Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৯-২০১৯

চাই আলাদা শিক্ষা বাজেট

আতিউর রহমান


চাই আলাদা শিক্ষা বাজেট

কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসি' আয়োজিত উচ্চশিক্ষা বাজেট বিষয়ে এক আলোচনায় উপস্থিত ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। উদ্বোধক ছিলেন উপাচার্য ড. আকতারুজ্জামান। সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মোজাফ্‌ফর আহমদ চৌধুরী হলটিতে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মন্ত্রী তরুণদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রত্যাশা করেন বলে জানালেন। তবে তা কীভাবে নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে বললেন না। বক্তারা সুস্পষ্ট করেই উচ্চশিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বললেন।

আমরা জোর দিয়েই বলেছি যে, সামগ্রিক শিক্ষা খাতে এবং বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। যে হারে সামগ্রিক বাজেট বাড়ছে, সেই হারে উচ্চশিক্ষা বাজেট বাড়ছে না। আরও বলেছি, কর্মোপযোগী জনবল তৈরির জন্যই গুণমানের শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এটা অস্বীকারের উপায় নেই যে, টাকার অঙ্কে গত দশ বছরে শিক্ষা খাতে সরকারি ও বেসরকারি খরচ যথেষ্ট বেড়েছে। তবে পরিমাণ বাড়লেও শিক্ষার গুণমান নিয়ে আমাদের স্বস্তির তেমন অবকাশ নেই।

গত ২৭ মে বণিক বার্তায় সাইফ সুজন শিক্ষার গুণমান নিয়ে প্রাসঙ্গিক একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। তিনি লিখেছেন, এক দশকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বেড়েছে সর্বস্তরে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের হার। প্রাথমিক শিক্ষার্থী ভর্তির হার এখন প্রায় শতভাগ। ঝরে পড়ার হার কমেছে। তাই মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় জনআগ্রহ বেড়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায়। পাবলিকের পাশাপাশি শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন চালু রয়েছে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিঃসন্দেহে বেড়েছে। তার মানে শিক্ষার সংখ্যাগত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। তবে সর্বস্তরেই শিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ। দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থায় অদক্ষতা নিয়েই পাস করে বের হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে কর্মবাজারে তারা সুবিধা করতে পারছে না। শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করছে সরকার। শতাংশে না হলেও এ খাতে টাকার অঙ্কে বরাদ্দও বাড়ছে। মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই, উপবৃত্তি, স্কুল-ফিডিং প্রোগ্রাম- সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে। কিন্তু শিক্ষার মান ভালো না হওয়ায় এসব বিনিয়োগের সুফল পাচ্ছে না দেশ। কারিগরি জ্ঞানের অভাব ও দক্ষতার ঘাটতির কারণে দেশে ও বিদেশে শিক্ষিত এই জনগোষ্ঠীর যথেষ্ট কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। দেশে যথেষ্ট দক্ষ কারিগরি জনবল তৈরি না হওয়ার কারণে বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীলতা রয়েই যাচ্ছে। প্রচুর বিদেশি মুদ্রা চলে যাচ্ছে দেশ থেকে। অন্যদিকে দেশ থেকে পাস করা প্রচুর স্নাতক বেকার থেকে যাচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা নিয়ে বের হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। জাতীয় এক জরিপ বলছে, পঞ্চম শ্রেণির ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীই গণিতে দুর্বলতা নিয়ে বের হচ্ছে। মাধ্যমিকেও একই দুরবস্থা। অষ্টম শ্রেণির অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত মানের দক্ষতা নেই। উচ্চ মাধ্যমিকেও তথৈ অবস্থা। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় 'খ' ইউনিটের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মাত্র ১১ শতাংশ পাস নম্বর তুলতে পেরেছে। 'গ' ইউনিটে এ হার ছিল ৫.৫২ শতাংশ। বাণিজ্যে মাত্র ১০ শতাংশ ইংরেজিতে পাস করেছে।

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ শিক্ষা তেমন কোনো কাজেই আসছে না। সরকারের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৬.৭৭ লাখ। এদের মধ্যে ১০.৪৩ লাখই ছিল উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। বিশ্বব্যাংকের 'বাংলাদেশ স্কিলস ফর টুমরোস জবস' প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরু থেকেই অক্ষরজ্ঞান ও গাণিতিক হিসেবের সক্ষমতার অভাবে পরবর্তীকালে আর দক্ষতা অর্জন করে উঠতে পারছে না। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার নিম্নমুখী মানের কারণে তাত্ত্বিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। এর ফলে পরবর্তী সময়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কার্যকরভাবে দক্ষতা উন্নয়নের প্রচেষ্টাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। দক্ষতার এই ঘাটতির কারণে চাকরিপ্রার্থীরা চাকরিদাতাদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না। এই প্রতিবেদনে শিক্ষার যে দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা থেকে বের হওয়ার উপায় কী? জাতীয় বাজেট কি এসব প্রশ্নে উদাসীন থাকবে? এই প্রতিবেদনেই দুটি উপায়ের কথা বলা হয়েছে।

চাই ভালো ও যোগ্য শিক্ষক :আমাদের শিক্ষক তৈরির অবকাঠামো বড়ই দুর্বল। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তবে সেই ব্যয় যেন ভালোভাবে মনিটর করা হয়। প্রশিক্ষণ এ জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখনও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩০ শতাংশ শিক্ষকের কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ নেই ('ব্যানবেইস')।

অবকাঠামোর অভাব :এখনও দশ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ভবনে অবস্থিত। ছাত্রছাত্রীদের জন্য এসব ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ৩০ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কোনো বিজ্ঞানাগার নেই। 

আকারে বড় হলেও ভিত দুর্বল আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতে, শিক্ষার মানের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ১৩০টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ৭৭তম। ভারত ২৭তম। শ্রীলংকার অবস্থান ৩৮, পাকিস্তান ৬৬, নেপাল ৭০। ব্যানবেইস বলছে, শিক্ষা খাতে ব্যয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ সবার পেছনে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিক্ষা বাজেট জিডিপির ৬ শতাংশ হওয়ার কথা। আর তা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ হওয়ার কথা। অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যয় ২ শতাংশের সামান্য বেশি। শিক্ষা বাজেট মোট বাজেটের ১৫ শতাংশের নিচে। আফ্রিকার অনেক দেশেও এর চেয়ে বেশি। তাই জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

এই বাস্তবতায় আমাদের শিক্ষা বাজেট, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা বাজেট নিয়ে 'আউট অব বক্স' চিন্তা করার সময় এসে গেছে। গতানুগতিক উপায়ে শুধু অর্থ খরচ করলেই টেকসই উন্নয়নের জন্য যে ধরনের উপযুক্ত জনবল আমাদের চাই, তা এই শিক্ষাব্যবস্থা দিতে পারবে না। এ কথাটি শুরুতেই মেনে নেওয়া ভালো। একেবারে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষার শুধু সংখ্যাগত প্রবৃদ্ধি না ঘটিয়ে কী করলে তা টেকসই উন্নয়নের উপযোগী হতে পারে, সে বিষয়ে গভীর বিচার-বিশ্নেষণ ও সমাধান সূত্র সন্ধানের দাবি রাখে। সে জন্য আংশিক উদ্যোগ যথেষ্ট হতে পারে না। শিক্ষা নিয়ে সামগ্রিক চিন্তা-ভাবনা ও তার গুণগত মান রক্ষার জন্য উপযুক্ত অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। আর সে জন্য হালে দাবি উঠছে যে, শিক্ষা খাতের জন্য আলাদা বাজেট উপস্থাপন করা হোক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই উপস্থাপনায় আমিও তেমন প্রস্তাব করেছিলাম। তার চার দিন আগে ২১ মে সমকালে সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্তও 'পৃথক শিক্ষা বাজেট কি হতে পারে না?' শিরোনামে একই ধরনের প্রস্তাব রেখেছিলেন। বরিশালে আঞ্চলিক শিক্ষক সমিতির আলোচনার সূত্র ধরে তিনি লিখেছেন, 'অতীতে যেমন পার্লামেন্টে রেলের জন্য পৃথক বাজেট উপস্থাপন করা হতো, তেমনভাবে শিক্ষার জন্যও পৃথক বাজেট উপস্থাপন করা হোক। এটা অযৌক্তিক বলে মনে হয় না। বর্তমানে দেশে ছাত্রছাত্রী পাঁচ কোটিরও বেশি। ধনবান থেকে দিনমজুর এমনকি ভিখারির পরিবারেও মিলবে বিদ্যালয়গামী ছাত্রছাত্রী। একসময় শিক্ষা ছিল মূলত অতি মেধাবী ও ধনবান পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট। কিন্তু এখন শিক্ষা সবার জন্য উন্মুক্ত ও মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত।

"মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর 'অদম্য মেধাবী' শব্দ সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়। হতদরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা না খেয়ে থাকতে রাজি; কিন্তু পড়াশোনা ছাড়তে রাজি নয়।" অজয় দাশগুপ্তের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমিও একমত। আর এই শিক্ষা চাহিদা সৃষ্টির পেছনে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের আয়-রোজগার বেড়ে যাওয়ার কারণটি সক্রিয়, অন্যদিকে বর্তমান সরকারও নানা উপবৃত্তি, মায়েদের জন্য বিশেষ ভাতা, স্কুল-কলেজ নির্মাণে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে 'সরবরাহ বাড়িয়ে চাহিদা' তৈরির কাজটিও ত্বরান্বিত করেছে। শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ নিঃসন্দেহে বেড়েছে। তবে ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকতা, দক্ষতা ও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ কতটা বেড়েছে, সে বিষয়ে যথার্থ প্রশ্ন তুলেছেন অজয় দাশগুপ্ত। তিনি আরও আলো ফেলেছেন 'শিক্ষায় সুশাসন' প্রসঙ্গটির ওপর। অনেক স্কুল এখন কেন মেধাবী শিক্ষার্থী উপহার দিতে পারছে না? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একজন প্রাজ্ঞ প্রধান শিক্ষকের জবানিতে তিনি জানিয়েছেন, 'এখন যে ম্যানেজিং কমিটি রয়েছে, তার সদস্যদের যদি আগের আমলে দায়িত্ব দেওয়া হতো, তাহলে ফল মোটেও ভালো হতো না। কথা বলতে বলতে প্রবীণ এ শিক্ষকের কণ্ঠ ভারি হয়ে আসে; চোখ ছলছল করে।' তিনি আরও লিখেছেন, স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীদের কারণে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত-অপমানিত হন। প্রশাসনে মেধাবীরা যুক্ত হলেও ঘুষ-দুর্নীতি আর শিক্ষকদের অপমান করার প্রবণতা কমছে না। শিক্ষা খাতের প্রতিটি স্তরে এই যে 'গভর্ন্যান্স' সমস্যা বিরাজ করছে, সে কারণেও উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। সে জন্যও শিক্ষার মান উন্নত করা যাচ্ছে না। অথচ গুণমানের শিক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য- যেমন দারিদ্র্য নিরসন, স্বাস্থ্য ও উন্নত জীবন নিশ্চিতকরণ, জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণ, পেশাগত উৎকর্ষ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শান্তি, ন্যায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে, গুণমানের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে এসবের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। উচ্চশিক্ষাসহ সব স্তরের শিক্ষার সামগ্রিক বিস্তার এবং তার গুণমান সুরক্ষার জন্যই সরকারকে আলাদা করে শিক্ষা বাজেট প্রণয়ন ও উপস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছি। এ বছর বাজেটের কাঠামো বদলানো হয়তো মুশকিল হবে। তাই আগামী দিনের জন্য এ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি। এ বছর অন্তত 'জেন্ডার বাজেট'-এর মতো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে 'শিক্ষা বাজেট' উপস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছি। শুধু বাজেট বরাদ্দই নয়, বরাদ্দকৃত এই অর্থ স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এড়িয়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনাও যেন এই বাজেটে থাকে, সেই আহ্বানও জানাচ্ছি।

শুরু করেছিলাম উচ্চশিক্ষার বাজেট নিয়ে। শেষও করতে চাই এই বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা দিয়ে। আশার কথা এই যে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার, সরকারের পঞ্চবার্ষিক ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় শিক্ষার মান বাড়ানো এবং শিক্ষা সম্পর্কিত অবকাঠামো ও শিক্ষক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নই হবে শিক্ষা তথা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের প্রধান প্রধান উপায়। সর্বশেষ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বাজেটের মোট বরাদ্দের সাড়ে ১৪ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষা খাতে ১.২৫ শতাংশের মতো বরাদ্দ করা হয়েছিল। নিঃসন্দেহে উভয় বরাদ্দই দক্ষিণ এশিয়ার বিচারেও বেশ নিচে। এ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন বাড়লে মানব শক্তি উন্নয়ন যেমন ঘটে, সার্বিকভাবে শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটে। তাই উচ্চশিক্ষা ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মাঝে মেলবন্ধন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে।

টেকসই উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে তাই আমরা সুনির্দিষ্ট এই প্রস্তাবনাগুলো রাখতে চাই :

উচ্চশিক্ষার জন্য উল্লেখযোগ্য হারে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি (অন্তত জিডিপির ৪ শতাংশ)।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে কার্যকরী সংযোগ স্থাপন।

কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান ও আওতা আরও দ্রুত বৃদ্ধি করা।

বেসরকারি খাতকে সহায়ক ভূমিকায় সংযুক্ত করা। এ খাতের সিএসআর আইনের আওতায় এনে তার একটা অংশ উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে ব্যয় করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উচ্চশিক্ষা অর্জন ও জ্ঞান চর্চার জন্য আর্থিক সাহায্য ও প্রণোদনা প্রদান।

গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হারে অর্থায়ন করা। এ জন্য আলাদা করে বরাদ্দ দেওয়া।

উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মাঝে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি ও তাদের কাজের উপযোগী পরিবেশ প্রদান ও কাঠামোগত সহায়তা প্রদান। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী ল্যাব ও উদ্যোক্তা তৈরি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য বিশেষ তহবিল সৃষ্টি করা হোক। 'স্টার্টআপ' সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হোক।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সংশ্নিষ্ট সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক সহায়তা প্রদান। বিশেষ করে গবেষণা ও জনশক্তি প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়কে সংযুক্ত রাখা চাই।

পরিশেষে আমরা বলতে চাই, দেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধির জন্য সুচিন্তিত ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। বাজেট বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি, সক্ষম জনশক্তির অভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা। এই তিনটি বাধা দূর করতে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা সমন্বয় ঘটিয়ে বাজেট পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হলে এসব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা অনেকটাই সম্ভব। 

এন এ/ ২৯ মে

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে