Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৯ , ৪ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৭-২০১৯

টাকা ছাড়া হাসপাতালের ট্রলিও মেলে না

আহমেদ জামিল


টাকা ছাড়া হাসপাতালের ট্রলিও মেলে না

সিলেট, ২৭ মে- নজিরবিহীন অনিয়মের জাঁতাকলে সিলেটের কোটি মানুষের চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসাপতাল। রয়েছে জনবল সংকট ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম। নার্স ও কর্মচারীদের বেপরোয়া আচরণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা। অতিরিক্ত রোগী ও দর্শনার্থীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট।
এসব সিন্ডিকেট চক্রের মধ্যে কেউ ওষুধ পাচারে, কেউ টেন্ডার বাণিজ্যে, কেউ দালালিতে, কেউবা গেট-বাণিজ্যে আবার কেউ ট্রলি বাণিজ্যে ব্যস্ত। নানা সমস্যা ও সংকটের মধ্যেও অভিযোগ পিছু ছাড়ে না চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালে চাকরি করে অনেকেই হয়েছেন কোটিপতি। রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার অন্তরালে রয়েছে হাসপাতাল কেন্দ্রিক বাণিজ্য। 

সিলেট বিভাগের উন্নত চিকিৎসার সবচেয়ে বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ১৯৩৬ সালে ইনস্টিটিউট হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই হাসপাতাল ১৯৪৮ সালে ২০০ শয্যার মেডিকেল স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৬২ সালে উন্নীত হয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ১৯৮৬ সালে এমএজি ওসমানীর নামে নামকরণ করা হয় এই হাসপাতালের। বর্তমানে কাগজেপত্রে এর শয্যা সংখ্যা ৯০০। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা থেকে ৯০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন। এরপর দীর্ঘ ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও শুধুমাত্র খাবার এবং ওষুধ ছাড়া বাকি সবকিছুই ৫০০ শয্যার অনুপাতেই আছে। 

জানা গেছে, প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা হাসপাতালে থাকলেও রোগীর সংখ্যার তুলনায় তা খুবই কম। ল্যাব টেকনিশিয়ান আর অপারেটরের অভাবে বেশিরভাগ সময়ই রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য যেতে হয় বাইরে। ৫০০ আবাসিক রোগীর জন্য থাকা রোগ নির্ণয় যন্ত্রগুলোর সেবা দিতে হয় দুই হাজারের বেশি রোগীকে, তাই অধিকাংশ পরীক্ষা রুমের সামনে দেখা যায় লম্বা লাইন। এই বিলম্ব এড়াতে রোগীরাও ঝুঁকছেন প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর দিকে। 

এছাড়া তিন বছর ধরে বিকল ছিল এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন। জানা গেছে, হাসপাতালে থাকা একমাত্র এমআরআই যন্ত্রটি ২০১৬ সালের ২০ জুন থেকে অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল। একই বছরে নষ্ট হয় সিটিস্ক্যান মেশিনটিও। ফলে পরীক্ষার জন্য রোগীদের যেতে হয় বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। তবে চলতি মাসের ১৮ তারিখ এ দুটি মেশিন মেরামত করা হয়েছে।

এছাড়া একটি আইসিইউ সুবিধার আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলেও বিগত দশ বছরে হাসপাতালে যুক্ত হয়নি নতুন কোন অ্যাম্বুলেন্স। পুরোনোগুলোকেই জোড়া তালি দিয়ে চলছে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। মোট ৭টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে চালু আছে চারটি। এর মধ্যে আছে চালক সংকটও। 

তবে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইউনুছ রহমান জানান, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনটি অচিরেই চারতলা থেকে দশ তলা হবে। নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া জাইকার অর্থায়নে একটি পনেরো তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। খুব শিগিগিরই লোকবল সংকটও কেটে যাবে বলে আশাবাদী তিনি। তিনি বলেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠব। 

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত রোগীর কারণে তিলধারণের ঠাঁই নেই। ৫০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছেন দুই হাজারেরও অধিক রোগী। এর মধ্যে কেউ হয়তো চিকিৎসা পাচ্ছেন, কেউ আবার বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছেন দিনের পর দিন। কাগজে-কলমে ৯০০ শয্যার হাসপাতালে ৫০০ শয্যার অনুপাতে চিকিৎসক-নার্স ও কর্মকর্তা কর্মচারীর সংকট রয়েছে। জনবল সংকট নিরসনে হাসপাল কর্তৃপক্ষ যতবার উদ্যোগ নিয়েছে ততবারই বিতর্কিত হয়েছে। 

সর্বশেষ কয়েকটি পদে জনবল নিয়োগে প্রায় দুই কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে ‘কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এক বছরের জন্য জনবল নিয়োগের দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে এই লেনদেন করে চলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দেয়া লাগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বছরের ১৫ মে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে হাসপাতালে জনবল সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩১ জুলাই ও ৮ আগস্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় ৭ শতাংশ কমিশনে ঢাকার বাসাবো পূর্ব মাদারটেকের ‘কৃষ্ণা সিকিউরিটি সার্ভিস’লিমিটেডের দাখিলকৃত দরপত্রটি গৃহীত হয়। গত ১৯ আগস্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে হাসপাতালে ৪ জন বাবুর্চি, ৪ জন সিকিউরিটি গার্ড, ৪৩ জন অফিস সহায়ক এবং ৩১ জন ক্লিনারসহ মোট ৮২ জন কর্মচারী নিয়োগের নির্দেশ দেন তৎকালীন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক। 

হাসাপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) জানান, ৫০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে অনুমোদিত ২৮৮ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২০৬ জন। বাকি ৮২টি পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন দুইজন। বাকি ৫টি পদ শূন্য। ৭৩৩ জন নার্সের অনুমোদন থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ৬৩০ জন। নার্সের পদ শূন্য রয়েছে ১০৩টি। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৫৪২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৭৩ জন। বাকি ১৬৯টি পদ খালি রয়েছে। আর ৯০০ শয্যার হাসপাতাল অনুপাতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সসহ আরো ৭৯৪ জন জনবল দরকার বলে জানান তিনি। 

অপারেশন থিয়েটারে গলাকাটা ব্যবসা:

ভর্তি রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল হলেও বছরজুড়েই সেবা কার্যক্রম থেমে নেই। প্রতি বছর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হাজার হাজার অস্ত্রপাচার করা হয় হাসপাতালটিতে। কিন্তু অপারেশন রোগীদের নিয়ে গলাকাটা ব্যবসা করছেন কতিপয় চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ডবয়। তাদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটে জিম্মি সাধারণ রোগীরা। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পতন ঊষা এলাকা থেকে দগ্ধ ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন হাসমত উল্ল্যাহ। চিকিৎসক অপারেশন শেষ করে যাওয়ার পর নার্স কিছু ওষুধের নামের একটি তালিকা ধরিয়ে দেন। খুঁজতে খুঁজতে কোথাও না পেলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের অভ্যন্তরে ন্যায্য মূল্যের ফার্মেসী থেকে ওষুধ গুলো নিয়ে আসেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের দুটি অপারেশন থিয়েটার ঘিরে চলছে রমরমা বাণিজ্য। অধিকাংশ নার্স ও ওয়ার্ডবয় মিলে গড়ে ওঠেছে একটি সিন্ডিকেট। তাদের সঙ্গে রয়েছেন কতিপয় কিছু চিকিৎসক। এই চক্রটি বাইরের ফার্মেসীগুলোর সঙ্গে আঁতাত করে অস্ত্রপঁচারের রোগীদের আনা অতিরিক্ত ওষুধপত্র বিক্রি করেন। এমনকি কয়েকটি ওষুধ হাসাপতালের অভ্যন্তরে ন্যায্যমুল্যের ফার্মেসী ছাড়া মিলে না। আর অন্য কোথাও মিললেও সেটা অপারেশন থিয়েটারে গ্রহণ করা হয় না। একই অবস্থা ২য় তলার লেবার ওটি রুমে। সেখানে চলছে রমরমা বাণিজ্য। 

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইউনুছ রহমান বলেন, আমি এখানে আসার আগে এ বিষয়গুলো কানে এসেছে। যারা অনিয়ম করছে তাদের তথ্যও আমার কাছে এসেছে। কিছুদিনের মধ্যে আমি ব্যবস্থা নেব। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, অনেকের অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের সেবাদান থেমে নেই। 

টেন্ডার বাণিজ্য:

নজিরবিহীন টেন্ডার বাণিজ্য চলছে সিলেটের সবচেয়ে বড় সরকারি সেবাদাতা এ প্রতিষ্ঠানে। ২০০৬ সালের পর থেকে ২টি ক্যান্টিন, একটি ন্যায্যমূল্যের ফার্মেসী ও পার্কিংয়ের জন্য টেন্ডার প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবছর টেন্ডারের মাধ্যমে লিজ দেয়ার কথা রয়েছে। হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারির আধিপত্যে একযুগ ধরে ভোগ করে যাচ্ছেন একটি মহল। দীর্ঘদিন থেকে একজনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় রোগীদের খাবারের মান নিয়ে প্রশ্নে উঠেছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে হাসপাতালের বাইরের ক্যান্টিন লিজ নেন সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রকিব বাবলু, ন্যায্যমূল্যের ফার্মেসী লিজ নেন মেসার্স মাছুম ট্রেডার্স ও বাইরের পার্কিং লিজ নেন স্থানীয় কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকির ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া ২০০৯ সালে ৫ম তলার স্টাফ ক্যান্টিন লিজ নেন মোস্তফা আহমদ। 

লিজ নেয়ার পর থেকে বছরের পর বছর মেয়াদ শেষ হলেও নতুন টেন্ডারের খবর বাইরে আসে না। কৌশলে টেন্ডার প্রকাশ করে এক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে দেয়া হয়। এমন অনিয়মের সঙ্গে যোগসাজেশ রয়েছে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। 

জানা গেছে, একযুগ আগে ন্যায্যমূল্যের ফার্মেসী লিজ নেয়া মেসার্স মাছুম ট্রেডার্সের মালিকানায় অংশদারিত্ব রয়েছে নাসের্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমদের। অনেকটা প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার প্রকাশ না করেই লিজের মেয়াদ বাড়িয়ে ব্যবসা করছে মাছুম ট্রেডার্স। 

সূত্র জানায়, হাসাপাতলের অর্থপেডিক্স বিভাগের রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘পাত’ওই ফার্মেসী থেকে বাধ্যতামূলকভাবে নিতে হয়। অন্য কোনো ফার্মেসী থেকে নিলে চিকিৎসক ও নার্সরা সেটা গ্রহণ করেন না। বাইরে থেকে এই পাতের টুকরো ৩/৪ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এই পাত বিক্রি করেই অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছেন। 

স্টাফ ক্যান্টিনের মালিক মোস্তফা জানান, আমি বিএমএ’র সঙ্গে আলাপ করে এটা চালাচ্ছি। তারা যাকে ভালো মনে করবে তাকে দেবে। এখানে টেন্ডারের কিছু নেই। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক মিয়া। মাছুম ট্রেডার্সের মালিক তিনি নন জানিয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেন। 

তবে হাসাপতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইউনুছ রহমান জানান, এ বিষয়টা আমার নজরে আছে। আমি তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি। হাসপাতালের বাইরের ক্যান্টিন নিয়ে হাইকোর্টের একটি রিট রয়েছে। আগামী নভেম্বরে তাদের মেয়াদ শেষ হবে। এরপর থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সর্বোচ্চ দাতা প্রতিষ্ঠানকে লিজ দেয়া হবে। 

এছাড়া পার্কিং বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আলাপ করেছি। ওসমানী ফাঁড়ি পুলিশকেও বলেছি। কোনো রোগী গাড়ি নিয়ে এসে এক টাকাও যাতে পার্কিংয়ের জন্য না দেয়। তিনি বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে আমি এ বিষয়গুলো নিয়ে অভিযানে নামবো। 

নার্সিং অ্যাসেসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক মিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওকে আমি নজরে রাখছি। কিছু দিনের মধ্যে হাসপতাল প্রশাসনে ওর আর কোনো প্রভাব থাকবে না।

হাসপাতালের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০০৮ সালে বর্হিঃবিভাগে সেবা নিয়েছেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২৭০ জন, আবাসিক চিকিৎসা নিয়েছেন ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৭২১ জন ও জরুরি সেবা নিয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৬৮জন। 

২০০৯ সালে বর্হিঃবিভাগে সেবা নিয়েছেন ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫৭ জন, আবাসিক সেবা নিয়েছেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮১জন ও জরুরি সেবা নিয়েছেন ৯১ হাজার ৯৮৬ জন। ১০ বছর পর সেবা গ্রহীতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। 

২০১৮ সালে বর্হিঃবিভাগে সেবা নিয়েছেন ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫শ জন, আবাসিক সেবা নিয়েছেন ৭ লাখ ২১ হাজার ৩২৭ জন ও জরুরি সেবা নিয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৪ জন। আর চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বর্হিঃবিভাগে সেবা পেয়েছেন ৩ লাখ ২৬ হাজার ২৯৭ জন, আবাসিক সেবা নিয়েছেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩১ জন ও জরুরি সেবা পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫৩৬ জন। বছর শেষে গতবারের চেয়ে সেবা গ্রহীতার সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

১০ বছরের ব্যবধানে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ হলেও বাড়ছে না সেবার মান। হাসপাতালে বেড থাকা সত্বেও রোগীদের থাকতে হচ্ছে বারান্দায়। অনেক সময় টাকা দিয়ে মিলে না হাসপাতালের সিট। 

বিষয়টি নিয়ে হাসাপতালের পরিচালক বলেন, আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষপাতিত্ব বা দালালদের দৌরাত্মেই এমন হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারে ভিন্ন। ৫০০ শয্যা থেকে ৯০০ শয্যায় উন্নীত হলেও গেল ২০ বছরে ৯০০ শয্যার খুব কম সুবিধাই পেয়েছে হাসপাতালটি। 

তিনি বলেন, আমাদের শয্যা রয়েছে ৯০০টি। এর মধ্যে পেয়িং বেড রয়েছে ২২৪টি। আর কেবিন রয়েছে ৪৬টি। পেয়িং বেডে রোগী রাখলে আমাদের টাকার হিসাব চলে আসে। তাই অনেক সময় পেয়িং বেড খালি থাকলেও রোগী দেয়া হয় না। অনেক সময় টাকা দিয়ে রোগী বেড পায় না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমার জানা নেই। এজন্য যদি কেউ জড়িত থাকে তাহলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

সূত্র: ডেইলি-বাংলাদেশ 
এনইউ / ২৭ মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে