের অজান্তে এইচআইভি জীবাণু বহন করছে এবং অন্যদের শরীরে ছড়াচ্ছে।
 
২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যন্ত ২ হাজার ৮৮ জন এইচআইভি পজিটিভ এবং ৮৫০ জন এইডস রোগী পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ২৪১ জন রোগী এইডসে মারা যায়।
 
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো: শিফায়েত উল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, 'বাংলাদেশে গোপনে ছড়িয়ে পড়ছে এইচআইভি বা এইডসের মরণ বিষ। অপবাদ, বৈষম্য, কুসংস্কার ও অবহেলার আশঙ্কায় নিজেদের অবস্থা প্রকাশ করে না আক্রান্তরা। এতে আক্রান্তদের প্রকৃত সংখ্যা চিহ্নিতকরণ ও প্রতিরোধ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কিন্ত থেমে নেই এইচআইভি বা এইডসের সংক্রমণ।

এভাবে চলতে থাকলে আগামী এক যুগের মধ্যে এইডস ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে, যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে উঠবে অসম্ভব। কারণ বাংলাদেশে এইচআইভি সংক্রমনের সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও উপাদান বিদ্যমান। সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন। এর ভয়াবহতা আজ গোটা বিশ্ববাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিভিন্ন দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে এইডস এর বিস্তার রোধে ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন।'

জাতীয় এইডস এবং এসটিডি প্রোগ্রামের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৮৮ জন এইচআইভি-পজিটিভ এবং ৮৫০ জন এইডস রোগী এবং ২৪১ জন এইডসে মারা যায়। ২০১০ সালে ৩৪৩ জন নতুন রোগী সনাক্ত করা হয় এবং ২৩১ জনের মধ্যে এইডস বিকাশ লাভ করে এবং ৩৭ জন মারা যায় বলে জানা গেছে। গত ২০০৯ সালে ২৫০ জন এইচআইভি-পজিটিভ এবং ১৪৩ জন এইডস রোগী এবং ৩৯ জন এইডসে মারা যায়।

এইচআইভি সনাক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন ব্যক্তি এইচআইভি আক্রান্ত কী না তা জানার একমাত্র উপায় হলো তার রক্ত পরীক্ষা করা। এইচআইভিতে আক্রান্ত হলেও একজন ব্যক্তি বহুদিন সুস্থ ও সবলভাবে বেঁচে থাকে এবং নিয়মিত কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারেন। এইচআইভি সংক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এভাবে পৃথিবীতে লাখ লাখ মানুষ নিজের অজান্তে এইচআইভি জীবাণু বহন করছে এবং অন্যের শরীরে এইচআইভি ছড়াচ্ছে।

এইচআইভি চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি শুরু করা যায় তত ভালো। দেরি করে চিকিৎসা শুরু করলে সেই চিকিৎসা কার্যকর হয় না। এ জন্য রক্ত পরীক্ষা করে দ্রুত এইচআইভি নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তি, ধনী বা গরীব, বিবাহিত বা অবিবাহিত যে কেউ এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারেন। কেউ যদি সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার না করে অনেকের সাথে যৌন মিলন করে থাকেন, অন্যের ব্যবহৃত সূঁচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করে থাকেন অথবা এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়নি এমন রক্ত গ্রহণ করে থাকেন তাহলে তার এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এছাড়া এইচআইভিতে আক্রান্ত মা থেকে তার সন্তানের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমিত হতে পারে। এ সব ক্ষেত্রে দ্রুত এইচআইভি পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সাধারণ মেলামেশা (হাত মেলানো, কোলাকুলি করা, স্পর্শ করা বা চুমু দেওয়া) করলে এইডস ছড়ায় না।

এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির সেবাযত্ন করলে, তার সঙ্গে বসবাস করলেও এইডস ছড়ায় না। শরীর থেকে নির্গত বিভিন্ন তরল পদার্থ যেমন- ঘাম, মুখের লালা, বমি বা মলমূত্র প্রভৃতি স্পর্শ, একই বাসনে খাবার খেলে বা একই গ্লাসে পানীয় পান, এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করলে এবং তার সঙ্গে একই ক্লাসে পড়াশোনা করলেও এইচআইভি ছড়ায় না। শুধু তাই নয়, একই পায়খানা ব্যবহার করলে, একই জলাশয়ে সাঁতার কাটলে বা একই পানির উৎস্য ব্যবহার করে গোসল করলে, মশা বা পোকা মাকড়ের মাধ্যমে এবং এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির তৈরি করা খাবার খেলেও এইচআইভি ছড়ায় না।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে