Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৩

বাগেরহাট– জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা ও সমাধান


	বাগেরহাট– জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা ও সমাধান
বাগেরহাট, ১৩ সেপ্টেম্বর- একটা নিম্নচাপ বা লঘুচাপ অথবা টানা বৃষ্টি হলেই শুনতে হয় বাগেরহাটের একটা বড় অংশ পানির নিচে চলে গেছে, আজ থেকে দশ বছর আগেও আমরা দেখিনি বা শুনিনি অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বাগেরহাটের কোন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কিন্তু এখন বৃষ্টি না হলেও বাগেরহাটের মেইন রোড, রাহাতের মোড় , কাজী নজরুল ইসলাম রোড, হাড়িখালি, বাসাবাটি এমন কি মহাসেন ঝড়ের সময় শুনেছিলাম আমলাপাড়া সোনাতলাও পানিতে তলিয়ে গেছে; আমি জীবনে প্রথম বন্যা দেখি ১৯৯৮ সালে তাও বাগেরহাটে না, ঢাকায়। বাগেরহাটে কখনই বন্যা বা জলাবদ্ধতার সমস্যা ছিল না। কিন্তু গত দশ বছর ধরে এই সমস্যা বেড়েই চলেছে। বাগেরহাটের বাইরের মানুষ এই সমস্যার কথা শুনলে চিন্তা করবে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জন্য পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। হ্যাঁ এইটা একটা কারণ কিন্তু একমাত্র কারণ না ।
বাগেরহাট সদর সহ অন্যান্য উপজেলার বেশির ভাগ খালের মুখে স্লুইস গেট তৈরি করার কারণে সেই সব খাল মারা গেছে, সেই সব খালে পানিও ঢোকানো হয় নিজেদের সুবিধা মত ফলে আগে জোয়ার বা বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত পানি যা এই সব খাল দিয়ে প্রবাহিত হত তা আর হয় না, পানি নেমে যাওয়ার জায়গা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বাগেরহাট অঞ্চলে সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক পুকুর এখন আর নাই সেগুলি ভরাট করে সেই সব স্থানে দালান কোঠা তৈরি করা হয়েছে, এইসব পুকুরেও বৃষ্টির পানি জমা হত। শুধু বাগেরহাট সদরেই আমার জানামতে কোর্ট মসজিদের পুকুর, পি টি আইয়ের পুকুর, মিঠা পুকুরের সামনের পুকুর, রেল রোডে মমতাজ হোটেলের পেছনে আবু কাজির পুকুর ভরাট করা হইছে। খালের মধ্যে নাগের বাজার থেকে দুইট, মাঝি ডাঙ্গার দুইটি, দশানির মধ্যে একটি, রহিমাবাদের একটি, মরগার হাটের খাল, চাঁপাতলার আগের খাল এরকম আরও অসংখ্য খালের গভীরতা অনেক কমে গেছে বা মারা গেছে , রামপালের দিকে যাওয়ার পথে যে নদী বা খাল গুলি পড়ে তা বেশিরভাগই মারা গেছে। এই অবস্থা শুধু বাগেরহাট বা রামপালের নয় মংলা, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, কচুয়া, মোল্লারহাট, চিতলমারি, ফকিরহাটের সব খাল বা নদীর অবস্থাই একইরকম। হয় মারা গেছে অথবা গভীরতা যাওয়ার কারণে পানির প্রবাহ কমে গেছে। যার ফলে বেশি বৃষ্টি হলে বা জোয়ারের সময় নদীর কাছাকাছি নিম্নাঞ্চল পানির নিচে চলে যায় , জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গ্রামের পর গ্রাম পানির নিচে চলে যাচ্ছে।
এছাড়াও মাছের ঘের করার জন্য নদীর তীরবর্তী জমিতে ভেড়ীবাধ দেওয়া হয় যার ফলে জোয়ারের সময় আগে এই সব জমি পানির নিচে চলে যেত আবার ভাটার সময় পানি নেমে যেত, জমিতে রেখে যেত পলি মাটি যা জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতো। এখন জোয়ারের সময় পানি যাওয়ার কোন জায়গা না পেয়ে উপচে পড়ছে। মাটির উর্বরতাও কমে গেছে। নদী বা খালের উপর অপরিকল্পিত ভাবে ব্রিজ নির্মাণও মরে যাওয়ার একটি কারণ। বাগেরহাট সদর সহ অন্যান্য উপজেলায় অনেক ব্রিজ নির্মিত হয়েছে কিন্তু নদী বা খালের নাব্যতা রক্ষায় পরে আর কোন পরিকল্পিত ভাবে ড্রেজিং করা হয়নি ফলে এইগুলি তাদের নাব্যতা হারিয়েছে। শহরঞ্চলে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকাও জলাব্ধতার একটি বড় কারণ। এই কারণে আমাদের উচিত এখনি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা যেমন শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা, যে সব খাল মরে গেছে সেগুলি খনন করা, স্লুইচ গেট যদি দিতেই হয় তবে কিভাবে দিলে এবং কিভাবে তা ব্যবহার করলে জলাবদ্ধতা হবে না তা ঠিক করে সেই ভাবে পরিচালনা করা, যে সব নদী এবং খালের উপর ব্রিজ থাকার কারণে নাব্যতা কমে গেছে সেইগুলি ড্রেজিং করা, পুকুর ভরাট না করা তা সরকারী হোক আর ব্যক্তি মালিকানাধীন হোক।
এই কাজগুলি যদি খুব দ্রুত না করা হয় তবে জলাবদ্ধতার সমস্যা বাড়তেই থাকবে। বাগেরহাট জেলা পানির নিচে চলে যেতে খুব বেশি দিন সময় নেবে না।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে