Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ , ১ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১০-২০১৯

ডাক্তার না হয়েও জরুরি বিভাগে নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি

ডাক্তার না হয়েও জরুরি বিভাগে নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি

নারায়ণগঞ্জ, ১০ মে- নিজেকে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। নিয়মিত রোগী  দেখতেন একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। হাসপাতালে যেসব রোগী আসতেন তাদের পরীক্ষাপত্রের রিপোর্টে জাল স্বাক্ষর দিতেন তিনি।

রোগীদের প্রেসক্রিপশনে যে সিল-স্বাক্ষর দেখা গেছে, একজন সনোলজিস্ট হিসেবে তার স্বাক্ষর দেখা গেছে। আর এসবের জন্য বানিয়ে নিয়েছেন বিভিন্ন চিকিৎসকের পদ-পদবি সংবলিত জাল সিল। তার এসব কর্মকাণ্ডে একচেটিয়া সহযোগিতা করতেন ওই হাসপাতালের ম্যানেজার।

গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ র‌্যাবের-১১-এর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ভুয়া ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

ওই চিজিৎসকের নাম তানভীর আহম্মেদ সরকার (৩৪), তার বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বারে। আর ওই হাসপাতালের ম্যানেজারের নাম আবুল বাসার।

ভুয়া চিকিৎসককে এমন কর্মকাণ্ড তালাশ করতে গিয়ে হাসপাতাল পরিচালনার কোনো অনুমোদনপত্র পাননি র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।

ওই ভুয়া চিকিৎসকের এমন কর্মকাণ্ডে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই বছর এবং এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য হাসপাতালের ম্যানেজারকে এক বছরের  কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিয়ম বহিভূর্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য হাসপাতালটিও সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ দীর্ঘদিন রোগী দেখে আসছিলেন তানভীর আহমেদ নামে ওই ভুয়া চিকিৎসক।

গ্রেপ্তারকৃতদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাব জানায়, তানভীর নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন নিজেকে একজন মেডিসিন চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।  হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়মিত রোগীও দেখতেন তিনি। রোগীদের বিভিন্ন টেস্টে সনোলজিস্ট হিসেবে তার সিল-স্বাক্ষরও দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রোগীর প্রেসক্রিপশনে ভিন্ন ভিন্ন নামে স্বাক্ষর করতেন তিনি। এমনকি হাসপাতালের রোগীর ভর্তির ফাইলেও তার স্বাক্ষর থাকতো।

র‌্যাব জানায়, বিভিন্ন চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করে তিনি সিল এবং স্বাক্ষর নকল করে হরহামেশা রোগীদের বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতেন। এ বিষয়ে তার কাছে চিকিৎসকের নিবন্ধনপত্র দেখতে চাইলে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ২০০১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ও ২০০৯ সালে কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের আওতায় বাণিজ্য বিভাগ থেকে পাশ করেন তানভীর আহমেদ। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে ওই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে রোগী দেখা শুরু করেন তিনি।

র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরোয়ার আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর ৫৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ভুয়া ওই চিকিৎসককে (৩৪) ধারায় দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং হাসপাতালের ম্যানেজার আবুল বাশারকে (৩২) ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।  নিয়মের বরখেলাপ হওয়ায় ‘হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ সিলগালা করে দেন তিনি।

সূত্র: আমাদের সময়
এমএ/ ০৫:০০/ ১০ মে

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে