Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২০ মে, ২০১৯ , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১২-২০১৯

প্রধানমন্ত্রী, ভেজাল খাদ্যরোধে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন

প্রধানমন্ত্রী, ভেজাল খাদ্যরোধে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন

ঢাকা, ১২ মে- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশনার আদেশের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, সরকার ও সরকারি দল এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি-যেন সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল, তেমনি ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রয়োজনে ভেজাল খাদ্যরোধে জরুরি অবস্থা ঘোষণারও অনুরোধ জানাচ্ছি।

আজ রোববার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশকালে এসব পর্যবেক্ষণ দেন।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে শুধু রমজান মাসেই অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সারা বছরই অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত। খাদ্যপণ্যের ভেজাল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের শুধু নিজেদের কর্মকর্তা মনে না করে, দেশপ্রেমিক নাগরিক ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা থেকে দায়িত্ব পালন করা উচিত।

আদালত আরো বলেন, যদিও এই জাতীয় বিষয়ে হাইকোর্টের নিয়মিত দেখা উচিত নয়। কারণ, এর জন্য যথাযথ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কিন্তু এরকম অবস্থায় হাইকোর্ট কিছু না করেও বসে থাকতে পারে না। তাই ভেজালরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি।

আদালত বলেন, হাইকোর্ট সরকার ও নির্বাহী বিভাগের কাজের অগ্রাধিকার কী হবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারেন না। কিন্তু খাদ্যে ভেজালরোধের বিষয়টিকে এক নম্বরে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলো। ভেজালের বিষয়ে আর কোনো আপস  কিংবা ছাড়া দেওয়া হবে না বলেও আদালত তার আদেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এরপর বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রয় বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম ও বিএসটিআইয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান শুনানি করেন।

গত ৯ মে বিএসটিআইর পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২ পণ্য জব্দ করে বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং এসব পণ্য উৎপাদন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রিটে বিবাদী করা হয়।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত বিএসটিআই ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালকের নিচে নন এমন দুজন কর্মকর্তাকে তলব করেন, যার ধারাবাহিকতায় আজ রোববার আদালতে হাজির হন বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াজুল হক এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক ড. সহদেব চন্দ্র সাহা।

গত ৩ ও ৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, বিএসটিআই সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য নিম্নমানের ও ভেজাল রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে বিএসটিআই।

সুত্র : এনটিভি
এন এ/১২ মে

আইন-আদালত

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে