Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯ , ১০ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৯-২০১৯

রোজা মানুষের জন্য কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে

মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব


রোজা মানুষের জন্য কেয়ামতের দিন সুপারিশ করবে

রমজানের রোজা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রমজানের মহত্ব ও গুরুত্ব বর্ণনা করে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘রমজান মাস- যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে, যা আদ্যোপান্ত হেদায়েত এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী সম্বলিত; যা সঠিক পথ দেখায় এবং সত্য-মিথ্যার মধ্যে চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

রাসুল (সা.) রমজান মাস আসার দুইমাস আগে থেকে রমজানের প্রস্তুতি শুরু করতেন। রজব মাস থেকেই রমজান মাস পাওয়ার জন্য দোয়া করতে থাকতেন। রমজান মাস ঘনিয়ে আসলে সাহাবাদের সুসংবাদ দিতেন, ‘রমজানের প্রথম রাতে দুষ্ট শয়তানকে শৃঙ্খলিত করে দেওয়া হয়। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কল্যাণের প্রতি আহবান করা হয় এবং অকল্যাণকে বিতাড়িত করা হয়। রমজানের প্রতি রাতেই অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ৬৮২)

অন্য আরেক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের কাছে রমজানের বরকতময় মাস উপস্থিত হয়েছে। আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য পূর্ণ মাস রোজা রাখা ফরজ করেছেন। এ মাসে আল্লাহ এমন একটি রাত দান করেছেন, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ হতে বঞ্চিত হলো- সে বঞ্চিত। এ মাসের প্রত্যেক নফল ইবাদতে অন্য মাসের ফরজের সমপর্যায়ের সাওয়াব, আর প্রত্যেক ফরজ ইবাদতে অন্য মাসের সত্তর গুণ সাওয়াব। এটি ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের ফল হলো জান্নাত। এ মাস পরষ্পর সম্পীতির মাস। এ মাসে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়। রোজাদার ব্যক্তিকে একটি খেজুর বা এক গ্লাস পানি দিয়ে হলেও ইফতার করালে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে। (শুআবুল ঈমান, হাদিস নং: ৩৩৩৬)

রোজা জান্নাত লাভের পথ
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে, যার নাম ‘রাইয়ান’। কেয়ামতের দিন রোজাদাররাই শুধু ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। অন্য কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোযাদাররা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে এবং ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। যখন তাদের প্রবেশ শেষ হবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে তারা ব্যতীত অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বোখারি, হাদিস নং: ১৭৯৭)
 
একবার আবু হুরায়রা (রা.) আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অতি উত্তম কোনো নেক আমলের নির্দেশ দিন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘তুমি রোজা রাখো। কারণ এর সমমর্যাদার আর কোনো আমল নেই।’ (সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং: ২৫৩৪)

রোজা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়
হাদিসে এসেছে, ‘রোজা হলো ঢাল ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার মজবুত দুর্গ।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৯২১৪)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একদিন রোজা রাখবে আল্লাহ তার থেকে জাহান্নামকে এক খরিফ (সত্তর বছরের) দূরত্বে সরিয়ে দেবেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৭৬৯)

রোজা আল্লাহর ভালোবাসা লাভের উপায়
হজরত নবী করিম (সা.) বলেন, ‘ওই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহতায়ালার কাছে মেশকের ঘ্রাণ হতেও প্রিয়।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৭৯০

হাদিসে কুদসিতে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম, তা শুধু আমার জন্য, আমিই তার প্রতিদান দেব।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ২৭৬০)
 
অন্য হাদিসে এসেছে, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ। একটি হলো, ইফতারের সময়। অন্যটি তার প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।’ (মুসলিম. হাদিস নং: ১১৫১)

রোজা হাশরের দিন সুপারিশ করবে
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন কেয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলা তাকে পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। কোরআন বলবে হে প্রতিপালক! আমি তাকে রাতে বিনিদ্র রেখেছি, তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৬৬২৬)

এমএ/ ১১:৪৪/ ১৯ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে