Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ , ৮ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৩

হজে পাঠানোর নামে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


	হজে পাঠানোর নামে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুমিল্লা, ১৩ সেপ্টেম্বর- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আবদুর রহিম নামের এক দালালের বিরুদ্ধে হজে পাঠানোর কথা বলে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করা হলেও ভুক্তভোগীদের হজ্বে যাওয়ার বিষয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। দালাল আবদুর রহিম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ছুপুয়া গ্রামের আলী আজমের ছেলে। আদালতের মামলা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রহিম প্রকাশ রহমান ঢাকার পুরানা পল্টনস্থ �মেসার্স মাসুদ ট্রাভেলস্ এন্ড ট্যুরস্� এর পরিচয়ে চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষকে হজ্বে নেয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে টাকা আদায় করে আসছে। ২০১২ সালে বিভিন্ন জন থেকে টাকা আদায়ের পর সে অফিসে জমা না দেয়ায় ২০ জন ব্যক্তি হজ্বে যেতে পারেনি। চলতি বছর হজ্বে পাঠাবে বলে বকেয়া টাকা আদায় করলেও হজ্বে যাওয়ার তালিকায় তাদের নাম নেই। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারক আবদুর রহিম (পাসপোর্ট নং-এফ ০২৮২৩২৪) হজ্বে নেয়ার কথা বলে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন জন থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরমধ্যে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া ইউনিয়নের নেতড়ার মমিন মিয়ার আড়াই লাখ, মুন্সিরহাটের খিরণশালের লোকমান হোসেনের সাড়ে তিন লাখ, ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুরের মাস্টার ইব্রাহিম দুই লাখ সত্তর হাজার, গোরাগোরা গ্রামের ডাঃ আবদুল কাইয়ুম মাসুমের পনের লাখ টাকা, শ্রীপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুরের তাজুল ইসলাম ডিলার দুই লাখ চল্লিশ হাজার, কুমিল্লার কনেশতলার মাওলানা আলী আহমদ সাত লাখ, চান্দিনার জসিম উদ্দিন চার লাখ বিশ হাজার, মাদারীপুর জেলার শিবচরের বাকেরকান্দি গ্রামের মোয়াজ্জেম তালুকদারের আট লাখ টাকা রয়েছে। এদের অনেকেই নিজ ও আত্মীয় স্বজনকে হজ্বে পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলেনবলে অবিযোগে উল্লেখ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারণার কারণে �মেসার্স মাসুদ ট্রাভেলস্ এন্ড ট্যুরস্� কর্তৃপক্ষ তাকে মারধর ও লাঞ্চিত করে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম থেকে বহিস্কার করেন। বর্তমানে সে পুরানা পল্টনের প্যান ব্রাইট ট্রাভেলস্ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হজ্বে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ইতোপূর্বে সে আরও কয়েকটি ট্রাভেলসের মাধ্যমে হজ্বে পাঠানোর নামে দুর্নীতি করায় বেশ কয়েকবার লাঞ্চিত হয়। সে বর্তমানে কুমিল্লা মহানগরের হাউজিং স্টেট এলাকার ব্লক এইচের সেকশন একের ২নং বাড়িতে বাস করে। ভুুক্তভোগী চিওড়া ইউনিয়নের নেতড়া গ্রামের মমিন মিয়া, খিরণশালের লোকমান হোসেন অভিযোগ করেন, �গত বছর হজ্বে নেয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নেয় রহিম। তাদেরকে ভিসার ফটোকপি, বোর্ডিং পাস দিয়ে এহরামের কাপড় পরিয়ে ঢাকায় নিয়ে যায়�। কিন্তু ওই অফিসে গিয়ে জানা গেছে, রহিম কোন টাকা জমা দেয়নি। চলতি বছর সে হজ্বে পাঠাবে বললেও তালিকা নাম না আসায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেছেন। ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের মাস্টার ইব্রাহিম বলেন, �একই সালে রহিমকে দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা দিই। খোঁজ নিয়ে জেনেছি- সে অফিসে টাকা জমা দেয়নি। এবার নিবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু তালিকা নাম না দেখে হতাশ হয়ে টাকা আদায়ের জন্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছি�। একই ইউনিয়নের গোরাগোরা গ্রামের ডাঃ আবদুল কাইয়ুম মাসুম বলেন, ৬ জন আত্মীয় স্বজনকে ২০১২ সালে হজ্বে নেয়ার কথা ছিল, সেজন্য রহিমকে পনের লাখ টাকা দিই। গতবার নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের হজ্বে নেয়নি। তার প্রতারণার কারণে এবারও তাদের হজ্বে যাওয়া হলো না। সে আমাকে পনের লাখ টাকার একটি চেক দেয়। কিন্তু ব্যাংকে গিয়ে টাকা পাওয়া যায়নি। সেজন্য তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কুমিল্লা আলীয়া মাদ্রাসার প্রভাষক লাকসামের মোশারফ হোসেন জানান, তিনিসহ দুইজনের জন্য গত বছর রহিমকে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। হজ্বে না নেয়ায় টাকার জন্য তার কাছে অনেকবার ধর্ণা দিয়ে হয়রানী হয়েছি। এবার আমরা ভিন্নভাবে হজ্বে যাচ্ছি। হজ্ব থেকে ফিরে এসে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। কুমিল্লার চান্দিনার জসিম উদ্দিন বলেন, রহিম ২০১২ সালে হজে পাঠানোর জন্য তার দুই আত্মীয় মোতালেব ও খবির হোসেন থেকে চার লাখ বিশ হাজার টাকা নেয়। এবারও তাদেরকে হজ্বে পাঠাতে পারেনি। টাকার জন্য তার সাথে যোগাযোগ করলে সে আজ বা কাল দিবে বলে হয়রানি করছে। অভিযুক্ত আবদুর রহিম প্রকাশ রহমান বলেন, �বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের হজ্বের ভিসা হয়নি। এখনও অনেকের ভিসা হবে বলে তিনি দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে পাওনাদাররা আদালতে একাধিক মামলা করেছেন। মামলায় বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। যারা টাকা পাবেন, তাদেরকে কিছু কিছু দিয়ে সময় নিয়েছি। অফিসে টাকা জমা না দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণার বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি�। ঢাকার পুরানা পল্টনস্থ মাসুদ ট্রাভেলস্ এন্ড ট্যুরসের মালিক আবু সায়েমের মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার ফোন করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তার ভাই মোঃ টিপু জানান, আবদুর রহিম নামের জনৈক ব্যক্তি আমাদের অফিসের কেউ না। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে কোন আপত্তি নেই।

কুমিল্লা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে