Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ , ৮ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৫-২০১৯

শীর্ষে নর্থ সাউথ, দ্বিতীয় ব্র্যাক

শীর্ষে নর্থ সাউথ, দ্বিতীয় ব্র্যাক

ঢাকা, ২৫ মে- দেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর র‌্যাংকিং করার উদ্দেশ্যে একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। ২০১৯ সালে করা র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। দ্বিতীয় স্থানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১০১টি প্রাইভ্টে ইউনিভার্সিটি রয়েছে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো এই ইউনিভার্সিটিগুলোকে একটি র‍্যাংকিংয়ের আওতায় আনা। ৬৫টি ইউনিভার্সিটিকে এই গবেষণার আওতাভুক্ত করা হয়নি। এরমধ্যে ৪১টি ইউনিভার্সিটিতে এখনও কোনও সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি, ১২টি ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রভর্তি-প্রক্রিয়ায় ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, ৮টি  ইউনিভার্সিটিতে এখনও শিক্ষা-কার্যক্রম শুরু হয়নি, ৩টি ইউনিভার্সিটি বিশেষায়িত ইউনিভার্সিটি  হিসেবে পরিচিত এবং একটিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ হাজারের নিচে থাকায় এসব ইউনিভার্সিটিকে বাদ দিয়ে বাকি ৩৬টির মধ্যে র‍্যাংকিংয়ের গবেষণাটি পরিচালিত হয়। ফ্যাকচুয়াল, পারসেপচুয়াল ও এই দু’টির স্কোরের সমন্বয়ে চূড়ান্ত র‍্যাংকিং নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পন্ন করা হয়। এই গবেষণার সমন্বিত ফলে দেখা গেছে, প্রথম স্থানে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, দ্বিতীয় স্থানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, তৃতীয় স্থানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, চতুর্থ স্থানে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, পঞ্চম স্থানে আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ষষ্ঠ স্থানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সপ্তম স্থানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, অষ্টম স্থানে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নবম স্থানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ও দশম স্থানে দ্য ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক রয়েছে।

ফ্যাকচুয়াল স্কোর নির্ণয়ে বিবেচ্য হয়েছে, শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা, গবেষণায় খরচ ইত্যাদি। এই তথ্যগুলো নেওয়া হয়েছে সরাসরি ইউনিভার্সিটিগুলোর কাছ থেকে। যেসব ইউনিভার্সিটি তথ্য সরবরাহ করেনি, কেবল সেসব ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্ড কমিশনের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফ্যাকচুয়াল তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ফ্যাকচুয়াল র‍্যাংকে সবার শীর্ষে অবস্থান করছে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, তৃতীয় স্থানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, চতুর্থ স্থানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস ও পঞ্চম স্থানে আছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ।

পারসেপচুয়াল স্কোরগুলো নেওয়া হয়েছে অ্যাকাডেমিক (ডিন, বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক, রেজিস্ট্রার) ও চাকরিদাতাদের কাছ থেকে। তারা বিভিন্ন সূচকে নিজেদের স্কোর দিয়েছেন। যেমন, শিক্ষার পরিবেশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, শিক্ষকদের মান, চাকরিক্ষেত্রে পাস করা শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা ইত্যাদি। পারসেপচুয়াল র‍্যাংকে দেখা যায়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সবার শীর্ষে অবস্থান করছে। এছাড়া দ্বিতীয় স্থানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, তৃতীয় স্থানে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, চতুর্থ স্থানে আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

ফ্যাকচুয়াল স্কোরে সেরা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, তিনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি:

‘ফ্যাকচুয়াল স্কোর’ করা হয়েছে কয়েকটি ক্যাটাগরির ওপর। যেমন­ মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা, লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা, গবেষণা ব্যয়, পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা, ক্যাম্পাসের আয়তন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত, পূর্ণকালীন শিক্ষকের হার, গবেষণাপত্রের সংখ্যা।

এসব ক্যাটাগরিতে দেখা যায়, গবেষণা ব্যয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। তাদের বাৎসরিক গবেষণায় ব্যয় ৪৮.২৩ কোটি টাকা। যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ব্যয় করেছে ৭.৬৬ কোটি টাকা। এছাড়া ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ব্যয় করেছে ৫.০৪ কোটি টাকা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যয় ৪.৩৪ কোটি টাকা। শীর্ষ পাঁচের পাঁচ নম্বরে থাকা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির গবেষণা ব্যয় ৩.৯৮ কোটি টাকা।

গবেষণাপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে  ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা  ৫৩৪টি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা  ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রকাশনার সংখ্যা  ৩২৩টি। তৃতীয় স্থানে থাকা  নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রের সংখ্যা  ২৯৩টি। এই তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে যথাক্রমে  ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস ও  সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, যাদের গবেষণাপত্রের সংখ্যা যথাক্রমে  ২৭৫ ও  ২৪৯টি।

শিক্ষার্থী সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। তাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০ হাজার ২৫ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, তাদের রয়েছে ১৮ হাজার ২৯০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া শিক্ষার্থী সংখ্যায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে রয়েছে সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, শিক্ষার্থীসংখ্যা-১১ হাজার ৯৩৫ জন, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, শিক্ষার্থীসংখ্যা-১০ হাজার ২৭৯ জন ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, শিক্ষার্থীসংখ্যা-৯ হাজার ৭৬২ জন।

লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যার দিক থেকে এবার শীর্ষে আছে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম। তাদের লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬১০টি। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের লাইব্রেরিতে আছে ৬০ হাজার ৬৭৮টি। নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৯৯০টি। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৯৯৮টি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ৫২ হাজার ৭৬৯টি।

শিক্ষার মান ও গবেষণার মান নিশ্চিত করার জন্য পিএইচডিপ্রাপ্ত শিক্ষকের গুরুত্ব রয়েছে ইউনিভার্সিটিতে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা  ৪০৩ জন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে ১৯৫ জন, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ১৭০ জন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে রয়েছেন ১৫৩ জন, এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডিপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা ১৩৪ জন।

মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণে শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সূচকে শীর্ষে আছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ১০.৯৭ : ১। ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা) এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে। তাদের ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত ১৩.৮৬: ১। এই তালিকায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে যথাক্রমে গ্রিন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে  প্রত্যেক শিক্ষকের বিপরীতে ছাত্রসংখ্যা ১৪ জনেরও বেশি।

অন্যদিকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পূর্ণকালীন শিক্ষকের হারে সেরা পাঁচের মধ্যে থাকতে পারেনি কয়েকটি শীর্ষ ইউনিভার্সিটি। এই তালিকায় শীর্ষে আছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি। এই প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন শিক্ষকের হার ৯৬.৪১% (পূর্ণকালীন ৩০৬ জন, খণ্ডকালীন ১১ জন)। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি। এই প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন শিক্ষকের হার ৯০.৩৩% (পূর্ণকালীন ৩০০ জন, খণ্ডকালীন ২৯ জন)। তৃতীয় স্থানে থাকা আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এই হার ৮৯.২৬% (পূর্ণকালীন ৩৬৩ জন, খণ্ডকালীন ৩৯ জন)। ৮২.৭৫% পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, যাদের পূর্ণকালীন শিক্ষকের সংখ্যা ২৫৫ জন ও খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা ৪৪ জন। এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছে আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। যেখানে পূর্ণকালীন শিক্ষকের হার ৮১.১২% (পূর্ণকালীন ৪৮২ জন, খণ্ডকালীন ৯১ জন)।

পারসেপচুয়াল স্কোরে এগিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি:

পারসেপচুয়াল ডাটা দু’টি উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে। প্রথমত, অ্যাকাডেমিক; দ্বিতীয়ত চাকরিদাতা।

ক. শিক্ষকদের ধারণা জরিপ: এই জরিপে অংশগ্রহণ করেন ইউনিভার্সিটির ডিন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্ট্রার ও সিনিয়র শিক্ষকরা। শিক্ষকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের ধারণামতে ‘শিক্ষা ও কাজের পরিবেশ, অবকাঠামো–শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, ল্যাব ও অন্যান্য সুবিধা, শিক্ষকদের দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের মান ও পাসকৃত শিক্ষার্থীদের মান’ এসব মানদণ্ডে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কোর কেমন। তাদের দেওয়া স্কোর অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচ ইউনিভার্সিটি হচ্ছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।

শিক্ষকরা ছয়টি মানদণ্ডেই ঘুরেফিরে এই পাঁচটি ইউনিভার্সিটিকেই সেরা পাঁচে রেখেছেন।

এরমধ্যে শিক্ষা ও কাজের পরিবেশের মাণদণ্ডে শীর্ষ পাঁচের ক্রম হচ্ছে—১. নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ২. আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ৩. ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ৪. ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি ৫. ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।

সার্বিক সুখ্যাতির মানদণ্ডের বিচারে পাঁচটি ইউনিভার্সিটি হচ্ছে যথাক্রমে, নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, আহসানউল্লাহ, ইস্ট-ওয়েস্ট ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি।

শিক্ষকদের দক্ষতার মানদণ্ডে দেশের সেরা পাঁচটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হচ্ছে যথাক্রমে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি।

অবকাঠামোর বিচারেও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সেরা। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ  ইউনিভার্সিটি  হচ্ছে যথাক্রমে আহসানউল্লাহ, ইস্ট ওয়েস্ট ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি। এই মানদণ্ডে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান পাঁচ।

পাস করা মানের দিক থেকে দেশের সেরা পাঁচটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হচ্ছে যথাক্রমে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, আহসানউল্লাহ, ইস্ট ওয়েস্ট, ইন্ডিপেনডেন্ট এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। অন্যদিকে, কেমন ছাত্রভর্তি করা হচ্ছে এই মানদণ্ডে শীর্ষ পাঁচ ইউনিভার্সিটি হচ্ছে নর্থ সাউথ, আহসানউল্লাহ, ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, ইন্ডিপেনডেন্ট ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

খ. চাকরিদাতাদের ধারণা জরিপ: ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের চাকরি দেয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপকরা। ছয়টি মানদণ্ডে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্কোর দিতে বলা হয়। এই ছয়টি মানদণ্ড হচ্ছে, শিক্ষাদানে ইউনিভার্সিটির  খ্যাতি, চাকরিক্ষেত্রে পাস ব্যক্তিদের পারফরম্যান্স, উত্তীর্ণদের  উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা, যোগাযোগ ক্ষমতা, টিমওয়ার্ক ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা। প্রাপ্ত স্কোর থেকে দেখা যায়, চাকরিদাতারা সবক’টি মানদণ্ডে যথাক্রমে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, আহসানউল্লাহ ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিকে শীর্ষ পাঁচে রেখেছেন।

২০১৭ সালের র‍্যাংকিংয়ের তুলনায় যা যা পরিবর্তন হয়েছে

২০১৭ সালের র‍্যাংকিংয়ের সঙ্গে এ বছরের র‍্যাংকিংয়ের তুলনা করলে দেখা যায়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিকে পেছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে এসেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। ফ্যাকচুয়াল স্কোরে বিশ্ববিদ্যালয়টি শীর্ষস্থানে না থাকলেও পারসেপচুয়াল স্কোরে নর্থ সাউথ শীর্ষে রয়েছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরও পারসেপচুয়াল স্কোরে প্রথম হয়েছিল।

এ বছরে নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত স্কোরে পার্থক্য খুব কম। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ফ্যাকচুয়াল স্কোরে সামান্য ব্যবধানে এবারও প্রথম হয়েছে; যেখানে গত বছরের র‍্যাংকিংয়ে ব্র্যাক উল্লেখযোগ্য স্কোর পার্থক্যে প্রথম হয়েছিল। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি গত বছরের সপ্তম অবস্থান থেকে এ বছর তিন নম্বর অবস্থানে চলে এসেছে। এটা সম্ভব হয়েছে ফ্যাকচুয়াল স্কোরে উন্নতির কারণে। এরপরের অবস্থানগুলোতে আছে ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি লিবারেল আর্টস অব বাংলাদেশ ও এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি । এই ইউনিভার্সিটিগুলো গত বছরের র‍্যাংকিংয়েও প্রথম দশের মধ্যেই ছিল।

প্রথম দশের সবক’টি ইউনিভার্সিটিই ৬০-এর বেশি স্কোর (মোট স্কোর ১০০) পেয়েছে, যেখানে ২০১৭ সালের র‍্যাংকিংয়ে সেরা দশে থাকতে ৫৬.৪৭ স্কোর-ই যথেষ্ট ছিল। সেরা বিশের বাকি দশটি অবস্থানে থাকা (১১ থেকে ২০) ইউনিভার্সিটিগুলো স্কোর পেয়েছে ৫০ থেকে ৫৯-এর মধ্যে। ড্যাফোডিল গত বছরের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়েছে আর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল এগিয়েছে এক ধাপ। এ বছরই র‍্যাংকিংয়ে প্রথম যুক্ত হওয়া চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি তালিকায় ১১ নম্বর অবস্থানে এসেছে।

মূলত ফ্যাকচুয়াল স্কোরে ভালো করার কারণে গ্রিন ইউনিভার্সিটি গত বছরের র‍্যাংকিংয়ের তুলনায় আট ধাপ সামনে এসেছে; অন্যদিকে সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি এগিয়েছে যথাক্রমে সাত ও ছয় ধাপ। অন্যান্য ইউনিভার্সিটির মধ্যে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও মানারাত ইউনিভার্সিটি সামান্য কয়েক ধাপ সামনে এগিয়েছে। অন্যদিকে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলভমেন্ট অলটারনেটিভ ও নর্দান ইউনিভার্সিটি কয়েক ধাপ পিছিয়েছে।

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে উপদেষ্টা কমিটির তত্ত্বাবধানে। কমিটির সদস্যরা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিসটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের অধ্যাপক ড. আজমেরি খান, ওআরজি কোয়েস্টের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনজুরুল হক, বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, প্রথম আলোর হেড অব রিপোর্টার শরিফুজ্জামান পিন্টু, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী সাঈদ আহমেদ।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আর এস/ ২৫ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে