Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০৭-২০১৯

তারাবি নামায নিয়ে যতো কথা

তারাবি নামায নিয়ে যতো কথা

পবিত্র রমযান মাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ তারাবির নামায। বাদ এশা থেকে পালনীয় এই নামায শরিয়তের দৃষ্টিতে, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০ রাকাতবিশিষ্ট তারাবির নামাযে রয়েছে অগনিত সওয়াব ও ফজিলত।

হাদিস শরিফ মতে, একনিষ্ঠ মনে আদায় করলে আছে পাপ মার্জনার সুবর্ণ সুযোগ। এ সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়, তাই প্রিয়নবী (সা.) তারাবির নামায আদায়ে অধিক তাগাদা দিতেন। নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেছেন: ‘যে ব্যক্তি ইমান সহকারে ও সওয়াবের আশায় তারাবির নামায আদায় করবে, তার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে’ (বুখারি ও মুসলিম)। মুসনাদে আহমদের এক বর্ণনায়, পূর্বাপর যাবতীয় পাপ মার্জনার কথা বলা হয়েছে।

তারাবির নামাযের ইতিহাস খুটে দেখলে আমরা দেখতে পাই, এ নামাযের প্রচলন নবীজির যুগ থেকেই। প্রথমদিকে প্রিয়নবী (সা.) সাহাবাদের সাথেই তারাবির নামায আদায় করতেন। লাগাতার আদায়ের ফলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরয হয়ে যাবার আশংকা ছিল।

আর যদি ফরয হয়েই যেত, তবে উম্মতের জন্য তা পালন করা হত অত্যন্ত কষ্টকর। তাই কয়েকদিন সাহাবাদের সাথে আদায়ের পর নবীজি একদিন মসজিদে আসলেন না; একাকী আদায় করলেন। এরপর থেকে জীবনের অন্তিমলগ্ন পর্যন্ত তারাবির নামায জামাত সহকারে আর আদায় করেন নি।

পরবর্তীতে হযরত ওমর (রা.) এর যুগে এসে পুনরায় জামাত সহকারে তারাবি আদায়ের রীতির প্রচলন হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘হযরত ওমর (রা.) লোকজনকে ওবাই ইবনে কাব (রা.) এর পেছনে একত্রিত করে, তাদের নিয়ে নামায আদায় করলেন। আর এটাই ছিল তারাবির নামাযের প্রথম জামাত’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা)।

নবীজি কর্তৃক জামাতে তারাবি আদায় বন্ধ হয়ে যাবার পর ইতিহাসে এটি নতুন আবিষ্কার ছিল। নতুন আবিষ্কারকে বিদআত বলে। শরিয়তের কোনো আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে নতুন আবিষ্কারকে ইসলাম অস্বীকার করে। আর সাংঘর্ষিক না হলে তা তো ভালই। হযরত ওমর (রা.) এর কাজটিও অনুরূপ।

বিদআত হলেও সাংঘর্ষিক না হওয়ার দরুন একে মন্দ বলা যায় না। তাই হযরত ওমর নিজেও বলেছেন, কতই না উত্তম বিদআত এটি’ (বুখারি)। ‘সকল বিদআত যে মন্দ হয় না; কিছু ভালও হয়ে থাকে’ হযরত ওমরের (রা.) ঐতিহাসিক উক্তি থেকে আমরা বিভ্রান্তিকর সময়ের আলোচিত পরিভাষা ‘বিদআত’ সম্পর্কে সেই নীতিই দেখতে পাই।

হযরত ওমর (রা.) এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত এ নামায জামাতেই আদায় হয়ে আসছে। তারাবির নামাযের রাকাতসংখ্যা নিয়েও ইদানীং বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তারাবির রাকাত কত, তা নিয়ে হাদিসের কিতাবে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও প্রচলিত মত হচ্ছে, তারাবির নামায বিশ রাকাত। ইমাম তিরমিজি (রহ.) বলেন: ‘হযরত ওমর , আলী ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম (রা.) হতে বর্ণিত বিশ রাকাতের পক্ষে অধিকাংশ আলেম অবস্থানগ্রহণ করেছেন।

আর এটা ইমাম সাওরি, ইবনে মুবারক ও শাফিইরও অভিমত’ (তিরমিজি)। এ থেকে স্পষ্ট হয়, তারাবির নামায যে বিশ রাকাত, তা অধিকাংশ আলেমের অভিমত। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘হযরত ওমর (রা.) এর যুগে লোকেরা (বিতরসহ) ২৩ রাকাত সহকারে তারাবির নামায আদায় করত’ (মুয়াত্তা, সুনানে বায়হাকী)। এই বর্ণনার ব্যাপারে ইমাম ফারইয়াবি ‘নির্ভরযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

আর ইবনে কুদামা (রহ.) তাঁর ‘মুগনী’ কিতাবে বলেন: ‘তারাবির নামায বিশ রাকাতের ব্যাপারটি ইজমার মতই সাব্যস্ত। এখনো অধিকাংশ মুসলমানরা বিশ রাকাত আদায় করেন। কিন্ত সম্প্রতি আট রাকাতের কথা বলে তারাবির নামায নিয়ে একটি মহল বিশৃংখলা তৈরির অপচেষ্টা করছে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

কারণ যে হাদিসে আট রাকাত আদায়ের কথা আছে, তা কেবল তাহাজ্জুদের নামায বৈ অন্যকিছুর রাকাত বুঝায় না; আর তারাবি তো মোটেই নয়। সে হিসেবে বিশ রাকাতের মতই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। তাই এই নামাযের রাকাতসংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ সে পথে হাটে, তবে তা হবে, প্রমাণিত বিষয়কে অস্বীকারের ব্যর্থচেষ্টা মাত্র!

যেহেতু তারাবির নামায ও এর ফজিলত নবী কারিম (সা.) নিজেই ঘোষণা করেছেন, তাই এ নিয়ে নিরর্থক বাড়াবাড়ি কোনভাবেই কাম্য নয়। প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন: নিশ্চয় আল্লাহ পাক তোমাদের জন্য রমজানের রোযা ফরয করেছেন, আর আমি সুন্নাত করেছি তারাবিকে। অতএব যে ব্যক্তি ইমানসহকারে ও সৎ নিয়্যতে রোযা ও তারাবি আদায় করবে, সে তার গুনাহ থেকে ঐদিনের ন্যায় নিষ্পাপ থাকবে, যে তার মা তাকে জন্ম দিয়েছে’ (নাসাই, ইবনে মাজাহ)।

তারাবির নামাযের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের সাথে সম্পর্ক গাঢ় করার লগ্ন আসে। প্রত্যেক রাকাতে ইমামের কণ্ঠে কোরআন পাঠ শুনে আলোকিত হয় মুমিনের হৃদয়। আর নামাযের মধ্যে স্রষ্টা ও সৃষ্টির যে বন্ধন, তা তো আছেই।

আর এস/ ০৭ মে

ইসলাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে