Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ , ৯ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১১-২০১৯

ছোট হয়ে আসছে কাপ্তাই হ্রদ

সত্রং চাকমা


ছোট হয়ে আসছে কাপ্তাই হ্রদ

রাঙামাটি, ১১ মে- দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদে অবৈধ দখল কিছুতেই থামছে না। প্রতিনিয়ত চলছে হ্রদ দখলের প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে চলতি গ্রীষ্ফ্ম মৌসুমে হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হ্রদের পাড় জেগে ওঠায় শহরের কয়েকটি স্থানে বাড়িঘর তৈরি করা হচ্ছে। ফলে ৭২৫ বর্গকিলোমিটারের এ হ্রদের আয়তন দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও রাঙামাটি জেলা প্রশাসন বলছে, এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

১৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দেওয়া হয়। এ বাঁধের ফলে ৭২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল জলাধার সৃষ্টি হয়। এ হ্রদের কারণে জেলার ৫৪ হাজার একর কৃষিজমি পানিতে ডুবে যায়, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের চাষযোগ্য জমির প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ। এছাড়া এ বাঁধের কারণে সম্পত্তি ও ঘরবাড়ি ক্ষতি ছাড়াও এক লাখের বেশি লোকজন উদ্বাস্তু হয়। তবে এ হ্রদের ফলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন করে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আয় হচ্ছে।

সরেজমিনে রাঙামাটি শহরের কাপ্তাই হ্রদের আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমান মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হ্রদের পাড় জেগে উঠেছে। এই সুযোগে মাঝের বস্তি, রিজার্ভ বাজারসহ কয়েকটি স্থানে অবৈধ দখলদার ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে। ইতিমধ্যে শহরের বনরূপা, কাঁঠালতলী, তবলছড়ি, পাবলিক হেলথ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হ্রদের পাড় দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে হোটেল-মোটেলসহ নানান দালানকোঠা। যার ফলে একদিকে হ্রদের আকার ছোট হয়ে আসছে, অন্যদিকে হ্রদের পরিবেশের ভারসাম্য দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। হারাচ্ছে পর্যটন শহরের সৌন্দর্য। তাছাড়া জেলা ও উপজেলায় হ্রদের তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা অসংখ্য বসতবাড়ি, স'মিল, জেটিঘাট, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল এবং হোটেল, রেস্তোরাঁসহ আবাসিক এলাকার নানান বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা সবই পড়ছে  কাপ্তাই হ্রদের পানিতে। এতে হ্রদের পানি ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছে।

এছাড়া হ্রদের পানি অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় জেলার ৬টি উপজেলায় নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট ছোট ইঞ্জিন বোট দিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে কয়েক লাখ উপজেলাবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী দাম দ্বিগুণ হয়েছে ওইসব উপজেলাতে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টি না হলে এই দুর্ভোগ আরও চরম আকারে ধারণ করতে পারে।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের সাধারণ সম্পাদক হেফাজত বারী সবুজ সমকালকে বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পাড় প্রতিনিয়ত দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। দখল কিছুতেই থামছে না। অন্যদিকে ড্রেজিং না করার কারণে হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়েছে। ফলে হ্রদে পানির স্তর কমে গেলে নৌ-চলাচল ব্যাহত হয়। তাই এ হ্রদকে রক্ষা করতে হলে সুর্নিদিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

স্থানীয় হিমাওয়ান্টির নির্বাহী পরিচালক ও নারীনেত্রী টুকু তালুকদার বলেন, দেশের সবচেয়ে সৌন্দর্যের জায়গা হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদ। কিন্তু এ হ্রদের চারপাশ দখল হয়ে যাচ্ছে, যা আশঙ্কাজনক ও উদ্বেগজনক। হ্রদ যে দখল হয়ে যাচ্ছে তাতে জেলা প্রশাসন সংশ্নিষ্ট জেলা পরিষদ. পৌরসভার সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে এই দখল বন্ধ করা যায় তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, কাপ্তাই হ্রদকে দখলমুক্ত করতে প্রশাসন থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হ্রদ এলাকায় যেখানে দখল হচ্ছে তার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। কয়েক দিন আগেও হ্রদ দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তা ভেঙে দিয়ে দখলমুক্ত করা হয়েছে। হ্রদ দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের কোনো তথ্য থাকলে প্রশাসনকে জানানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: সমকাল

আর/০৮:১৪/১১ মে

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে