Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯ , ৪ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-০৩-২০১৯

হাজীগঞ্জে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা!

হাজীগঞ্জে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা!

চাঁদপুর, ০৩ মে- চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে দিপিকা আশ্চার্য্য মনিকা নামে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে মেরেছেন তার স্বামী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, ওই গৃহবধূর শরীরের প্রায় ৯২ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই গৃহবধূ।

তার জবানবিন্দর ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে তার স্বামী, শ্বাশুড়ি ও ভাসুরকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর দেয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে পাষণ্ড স্বামী ও তার পরিবারের নির্মমতার চিত্র।

নিহত গৃহবধূ হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বকুলতলা রোডের রঞ্জিত আশ্চার্যের ছেলে বিপুল আশ্চার্য্যের স্ত্রী।

দশ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তার বাবার বাড়ি নরসিংদী জেলার ছোট মাধবদী উপজেলার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গৃহবধূর ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য।

অভিযোগে বলা হয়, গত মঙ্গলবার মঙ্গলবার দিবাগত রাতে স্বামী বিপুল আশ্চার্য্য ও ভাসুর সজল আশ্চার্য্য কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে মনিকাকে হত্যার চেষ্টা করে।

এই ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দুর্ঘটনা বলে প্রচার করে তার স্বামীর পরিবার। এ ঘটনার পর মনিকাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

বড় ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য বলেন, মোবাইল ফোনে বোনের দুর্ঘটনার খবর শুনে ঢাকা মেডিকেল বার্ণ ইউনিটে গিয়েছি।

সেখানে মনিকা জবানবন্দিতে বলেছে, মারধর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তার স্বামী ও ভাসুর। ঘটনার পর থেকে আমার সাড়ে ৩ বছরের ভাগনীকে নিয়ে সজলের স্ত্রী দিপা পলাতক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগুন লাগানোর পূর্বে তাকে মেরে ফেলার জন্য মারধর করেছে। তার মাথা ও কপাল ফেটে গেছে। যে রুমে দিপিকাকে নির্যাতন করা হয়েছে, ওই রুমের দেয়ালের সঙ্গে রক্তের দাগ রয়েছে।

বিপুল, সজল, তাদের মা সন্ধ্যা রাণী আশ্চার্য্য, সজলের স্ত্রী দিপা আশ্চার্য্য মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

হত্যার কারণ জানতে চাইলে অরবিন্দ আশ্চার্য্য বলেন, বিপুল মাদকাসক্ত। তাদের পরিবারে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। সে ঘরে বসেই ইয়াবা সেবন করত। সজল ও বিপুলদের অনেক টাকা মূল্যের একটি জায়গা আছে।

কয়েক মাস যাবত ওই জায়গা বিক্রয়ের চেষ্টা করে আসছে সজল ও বিপুল। আমার বোন দিপিকা ওই জায়গা বিক্রয়ে বাধা দিয়ে আসছিল। এছাড়াও তাদের পারিবারিক কলহ ছিল দীর্ঘদিনের।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি আলমগীর হোসেন রনি বলেন, সজলের স্ত্রী দিপা আশ্চার্য্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভাসুর সজলকে হাজীগঞ্জ বাজার এবং স্বামী বিপুল ও শ্বাশুড়ি সন্ধ্যা রাণী আশ্চার্য্যকে ঢাকা মেডিকেল থেকে আটক করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

সূত্র: যুগান্তর
এমএ/ ১০:০০/ ০৩ মে

চাঁদপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে