Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৯ , ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৭-২০১৯

সুনামগঞ্জে ১০০ কোটি টাকার কয়লা নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সুনামগঞ্জে ১০০ কোটি টাকার কয়লা নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সুনামগঞ্জ, ২৭ মে- শুরু হওয়ার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় ভারত থেকে কয়লা আমদানি। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন সুনামগঞ্জের পাঁচ শতাধিক আমদানিকারক। প্রায় একশ কোটি টাকার লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। 

এছাড়া কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন তিনটি শুল্ক স্টেশনের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক। বন্ধ হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও হয়নি কোনো মীমাংসা। এতে করে সরকার প্রতিবছর হারাচ্ছে ২শ কোটি টাকা রাজস্ব।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, বাগলি, চারাগাঁও এ তিনটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে নব্বই দশকের শুরুর দিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হয়। টানা দুই দশকে লাভজনক কয়লা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন সুনামগঞ্জের হাজার খানেক ব্যবসায়ী।

কর্মসংস্থান হয় প্রায় ১৫-২০ হাজার শ্রমিকের। ২০১৪ সালে ভারতের মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশগত ক্ষতির কথা বিবেচনা করে কয়লা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেই দেশের ‘ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যাল’। এরপর সেদেশের রফতানিকারকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েক দফা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উত্তোলিত কয়লা রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে আদালত। 

প্রায় সাত মাস কয়লা আমদানি বন্ধ থাকার পর গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তিনটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে ফের কয়লা আমদানি শুরু হয়। কিন্তু ২৫ দিনের মাথায় ১৫ জানুয়ারি থেকে আবার হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় কয়লা আমদানি।

এ ব্যাপারে কয়লা ব্যবসায়ী তারেক আহমদ বলেন, প্রায় একশ কোটি টাকার লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিয়ে বিপাকে পড়েছি আমরা। ব্যাংক ঋণ, ধার দেনা করে এলসি খুলে কয়লা আমদানি করতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। সরকার যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা বেঁচে থাকতে পারবো। 

কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন, কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কোটি টাকা দিয়ে এখন বিপাকে আমরা। আমাদের পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক। মানবেতন জীবনযাপন করছেন তারা।

বড়ছড়া শুল্ক স্টেশনে কাজ করা শ্রমিক নিরঞ্জন দাশ বলেন, আমরা এখন পথে বসে গেছি। কোনো কাজ কাম নাই। দুই বেলা খাওন ঠিকমতো হয় না। এখানে কয়লা যতদিন তুলছি আমাদের পরিবার নিয়া সুখে শান্তিতে ছিলাম, কিন্তু এখন আমাদের পথ অন্ধকার।

সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপল বলেন, কয়লা আমদানির জটিলতা কাটাতে ভারতে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। আমরা সর্বাত্মক যোগাযোগ রাখছি। ব্যবসায়ীরা বর্তমানে লোকসানে আছেন তাদের কথা চিন্তা করেই আমরা চাই তিনটি শুল্ক স্টেশন খুলে দেয়ার জন্য। তিনটি শুল্ক স্টেশন বন্ধ হওয়ায় প্রতিবছর সরকার প্রায় ২শ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্র: জাগো নিউজ
এমএ/ ১০:৫৫/ ২৭ মে

সুনামগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে