Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ , ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-২৯-২০১১

কোকোকাহিনী

মীজান রহমান


কোকোকাহিনী

তার নাম কোকো।

  ডাকনাম নয়, ভালোনাম নয়, একমাত্র নামই কোকো। এমন নাম কারো হয় আজকাল, কেবল বাংলাদেশী ছাড়া? না, এই কোকো বাংলাদেশ থেকে আসেনি। সে কোন স্বাদু পানীয়দ্রব্য নয়, বা হেকিমি ওশুধও নয়। এই কোকো ইংরেজি বুঝতে পারে, সাঙ্কেতিক ইংরেজিতে কথাও বলতে পারে। তার শব্দকোষে প্রায় দুই হাজার শব্দ আছে। ছায়াছবির টার্জেন যেমন করে বলে, টার্জেন তোমাকে ভালোবাসে, কোকোও তেমনি করে বলতে পারে, কোকো তোমাকে ভালোবাসে। বা তুমি কোকোর মনে ব্যথা দিয়েছ। পেনি নামের একটি মেয়ে কোকোকে ভীষণ ভালোবাসে। কোকোও পেনিকে ছাড়া সংসারে কিছু দেখেনা। পেনিকে কিছুক্ষণ না দেখলে সে অস্থির হয়ে যায়। সে পেনির সঙ্গে লুকোচুরি খেলে, মুখের ওপর চাদর চেপে হারিয়ে যাবার ভাণ করে। যখন তখন আদর করে পেনির গলা জড়িয়ে ধরে, গালে চুমু খায়।

  একবার কেমন করে একটা বাচ্চাদের বই চলে আসে কোকোর হাতে। গভীর মনোযোগ দিয়ে সে বইটার পাতা উল্টাতে থাকে। একটা ছোট বেড়ালের ছবি দেখে সে ভীষণ আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। পেনির কাছে আব্দার শুরু করে দেয় তাকে একটা ছোট বেড়াল কিনে দিতে হবে। সে বেড়াল পুষবে। পেনি তাকে বেড়াল এনে দেয়---ভীষণ মায়ামায়া কাতর চোখের একটি শিশু বেড়াল। প্রথম প্রথম সে পেনির কাছে যেতে চাইত না, ভয় পেত। কিন্তু কোকোর আদরে আশ্বস্ত হয়ে সে আস্তে আস্তে কাছে ভিড়তে শুরু করল। কোকো তাকে বোতল দিয়ে দুধ খাওয়াত, কোলে করে ঘুম পাড়াত, বুকের ওপর বসিয়ে খেলা করত। মাঝে মাঝে খেলাচ্ছলে সে বেড়ালটিকে হাতের মুঠোতে রেখে পিষে ফেলার ভাণ করত। আবার পরমুহূর্তেই পেটের লোমের ভেতর এমনভাবে ঢেকে রাখত যেন পৃথিবীর কোনও বিপদআপদ তাকে স্পুর্শ করতে না পারে। তারপর একদিন বেড়ালটি খেলতে খেলতে রাস্তায় চলে গেল। একটি গাড়ি এসে চাপা দিল তাকে। পেনি অনেক চেষ্টা করল তাকে বাঁচাতে। কিন্তু বেচারির জ্ঞান ফিরে আসেনি। পেনি কেমন করে খবরটা দেবে কোকোকে ভেবে পাচ্ছিল না। কোকোর ঘরে এসে দেখে সারাবাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছে তার আদরের বেড়ালকে। পেনি তাকে কাছে বসিয়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঘটনাটা বলল সবিস্তারে। কোকো বোবার মত বসে রইল অনেকক্ষণ। অকস্মাত্‌ সন্তান হারালে মায়েরা যেমন বোবা হয়ে যায় তেমন বোবা। প্রায় দুদিন দুরাত সে খাবার সে স্পর্শ করল না। শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে থাকল ঘরের এককোনাতে যেখানে বসে সে খেলা করত তার বাচ্চা বেড়ালের সাথে। তারপর আস্তে আস্তে সে মুখে খাবার তুলতে শুরু করল। ঘরের কোনা থেকে বেরিয়ে বারান্দায় বসে কাঁদতে থাকল নীরবে। অশ্রুহীন শব্দহীন হাহাকার তার অন্তর জুড়ে। চোখেমুখে নানা ইঙ্গিত করে পেনিকে বলল, মনে বড় কষ্ট তার। এত কষ্ট আগে কখনো অনুভব করেনি।

  পাঠক হয়ত ব্যাকুল হয়ে ভাবছেন এই কোকো লোকটা কে। সে কি ছেলে না মেয়ে। তরুণ না বৃদ্ধ। বাঙালি না অবাঙ্গালি। হিন্দু না মুসলমান। আসলে সে কোনটাই নয়, আবার সবই। সে কোন মানুষের ঘরে জন্মায়নি। কোকো একটি গরিলা। মেয়ে-গরিলা। টেলিভিশনের ডিসকাভারি চ্যানেলে এই কোকোকাহিনী দেখলাম গতকাল। এমন অপূর্ব হৃদয়স্পর্শী জিনিস আমি খুব কমই দেখেছি জীবনে। পেনি নামের মেয়েটি তার সারাটি জীবনই যেন উত্‌সর্গ করে দিয়েছে এই কদাকার ভীমকায় জন্তুটির জন্যে। সত্তুর দশকে সে যখন মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হয়ে ঢোকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, তখন থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। কোকো তখন একেবারে দুধের শিশু। জীবজগতের মনস্তত্ব নিয়ে গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ রচনা করাই ছিল ওর পি.এইচ.ডি.পাঠের প্রধান লক্ষ। কিছুদিন আগে কোকোর চালচলন লক্ষ করার পর হঠাত্‌ পেনির মনে এক্ বুদ্ধি আসে। কোকোকে আমেরিকার সাঙ্কেতিক ভাষা শেখাতে পারলে কেমন হয়? সেই থেকেই শুরু তার এই একনিষ্ঠ সাধনা। দিন নেই রাত নেই, সে পড়ে থাকত ল্যাবরেটারিতে। মায়ের মত করে যত্ন নিত কোকোর। কোকোর খাওয়াপরা, খেলা, বিশ্রাম, শোয়া নাওয়া সবকিছুর ভার ওর ওপর। সে কোকোকে শেখালো কেমন করে বাথরুম ব্যবহার করতে হয়, কাঁটাচামচ ব্যবহার করতে হয়, কেমন করে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে হয়, মাজন দিয়ে দাঁত মাজতে হয়। এতটা শিক্ষা বাচ্চারাও পায়না অনেক পরিবারে। পেনির সবচেয়ে চমকলাগানো কৃতিত্ব হল ভাষায়। শিশুরা যেমন পা পা করে হাঁটতে শেখে, ছোট ছোট অক্ষর মিলিয়ে একটি দুটি শব্দ বলতে শেখে, কোকোও তেমনি করে প্রতিদিন একটিদুটি শব্দ শিখতে শুরু করল। ইংরেজিতে উচ্চারণ করার পর পেনি সেটা সাঙ্কেতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করে দিত কোকোর কাছে। কোকো সেটা অনুকরণ করে তার নিজের আঙ্গুল আর অঙ্গভঙ্গি দ্বারা বোঝাবার চেষ্টা করত। একেকটা নতুন শব্দ শেখার পর কোকো তার বুক চাপড়ে আনন্দ প্রকাশ করত, যেন দিগ্বিজয় করে ফেলেছে। দুজনের মাঝে ক্রমে ক্রমে সৃষ্টি হল এক অনুপম বন্ধন। যেন বহুকালের দুটি পুরনো বন্ধু। তাদের কথার শেষ নেই, আলাপের শেষ নেই, বাচালতার শেষ নেই। দুটি ভিন্নধর্মী স্তন্যপায়ী জীব, দৈবের এক আশ্চর্য বিধানে একসূত্রে গাঁথা হয়ে গেল। দুয়ের একটিতে মস্তিষ্কে পূর্ণগঠিত বুদ্ধিমত্তা, উচ্চমানের চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণক্ষমতা। আরেকটি এক অবলা জীব, যার জীবনের একমাত্র পাথেয় তার আদিমতম, ক্রুরতম, বন্যস্বভাব, এবং যে শুধু শব্দ ও ইশারা দ্বারা বোঝাতে পারে তার বোধ অনুভবের কথা, কিন্তু সে শব্দ আর ইশারা বুঝবার ক্ষমতা, ইচ্ছা বা ধৈর্য আমাদের নেই। ধীরে ধীরে এমন হল যে কোকো শুধু গবেষণার জীব হয়ে ল্যাবরেটারিতে পড়ে থাকল না, পেনির দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ালো। পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি তার হয়ে গেল অনায়াসেই, কিন্তু ডিগ্রি, সম্মান, আর সুনামকে ছাড়িয়ে যে জিনিসটা তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হয়ে দাঁড়াল, সেটা হল কোকোর সরল স্বাভাবিক ও নিখাদ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব। সে তার জীবনের প্রায় কোন কথাই গোপন রাখেনি্ কোকোর কাছ থেকে, যেমন করে কোকোও তার মনের কথা সব খুলে বলত পেনির কাছে। আশ্চর্য, তাই না? বাচ্চাদের রূপকথার মত শোনাচ্ছে অনেকটা। কোকো একটি সাড়ে তিনশ পাউণ্ডের বিশাল বন্যপশু---তার আবার মনের কথা! বললেই হল? আমরা কি কস্মিনকালে কখনো চিন্তা করেছি যে পশুদের ?মনের কথা? বলে কিছু থাকতে পারে? জীবজগতে একমাত্র মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণীর মন বলে কোন জিনিসের অস্তিত্ব সম্বন্ধেই আমরা সচেতন নই। কিন্তু পেনি তার সারাজীবনের সাধনা দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে যে আছে, ওদেরও মন আছে, প্রাণ আছে। ওরাও ভালোবাসতে পারে, রাগ অভিমান করতে পারে, দুঃখ প্রকাশ করতে পারে। ওদের আবেগ মানুষের আবেগের মত জটিল হয়ত নয়, কিন্তু আবেগ ওদেরও আছে।

   কোকোর বয়স যখন বিশের কোঠাতে পৌঁচেছে তখন পেনির মনে হল কোকোর বংশবৃদ্ধির কথা ভাবা দরকার। একদিন সে আকারে ইঙ্গিতে জিজ্ঞেসই করে বসল কোকোকে মাঝে মাঝে খুব একা একা মনে হয় কিনা তার। কিছুক্ষণ ভাবার পোর ফিক করে একগাল হেসে সে স্বীকার করে ফেলল, হ্যাঁ, লাগে বই কি, মাঝে মাঝে। বিশেষ করে যখন পেনি তার সঙ্গে থাকে না। পেনি তখন স্যানডিয়েগোর চিড়িয়াখানা থেকে মাইকেল নামক এক পুরুষ গরিলাকে আনাবার ব্যবস্থা করল। এবং স্বভাবতই পরিবারের একজন নতুন সদস্যকে যতটা আদর আপ্যায়ন করা প্রয়োজন তার কোনটাতেই কোনও ত্রুটি রাখেনি পেনি। সেটা বোধ হয় কোকোর খুব একটা পছন্দ হয়নি। পেনির মনোযোগটা আরেকজনের সঙ্গে ভাগ করতে হচ্ছে এটা বোধ হয় তার সহ্য হয়নি। তাই প্রথমদিকে মাইকেলকে তার ঘরে ঢুকতে দেয়নি। তার খেলায় ভাগ বসাতে চাইলে রেগে যেত। কাছে এলে এটা ওটা ছুঁড়ে মারত ওর দিকে। অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে পেনি ওকে শান্ত করে। আস্তে আস্তে সে মাইকেলকে কাছে আসতে দেয়। একটু একটু করে খেলতে শুরু করে। পেনির কাছে থেকে মাইকেলও ভাষাটা শিখে ফেলে, যেমন শিখেছিল কোকো। ফলে দুই গরিলাতে ক্রমে কথোপকথন শুরু হয়ে যায়, কখনো আমেরিকান সাঙ্কেতিক ভাষায়, কখনো নিজেদের স্বভাবজাত বন্যভাষায়। ঐ কথোপকথন থেকে পেনি ও তার সহকর্মীরা মাইকালের শিশুকালের এক মর্মান্তিক কাহিনী উদ্ধার করে ফেলল। অনেকদিন থেকেই তারা লক্ষ করছিল যে মাইকেল বড় গম্ভীর প্রকৃতির প্রাণী, ছাড়া ছাড়া ভাব, কোকোর মত আমোদফূর্তি পছন্দ করে না। কারো সঙ্গে মেলামেশা করার কোনও আগ্রহ নেই, লোকজন দেখলে কেমন বিরক্ত হয়। তাতে পেনির ধারনা হয় যে মাইকেলের জীবনে এমন কোনও ভয়াবহ ঘটনা আছে যার দাগ এখনও মোছেনি তার মন থেকে। কোকোর সাথে তার সাঙ্কেতিক আলাপ থেকেই পেনি বের করে ফেলল ঘটনাটা কি। মাইকেল তখনো দুধের শিশু। তার মা তাকে কোলে করে জঙ্গলে বেরিয়েছিল খাবারের সন্ধানে। হঠাত্‌ শুনল এক প্রচণ্ড শব্দ। আর চোখের পলকে তার মা ধপাস করে পড়ে গেল মাটিতে। এক গুলিতেই শেষ। দুতিনজন জোয়ান পুরুষ এসে তার মাকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে গেল এক গ্রামের ভেতর। মাইকেলকে আটকে রাখল একটা খাঁচার মধ্যে। সে নিজের চোখে দেখল তার মায়ের শরীরটাকে টুকরো টুকরো করে কেটে কেমন করে তারা আগুনে পোড়ালো আর পরম তৃপ্তির সাথে সারা গ্রামের লোক মিলে খেল। মাইকেলকেও হয়ত একইভাবে তারা টুকরো টুকরো করে কেটে পুড়িয়ে খেত যদিনা চিড়িয়াখানার লোকেরা গিয়ে নগদ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনত। এই কাহিনী শোণার পর মাইকেলের প্রতি আরো বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করল পেনি আর তার সহকর্মীরা। এমনকি কোকোও যেন আগের চেয়ে অনেক নরম হয়ে গেল মাইকেলের প্রতি। দুঃখের বিষয় যে মাইকেলকে কোকোর কাছে এনে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্যটাই যেন চাপা পড়ে থাকল। বংশবৃদ্ধি দূরে থাক দুজনের কারো মনে যেন কোনরকম যৌনসম্পর্কের কল্পনাই ঢোকেনি। কারণটা আরো অনেক গবেষণার পর বুঝতে পারল পেনি। এটা নাকি গরিলাজাতির প্রচলিত নীতি যে যারা এক পরিবারে অনেকদিন থেকে বসবাস করে তাদের মধ্যে কোনও যৌনসম্পর্ক হতে নেই। তারা ভাইবোনের মত। শুনে অবাক হয়ে গেলাম আমি। গরিলাদের নৈতিকতা? ভাবতেই কেমন অদ্ভুত লাগে। তক্ষুণি আমার মনে পড়ে গেল আমাদের সমাজের চাচাতো মামাতো খালাতো ফুফাতো ভাইবোনদের কথা। ইচ্ছে থাকলে আমরা কিছু নীতিবাক্য শিখতে পারতাম বনের পশুদের কাছ থেকে। কিন্তু সে ইচ্ছা আমাদের কোনকালেই হবে না।

  বনের পশু কি কখনো ছবি আঁকতে পারে? আমি কোনদিন স্বচক্ষে দেখিনি, শুনিওনি এমন আজগুবি কথা। গাঁজাখুরি ছাড়া আর কি বলা যায় এধরনের প্রলাপবাক্যকে?  কিন্তু টেলিভিশনের পর্দায় আমি সেদিন নিজের চোখেই দেখলাম তার প্রমাণ। প্রথমে দেখলাম কোকোর হাতে আঁকা ছবি----একটা কুকুরের ছবি আঁকবার চেষ্টা করছিল সে। কুকুরটির দৌড়নো অবস্থার ছবি। কুকুরটি ছিল তার খেলার সাথী। রোজ বিকেলে কুকুরটি তার খাঁচার কাছে এসে চারদিকে দৌড়ে বেড়াত, আর কোকো ছুটত তার পেছেন পেছন। কে কাকে হারায় এই যেন দুজনের প্রতযোগিতা। তারপর দেখলাম মাইকেলের আঁকা ছবি। ওর ছবির মেজাজ সম্পূর্ণ আলাদা। ওর রঙের ব্যবহারও এক নয়। কোকো খুব হলুদ আর লাল রঙ লাগাতে ভালোবাসে। আর মাইকেলের রঙ ধূসর, গাঢ় সবুজ আর কালো। তার একটা ছবি দেখে মনে হল আমাদের গ্রামাঞ্চলের একগুচ্ছ ঘন কাশ। আরেকটা ছবিতে মনে হল তিনটে বাঘের মত মুখ, অথচ শরীরটা মানুষের। ওদের হাতে লম্বা নলের মত কি জিনিস। এমন আশ্চর্য দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। গরিলাশিল্পী!

  কল্পনাকে মুগুর দিয়ে ঘা মেরে যায়। শুধু কল্পনাকে নয়, আরো অনেককিছুকেই ঘা মেরে গেছে এই দুটি কদাকার গরিলা। গা আমার শিউরে উঠল ভেবে যে এতকাল ধরে এতগুলো জীবের মাংস আমি এত তৃপ্তির সাথে ভক্ষণ করে এলাম, তারাও কি কোকো আর মাইকেলের মত সাঙ্কেতিক ভাষা শিখতে পারত না? তারা কি উজাড় করে দিতে পারত না তাদের প্রাণঝরা ভালোবাসা যেমন করে কোকো দিয়েছিল তার বন্ধু পেনিকে? আমি ওদের গলা জড়িয়ে আদর করলে ওরাও কি পালটা আমার গলা জড়িয়ে ধরত না আদরে, সোহাগে, আবেগে? কিন্তু আমি ওদের গলা জড়িয়ে ধরে আদর করিনি, গলা জড়িয়ে ছুরি বসিয়েছি। কখনো পেটের কারণে, কখনো পুণ্যের লোভে। আত্মত্যাগের নাম করে মানুষ কখনও আত্মত্যাগ করেনি, পশুবলি দিয়েছে। ছবিটা দেখে আমার ইচ্ছে হয়েছিল সমস্ত মনুষ্যজাতির পক্ষ থেকে আমি করজোড়ে ক্ষমা চাই এই দুটি গরিলাশিল্পীর কাছে।

 ( কিঞ্চিত্‌ পরিবর্তিত ও পরিমার্জিতরূপে অক্ষরযোজনা, ২৯শে নভেম্বর, ২০১১)

 

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে