Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২০-২০১৯

টিআইবির গবেষণা ‘প্রত্যাখ্যান’ করলো ঢাকা ওয়াসা

টিআইবির গবেষণা ‘প্রত্যাখ্যান’ করলো ঢাকা ওয়াসা

ঢাকা, ২০ এপ্রিল- টিআইবির গবেষণা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাসকিম এ খান বলেছেন, টিআইবির এটি কোনো গবেষণা নয়, এটি একটি প্রতিবেদন। 

তিনি বলেন, এটি একটি সাদামাটা এবং একপেশীও প্রতিবেদন। এখানে স্ট্যান্ডবাজি হয়েছে।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা ওয়াসার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

তাসকিম এ খান বলেন, এটি কোনো প্রফেশনাল গবেষণা নয়, এটি একটি একপেশীও প্রতিবেদন। এটি তাদের মন গড়া। 

তিনি বলেন, টিআইবির প্রচারণার ধরণ, কৌশল ও অ্যাপ্রোচ দেখে এটা সহজেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে যে, গবেষণার সুনির্দিষ্ট তিনটি উদ্দেশের রেশ ধরে আরোপিত পারসেপসন ভিত্তিক মনগড়া তথ্য দিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

ওয়াসার এমডি টিআইবিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পানির সংযোগ এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য অনলাইনে আবেদনের কারণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। মিটার রিডার যাতে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ না করতে পারে সেজন্য ইতোমধ্যে মিটার অটোমেশন পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। অচিরেই ঢাকা ওয়াসার পানির মিটারকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ভিশন ২০২১ কে সামনে রেখে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ শতকরা ৭০ ভাগ ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে এবং শতকরা ৩০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ থেকে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা ওয়াসা কাজ করছে। এর ফলে পরিবেশবান্ধব, গণমুখী এবং টেকসই পানির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হবে। এর আলোকে তিনটি বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণ কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের বিষয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে কিছুই উল্লেখ নেই। পানির পাম্পে এসসিএডিএএস স্থাপন করে ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ দ্বারা গভীর নলকূপের অপারেশন, কন্ট্রোল ও মনিটরিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে ঢাকা ওয়াসার পরিচালন ব্যয় কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে টিআইবির প্রতিবেদনে জনবল ঘাটতির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার অভীষ্ট লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির বিষয়ে টিআইবির অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ্য করে তাসকিম এ খান বলেন, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা অত্যাধুনিক ওয়াসা লিংক ১৬ হাজার ১৬২ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেখানে গ্রাহকের দায়ের করা প্রতিটি অভিযোগ কন্ঠ রেকর্ড করা হয়। জুলাই ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৬৭ অভিযোগ পাওয়ার বিপরীতে ১১ হাজার ২০৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়। নিষ্পত্তির সংখ্যাই বলে দেয় এখানে অনিয়ম, হয়রানি, দুর্নীতি, ঘুষ বা নিয়ম বহির্ভূত অর্থ আদায় ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার নিম্নমানের পানির কারণে প্রতিবছর পানি ফুটানোতে অপচয় ৩৩২ কোটি টাকা। ঢাকা ওয়াসাকে নিয়ে টিআইবির যে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে তা কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য না, এটি সম্পূর্ণ হাইপোথেটিক্যাল এবং বাস্তব বিবর্জিত। 

ওয়াসার এমডি বলেন, ঢাকা শহরে বসবাসরত ১ কোটি ৭২ লাখ মানুষ সবাই পানি ফুটিয়ে পান করেন না এবং ফুটানোর প্রয়োজনও পড়ে না। ঢাকা ওয়াসার পানির উৎস থেকে গ্রাহকের জলাধার পর্যন্ত শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ সরবরাহকৃত পানি নিজস্ব ল্যাবে নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়। 

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ১১ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসা আওতার্ভুক্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৪৩টি নমুনা পানি সংগ্রহ করে ই-কুলিসহ অন্যান্য জীবাণুবিষয়ক ও ভৌত রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। ওইসব পরীক্ষায় ফলাফলে ই-কুলির ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা গভীর নলকূপ ১০০ ভাগ সরবরাহ লাইনে ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং গ্রাহকের জলাধার ৬০ দশমিক ২৮ শতাংশ সন্তোষজনক পাওয়া যায়। এখানে তারা সঠিক বলেননি।

টিআইবির প্রতিবেদনে সুশাসন ও সক্ষমতা যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তাসকিম এ খান বলেন, আমরা ওয়াসার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি এবং সক্ষমতাও বাড়িয়েছি। 

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের সঙ্গে ২০১৮ সালের ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়ন সূচক তুলনা করলে দেখা যায় যে, প্রতিবছর রাজস্ব খাতে আয় ৬৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৮ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে প্রতিবছর অতিরিক্ত আয় বেড়ে এ বছর দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। আবার সিস্টেম লস ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এখানেও ক্রমান্বয়ে প্রতিবছর অতিরিক্ত আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এসব বিবেচনায় এ বছর ঢাকা ওয়াসা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করেছে। সুতরাং টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে যেটি প্রকাশ হয়েছে তা একপেশে এবং উদ্দেশ্যমূলক। এটি শুধু ঢাকা ওয়াসাকে প্রতিপন্ন ও বিব্রত করার জন্য করা হয়েছে। তাই ঢাকা ওয়াসা টিআইবির এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছে।

এসময় অনুষ্ঠানে বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

সূত্র: বাংলা নিউজ
এমএ/ ০৪:২২/ ২০ এপ্রিল

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে