Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১২-২০১৯

দুই মাসের মধ্যে রাইড শেয়ারিংয়ের নীতিমালা

সাব্বির আহমেদ


দুই মাসের মধ্যে রাইড শেয়ারিংয়ের নীতিমালা

ঢাকা, ১২ মে- বাংলাদেশ রাইড শেয়ারিংয়ের যুগে প্রবেশ করেছে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। তারপরও এ বিষয়ে নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। গত বছর এ বিষয়ে একটি নীতিমালা হলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। ফলে নীতিমালাহীনতায় এক ধরনের নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় পৌঁছেছে রাইড শেয়ারিং।

দুর্ঘটনা ও অপরাধে জড়িয়েছে রাইড শেয়ারিংয়ের চালকরা। উবার ট্যাক্সি কারে ধর্ষণ, পাঠাও মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মতো একাধিক ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন বিস্তর অভিযোগ তুলছেন ব্যবহারকারীরাও।

এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, মাস দুয়েক বা তার চেয়েও কম সময় লাগতে পারে রাইড শেয়ারিং নীতিমালা কার্যকর করতে।

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বিআরটিএর ব্যর্থতাকেই প্রধান করে দেখছেন। নীতিমালা তৈরিতে বিশেষজ্ঞ মত না নেওয়ায় পুনরায় পর্যালোচনা করে কার্যকরের নির্দেশনা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে এ পর্যন্ত দুটি বৈঠকের কথাও জানা গেছে। আরও দুটি বৈঠক শেষে চূড়ান্ত হবে নীতিমালার কিছু বিষয়।

পর্যালোচনা কমিটির একজন সদস্য বুয়েটের অধ্যাপক গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘রাইড শেয়ারিং যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা সেভাবে হয়নি। এ জায়গায় সরকারের দুর্বলতা দেখেছি।’ তা ছাড়া বিআরটিএতে রাইড শেয়ারিংয়ের পূর্ণাঙ্গ সেল গঠন করে তা মনিটরিংয়ের কথা বলেন এই বিশেষজ্ঞ।

পর্যালোচনা বৈঠকে তুলে ধরা তার পরামর্শ গুলোর মধ্যে আছে- রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিনিয়োগের একটা অংশ বিআরটিএর কাছে জামানত হিসেবে রাখতে হবে। যাতে কোনো অপরাধ ঘটিয়ে চালকরা শাস্তির আগেই পালিয়ে যেতে না পারে।


এক্ষেত্রে মোবাইল কোম্পানিগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হাজার কোটি টাকা জরিমানা হলেও তারা পালিয়ে যায় না। কারণ তাদেরকে একটা বড় পরিমাণ অর্থ সরকারের কাছে জমা রাখতে হয়েছে।’

বিআরটিএ সূত্র জানায়, কিছু বিষয় পর্যালোচনা করে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, ঢাকার বাইরে রেজিস্ট্রেশন করা যানবাহন ভেতরে চলতে না দেওয়া। প্রতিটি রাইডের গতিবিধি পুলিশের মনিটরিং করতে পারা। কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের একাংশ বিআরটিএতে জামানত হিসেবে জমা বা ইক্যুইটি শেয়ার।

তবে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলো নীতিমালার পাঁচটি বিষয়ে আপত্তি তুলেছে। সেগুলোর মধ্যে প্রথমত, একজন মালিকের একটি গাড়ি একটিমাত্র কোম্পানিতে চালাতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, গাড়ি কেনার পর এক বছরের মধ্যে রাইড শেয়ারিংয়ে দেওয়া যাবে না। তৃতীয়ত, রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া ট্যাক্সি ক্যাবের চেয়ে বেশি হতে পারবে না। চতুথত, প্রতিটি কোম্পানি কত যানবাহন নামাতে পারবে (সিলিং), তা ঠিক করে দিতে হবে এবং পাঁচ নম্বর আপত্তি হচ্ছে ঢাকার বাইরে নিবন্ধণ নেওয়া যানবাহন রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত হতে পারবে না।

রাইড শেয়ারিং বিশ্লেষক মুরাদ শুভ বলেন, ‘নীতিমালায় পেশাদার বাইকার আটকানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। রাইড শেয়ারিং এমন হবে যে একজন যখন তার গন্তব্যে যাবে তখন যেন সে কাউকে তার সঙ্গে শেয়ার করে নিয়ে যায় এরকম। কিন্তু পাঠাও উবার পেশাদার বাইকার ড্রাইভার নামিয়ে দিয়েছে যারা দিনভর ট্রিপ টানছে। এতে ঝুঁকির আংশকা থাকছে ও দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। আর ভাড়ার বিষয়টি নির্ধারণ করে না দেওয়ায় বিশৃঙ্খলা লেগেই আছে।

এ বিষয়ে তার পরামর্শ, যানজট কমাতে বিআরটিএকে কার পোলিং চালু করতে রাইড শেয়ারিং কোম্পানিগুলোতে নিদেশ দেওয়া উচিত। যাতে একটি কারে কয়েকজন একসঙ্গে রিকোয়েস্ট করে যেতে পারে। আর নতুন গাড়ি রাইড শেয়ারিংয়ে দেওয়ার নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করে কমপক্ষে একবছরের পুরনো লাইসেন্সধারীদের রাইড শেয়ারিংয়ের সুযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, পাঠাও, উবার, ওভাই ও সহজ রাজধানীতে দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অনেকে পঙ্গু হয়ে জীবনযাপন করছেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতে গত এক বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের দিক দিয়ে মোটরসাইকেল দ্বিতীয়। শতকরা ২৫ দশমিক ৩০ ভাগ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘মোটরসাইকেলের ভাড়া নিয়ে নীতিমালায় দিক নির্দেশনা নেই। আর ট্যাক্সি ক্যাব এসে রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত হয়েছে। যা নীতিমালার বিরোধী।’

বিআরটিএতে এক বছর আগে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার পাঠাও, ওভাই ও সহজ যে তথ্য দিয়েছে তাতে দেখা গেছে, ১ লাখ ৪ হাজার ৩৮৯টি মোটর সাইকেল ও ১৮ হাজার ২৫৩টি কার তাদের অ্যাপে চলছে। তবে এক বছরে সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর চালকদের নিবন্ধণের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ঠিকমত যাচাই করেনি। ভুল ঠিকানা ব্যবহার ও অদক্ষ চালকের হাতে স্টিয়ারিং মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা বাড়িয়ে চলছে।

সূত্র: সারাবাংলা

আর/০৮:১৪/১২ মে

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে