Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২১-২০১৯

ঘরের সৌন্দর্যে অ্যাকুরিয়াম

সুমন মাহমুদ


ঘরের সৌন্দর্যে অ্যাকুরিয়াম

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হবার পর জীবন আর তার পরিবেশ সাজাতে চায় সুন্দর কিছু দিয়ে। যেটা নিজের ও তার আশপাশের মানুষের নজর কাড়ে। আর এক্ষেত্রে দেখা যায়, একেক মানুষের একেক রকম শখ। ঠিক তেমনি একটি শখের জিনিস হলো অ্যাকুরিয়াম। আমাদের শহরকেন্দ্রিক জীবনধারায় ড্রইং রুমে একটি অ্যাকুরিয়াম সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে নিঃসন্দেহে। ঘরের কোণের অ্যাকুরিয়ামে জীবন্ত বাহারি রঙের মাছগুলো যখন সাঁতার কাটে, তখন দেখতে ভালোই লাগে।

সৌখিনতার পাশাপাশি চলে আসে কীভাবে অ্যাকুরিয়ামের যত্ন বা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন। একটা সুন্দর, চকচকে, মাছের জন্য সুস্বাস্থ্যকর অ্যাকুরিয়াম মেইনটেইন করতে হলে অনেক শ্রম দিতে হবে। এছাড়া আপনাকে হতে হবে ধৈর্যশীল। যারা বাড়িতে অ্যাকুরিয়ামে মাছ পালন করেন, তাদের মধ্যে বড় একটা অংশ একসময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

আবার অনেক মানুষ অ্যাকুরিয়ামের ব্যাপারে সঠিক তথ্য পায় না। অনেকটা বেসিক সেন্সের ওপর ভিত্তি করে মাছ পালন করেন অ্যাকুরিয়ামে। ফলে মাছের পরিচর্যা সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা থাকে না। তাহলে জেনে নিন অ্যাকুরিয়ামের সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে।

অ্যাকুরিয়ামের মাছ
আমাদের দেশে অ্যাকুরিয়ামে রাখার মতো অনেক মাছ পাওয়া যায়। যেমন : গোল্ডফিশ, অ্যাঞ্জেল, শার্ক, টাইগার বার্ব, ক্যাটফিশ, গোস্টফিশ, মলি, গাপ্পি, ফাইটার(বেট্টা), সাকারসহ আরো অনেক রকম মাছ। তবে এখানে উল্লেখিত মাছগুলোর মধ্যে গোল্ডফিশই সবচে’ বেশি দেখা যায়।

গোল্ডফিশের রয়েছে মোট ১২৫ প্রজাতি। তাই আমাদের পালন করা বেশির ভাগ মাছই গোল্ডফিশ প্রজাতির। যেমন: কমেট, ওয়াকিন, জাইকিন, সাবানকিন, ওরান্ডা, ব্ল্যাকমোর, ফান্টাইল, রুইকিন, ভেইলটেইল, রানচু ইত্যাদি। কিন্তু দেহের কাঠামো হিসেবে গোল্ডফিশ দু’রকম। ডিম্বাকৃতি ও লম্বা দৈহিক গঠন হয়ে থাকে। বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দিক দিয়ে লম্বা দৈহিক কাঠামোর গোল্ডফিশগুলো শক্ত হয়ে থাকে।

গোল্ডফিশ শীতল(সাধারণ তাপমাত্রার) পানির মাছ। তবে এরা হালকা গরম পানিতেও থাকতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে পানির তাপমাত্রা বেড়ে বা কমে যাবার ফলে এরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে শীতকালে এরা একটু ধীরগতির হয়ে যায় এবং খাবার কম খায়। তখন এরা অ্যাকুরিয়ামের নিচের দিকে থাকতে পছন্দ করে। একটা গোল্ডফিশ সারাজীবন প্রায় ১০ বছরের বেশিও হতে দেখা যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা বেশিও হতে দেখা গেছে। গোল্ডফিশ খুবই শান্ত প্রকৃতির মাছ। তবে অ্যাকুরিয়ামে কোনো নতুন মাছ আসলে কখনো কখনো এদেরকে একটু উচ্ছৃঙ্খল হতে দেখা যায়। তবে এটা খুবই কম হয়ে থাকে। আর যদি এমন দেখা যায়, তবে ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ সমস্যা দূর হয়ে যায়।

কেউ কেউ অ্যাকুরিয়ামে ছোট শৈবাল বা জলজ উদ্ভিদও রাখেন। ডেকোরেশনের চেয়ে অন্য জায়গায় এর তাৎপর্য বেশি। এটা এক ধরনের নাইট্রোজেন সাইকেলের কাজ করে। মাছের বর্জ্য থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন যৌগ নির্গত হয়। কার্বন-ডাই-অক্সাইড সাধারণত বুদবুদ হিসেবে বের হয়ে যায় আর বাকিটুকু অ্যাকুরিয়ামের শৈবাল দ্বারা ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। নাইট্রোজেনাস যৌগ প্রথমে অ্যামোনিয়া, অ্যামোনিয়া থেকে নাইট্রেটে পরিণত হয়। নাইট্রেট শৈবাল দ্বারা শোষিত হয়।

অ্যাকুরিয়ামের পরিচর্যা
আপনার ট্যাপ থেকে অ্যাকুরিয়াম পর্যন্ত একটি রাবারের পাইপ।
অ্যাকুরিয়ামের পানি বের করার জন্য প্রায় ৫ ফুট লম্বা রাবারের পাইপ ব্যবহার করুন আর সপ্তাহে একদিন পানি পরিবর্তন করতে হবে।

কেমন অ্যাকুরিয়াম কিনবেন
আপনার যখন অ্যাকুরিয়াম কেনার সিদ্ধান্ত নিবেন, তখন প্রথমেই আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে আপনার ঘরের মাপ। কারণ বেশি বড় বা ছোট অ্যাকুরিয়াম আপনার ঘরে বেমানান লাগতে পারে। ধরে নিলাম একটি সাধারণ ঘরের মাপ হতে পারে ১০ ফুট বাই ১৫ ফুট। এ ধরনের রুমের জন্য ২ ফুট বাই ১ ফুট বা ২.৫ ফুট বাই ১.৫ ফুট অ্যাকুরিয়ামই আদর্শ। কাঁচের পুরুত্ব এখানে একটা ব্যাপার। তবে বড় অ্যাকুরিয়ামের ক্ষেত্রে পুরু কাঁচ নেয়া ভালো।

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অ্যাকুরিয়ামের অনেক দোকান আছে। তবে এর সমাহার দেখা যায় কাঁটাবনে। এখানে অনেক দোকান আছে ক্লাস্টারড হয়ে। অ্যাকুরিয়ামের স্ট্যান্ডসহ একটা(উল্লেখিত সাইজের) অ্যাকুরিয়াম আপনি ১ হাজার টাকায় কিনতে পারবেন। তারপর তাতে বিভিন্ন উপাদান যোগ করতে হবে। যেমন এখানে লাগবে পাথরকুচি, ফিল্টার, এয়ার মোটর, রাবারের ফ্লেক্সিবল পাইপ, এয়ার এক্সিকিউটর। সাধারণ সাইজের অ্যাকুরিয়ামের জন্য প্রায় ১০ কেজি পাথরকুচির(প্রতি কেজি ১৫-২০ টাকা) দরকার। এয়ার মোটরের দাম(সাধারণ মানের) প্রায় ২৫০-৬৫০ টাকা, ফ্লেক্সিবল পাইপ ১০ টাকা গজ, এয়ার এক্সিকিউটর ১০০-২৫০ টাকা, ফিল্টার ১০০ টাকায় পাওয়া যায়। এটাই একটি অ্যাকুরিয়ামের জন্য দরকারি উপাদান। এরপর যে কেউ পছন্দের বিভিন্ন ডেকোরেশন আইটেম দিয়ে তার অ্যাকুরিয়াম সাজাতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়ামের সাইজ একটা ব্যাপার সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আপনি আপনার অ্যাকুরিয়ামে আলো জ্বালাতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি এনার্জি সেভিং বাল্ব ব্যবহার করতে পারেন। আরেকটু ভালো হয় হ্যালোজেন বাল্ব পাওয়া যায়, যেটা দেখতে একেবারে চিকন এবং আলোটাও কিছুটা বেগুনি। যেটা অ্যাকুরিয়ামের দোকানে ব্যবহার করা হয়। যার জন্য মাছের কালারগুলো খুব সুন্দর লাগে বাইরে থেকে।

অ্যাকুরিয়ামে পাথরকুচির নিচে একটি ওয়েট ডাস্ট ফিল্টার রাখতে হয়। তার সঙ্গে একটি এয়ার এক্সিকিউটর থাকে যেটা দিয়ে বাতাস বের হবার সময় ভিতরে কিছুটা ঊর্ধ্বচাপের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ময়লাগুলো খুব ধীরে ধীরে পাথরের ভেতর দিয়ে ওই ফিল্টারের নিচে গিয়ে জমা হয়। সেক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়ামে সবসময়ের জন্য এ যন্ত্র চালিয়ে রাখতে হবে।

এইচ/০০:৩০/২১ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে