Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৮-২০১৯

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া

ঢাকা, ১৮ মে- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বলে দাবি করেছে দলটি। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেছেন, কারাগারের দূষিত পরিবেশে খালেদা জিয়ার জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সর্বশেষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনসুলিন ব্যবহারের পরও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। এরই মধ্যে তার মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। জাউ খেয়ে কোনোরকমে জীবনধারণ করছেন।

এছাড়া অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগছেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে জমিরউদ্দিন বলেন, একজন বর্ষীয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে, তা খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর অসুস্থতায় উপলব্ধি করা যায়। কারাগারে কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষণ্ণতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার শঙ্কা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মারাত্মক জীবনবিনাশী জীবাণু দ্বারা ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার আশঙ্কাও প্রবল হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও কারাগারের পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রায় ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শূন্যতা দেখা দিয়েছে, যা তার হাড়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী বলছেন, খালেদা জিয়া আয়েশ করে পায়েস খাচ্ছেন। তিনি অসুস্থতার নামে নাটক করছেন। দেশের একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের বিদ্রুপ ও রসিকতা করে আসছেন, তা নজিরবিহীন। এ ধরনের দৃষ্টান্ত সভ্য দেশ ও সমাজে বিরল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বক্তব্য একজন বন্দির মানবাধিকার অবজ্ঞার শামিল এবং এ বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতায় স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রূপই ফুটে ওঠে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ইতঃপূর্বে খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। লন্ডনে চোখের অপারেশনও করেছেন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যাসাপেক্ষ রোগী। প্রকৃত ও যথাযথ সেবার অভাবে ক্রমান্বয়ে তিনি ঘাড়, মেরুদণ্ড ও নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তার এই দীর্ঘকালীন অসুস্থতা কেবল দীর্ঘকাল চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ও নিয়োজিত ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরই ভালোভাবে জানা আছে। নতুন কোনো চিকিৎসকের পক্ষে একনজরে ও এক নিমিষে যা অনুধাবন ও নির্ণয় করা একেবারেই অসম্ভব। গভীর উদ্বেগের বিষয়, খালেদা জিয়ার কোনো সাজাই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা সম্পূর্ণরূপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী।

জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, সরকারের লোকজন শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার যথাযথ সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে আসছেন। বরং সম্প্রতি সরকার নিয়োজিত চিকিৎসক দল যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে এক বছর আগে ব্যক্ত সব অনুমান ও শঙ্কা অক্ষরে অক্ষরে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারের সুচিকিৎসার দাবি সাম্প্রতিক মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট বিন্দুমাত্র সমর্থন করছে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, খালেদা জিয়া কোনোদিনই কারাগার থেকে বের হবেন না। প্রধানমন্ত্রী দেশে এসে সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন। এরই মধ্যে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ কিসের জন্য এবং কার জন্য করা হচ্ছে, তা জনগণের বুঝতে বাকি নেই। অশুভ উদ্দেশ্যেই কারাগারে আদালত বসানো হচ্ছে।

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার পছন্দনীয় হাসপাতালে সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, দেশনেত্রীর অসুস্থতার যাতে চরম অবনতি না ঘটে, সেজন্য তাকে অবশ্যই বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করান, যা অত্যন্ত জরুরি।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এটি মেনে নেয়া হবে না। এটি মানবতাবিরোধী কাজ।

‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব না, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে’- বারবার এমন বক্তব্য দেয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং দ্রুত মুক্তির বিষয় নিয়ে এখানে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমরা আজ এর মধ্যেই থাকতে চাই।

আন্দোলন না করে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি জানালে ক্ষমতাসীন দল ব্যবস্থা নেবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয়, সে ব্যবস্থা আমরা একসময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি অসুস্থ, তার চিকিৎসা দরকার। এজন্য তার মুক্তি দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে