Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯ , ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২৩-২০১৯

চাকরি ফিরে পেলেন জাহালম

চাকরি ফিরে পেলেন জাহালম

নরসিংদী, ২৩ এপ্রিল- অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিনা দোষে তিন বছর কারাভোগের পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মুক্তি পেয়েছেন পাটকল শ্রমিক জাহালম। এবার বিজেএমসি চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার নরসিংদীর ঘোড়াশালের চাকরিটিও ফিরে পেলেন। 

মঙ্গলবার থেকে তিনি তার পুরনো কর্মস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুটমিলে তাঁতি হিসেবে কাজ শুরু করেছেন।

সোনালী ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারিতে দুদকের দায়ের করা ৩৩ টি মামলায় সালেকের পরিবর্তে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে আটক করা হয়। দীর্ঘ তিন বছর ভুল আসামি হিসেবে জেলে থাকার পর এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

মুক্তির পর তার চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় সকল প্রকার কাগজপত্র নিয়ে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন জানান জাহালম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজেএমসি চেয়ারম্যান জাহালমের সকল প্রকার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাকে স্বপদে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনা মোতাবেক এ মাসের ১৬ তারিখে তিনি পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে অবস্থিত বিজেএমসির নিয়ন্ত্রাণাধীন বাংলাদেশ জুট মিলের কর্তৃপক্ষের কাছে তার কাগজপত্র পেশ করেন। কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা মোতাবেক তাকে স্বপদে যোগদান গ্রহণ করেন।

দীর্ঘ তিন বছর পর চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে জাহালম বলেন, এই তিনটি বছর বিনা দোষে কারাবরণ করে শরীর অনেকটা দুর্বল হয়ে গেছে। মানসিক অবস্থাও আগের মতো নেই। ফলে আগের মতো এখন আর কাজে মন বসে না। কেমন যেনো একটা অমানিষার ঘোর অন্ধকার দেখতে পাই। তাই জীবন থেকে চলে যাওয়া তিনটি বছরের ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

তিনি বলেন, তিন বছরে আমার সংসার তছনছ হয়ে গেছে। একেবারে পথের ফকির হয়ে গেছি আমি।

জাহালম আরো জানান, আমি জেলে যাওয়ার পর সংসার চালাতে স্ত্রী কল্পনা বেগম স্থানীয় প্রাণ কোম্পানিতে চাকরি নেয়। এতে যে বেতন পায় তাই দিয়ে সংসার চালিয়ে আমার মামলার খরচ চালাতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে আমার সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই।

বাবা ইউসুফ মিয়া ঘোড়াশালে অবস্থিত বাংলাদেশ জুট মিলে চাকরি করতেন। সেই সুবাধে মা-বাবার সঙ্গে জুট মিলেই তার বড় হওয়া বলে জানান জাহালম।

পাঁচ বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে জাহালমের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঠিকানায় একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় জাহালমকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়। জাহালম সে সময় নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

যথা সময়ে দুদকে হাজিরা দিয়ে জাহালম আবার তার নরসিংদীর জুট মিলের কর্মস্থলে চলে যান। এর দুই বছর পর ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর ঘোড়াশালের ওই জুট মিল পাশ্ববর্তী কালীগঞ্জ গুদারাঘাট থেকে জাহালমকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাতের ৩৩টি মামলায় জাহালমের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় দুদক। ওইসময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জাহালম নিজেকে নিদোর্ষ দাবি করে তিনি সালেক নয় বলেও জানান দুদককে। কিন্তু এতে কোনও মুক্তি মেলেনি তারা।

এ নিয়ে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে প্রশাসেনর। জাহালমের মুক্তির বিষয়ে কারও কাছে সমাধান না পেয়ে জাহালমের বড় ভাই শাহানূর মিয়া গত বছর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যান। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে জাহালমের সাথে দেখা করেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবু সালেক আর জাহালম একই ব্যক্তি নন। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মামলার অন্যতম আসামি নজরুল ইসলাম ওরফে সাগরের সাথে কাশিমপুর কারাগারে কমিশনের কথা হয়। তিনি জানান, আবু সালেক মিরপুরের শ্যামল বাংলা আবাসন প্রকল্পের মালিক।

অবশেষে আদালত জাহালমকে দুদকের ২৬ মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে রাতে কারাগারে কাগজ পৌঁছানোর পর জেল সুপার তাকে মুক্তি দেন।

জাহালমের চাকুরি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলের মহা ব্যবস্থাপক মো. গোলাম রব্বানী জানান, জাহালম এই মিলেরই একজন স্থায়ী তাঁতী ছিলেন। দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে নিয়মানুযায়ী চাকরি চলে যায়। তিনবছর অনুপস্থিতির পর অবশেষে জাহালমের যোগদানের বিষয়ে বিজেএমসি একটি নির্দেশনা জারি করে। এই নির্দেশনায় আমরা জাহালমের স্বপদে যোগদান গ্রহণ করি। বর্তমানে সে আমাদের মিলে কর্মরত।

এইচ/২২:০০/ ২৩ এপ্রিল

নরসিংদী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে