Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৮-২০১৯

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের মত প্রকাশ কতটা নিরাপদ?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের মত প্রকাশ কতটা নিরাপদ?

বাংলাদেশের একজন মডেল ও অভিনেত্রী সাফা কবির একটি রেডিও অনুষ্ঠানে পরকালে বিশ্বাস করেন না এমন মন্তব্যের পর নিজের ফেসবুক পাতায় মারাত্মক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

এফএম রেডিওটির ফেসবুক পাতায় সেটি লাইভ সম্প্রচার করা হয়েছিলো। সেখানে পরকালে বিশ্বাস করেন কিনা এক শ্রোতার পাঠানো এমন প্রশ্নের জবাবে খুব হালকাভাবে তিনি বলছিলেন তিনি যা দেখেননি তা তিনি বিশ্বাস করেন না।

এরপর সেই ফেসবুক লাইভেই ভয়াবহ মন্তব্য আসতে শুরু করে। প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বিবিসি বাংলা।

ওই প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়- ১৬ এপ্রিল নিজের ফেসবুক মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে একটি পোস্ট করেন সাফা কবির। সেটিতে মন্তব্য রয়েছে ৬০ হাজারের বেশি। যার বেশিরভাগই নেতিবাচক ও নোংরা। যৌন ইঙ্গিত রয়েছে অনেক মন্তব্যে। এমনকি ধর্ষণের হুমকিও রয়েছে।

বাংলাদেশে সরকারি এক হিসেবে বলা হয়েছে অনলাইনে ৭০ শতাংশের বেশি নারী হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন।

নারীরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কতটা স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারেন?

দুজন নারীর অভিজ্ঞতা: ফেসবুকে সরব এমন একজন সাংবাদিক ও লেখক শারমিন শামস।

তিনি বলছিলেন নারীবাদ, নারী অধিকার নিয়ে লেখালেখি করেন বলে সোশাল মিডিয়ায় নিজের পোস্টে, এমনকি নিউজ পোর্টালগুলোতে নিজের লেখার নিচে ভয়াবহ সব মন্তব্য দেখে তিনি অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।

একটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলছেন, ‘মেয়েদের চাকরি করা উচিত এমন একটা লেখা ছাপা হওয়ার পর আমাকে লিখেছে আমাকে কোথায় ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হবে। এমনকি আমার মাকে কিভাবে রেপ করা হবে, বিশদ বর্ণনা সহ।’

তিনি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতের হিজাব নিয়ে করা একটি নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতিবাদ করেন।

তিনি বলছেন, ‘একজন মন্তব্য করেছে যে নুসরাত ইরানি বোরখা পরেছে। তাতে তার পর্দা হয়নি। সে যেহেতু এক সময় এমনিতেই দোজখের আগুনে পুড়তো তাই তাকে এখনি দুনিয়াতে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেটা ঠিক হয়েছে।’

‘এমন মন্তব্যের স্ক্রিনশট আমি ফেসবুকে দিয়েছিলাম। এরপর থেকে সেই লোক একটা ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে আমাকে ইনবক্সে মেসেজ পাঠানো শুরু করলো। ওটা সরাতে বলল। আমাকে গালি দিলো। তার রিপোর্টের জন্য আমার অ্যাকাউন্ট তিনদিনের জন্য ব্লক হয়ে গিয়েছিলো।’

‘নারীরা আস্তে আস্তে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে’

লীনা পারভীন একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। ফেসবুকে তার নিয়মিত উপস্থিতি। বলছিলেন, ‘অনলাইনে লেখালেখি করি। মাঝে মাঝে দেখা যায় এমন বাজে সব কমেন্ট করা হয়, যেগুলো আমার নারী সত্তাকে কেন্দ্র করেই কমেন্টগুলো আসে। আমি টিপ পরি সে নিয়ে জঘন্য মন্তব্য করা হয়েছে। ধরেন বেশ্যা জাতীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। বাকিগুলো এতই নোংরা যে সেগুলো মুখে উচ্চারণ নাইবা করলাম।"

তিনি বলছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক জায়গায় মন্তব্য করাই বন্ধ করে দিয়েছি। আমার মতো আরও অনেক নারী যারা ফেসবুকে কথা বলার একটা জায়গা পাচ্ছিলো তারাও অনেকে আস্তে আস্তে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে।’

কেন এই অবস্থা?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলছেন, ‘কোন বিষয়ে একজন পুরুষ যদি কিছু বলেন তাকে ঐ বিষয়টা বলার জন্য হেনস্থা হতে হয়। কিন্তু একজন নারী যদি বলেন তার ক্ষেত্রে একটা বাড়তি জিনিস যুক্ত হয়। তাকে নারী হিসেবেও হেনস্থা হতে হয়।’

তিনি বলছেন, ‘এগুলো আগেও ছিল। যেমন আগে যখন আমরা স্কুলে যেতাম আমরা অনেক কথা শুনতাম। কিন্তু ফেসবুক হওয়াতে এগুলো এখন লিখিতভাবে পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুকে এত ধরনের মানুষের এখন অ্যাকসেস হয়েছে যে তাদের মনের কথাটা বা তাদের ধর্ষকামী যে মন, সেটিকে তারা উন্মুক্ত করার সুযোগ পান বাধাহীন ভাবে।’

‘কারণ একই লেখা যদি একটা পত্রিকায় লিখতে হতো তাহলে তো অনেক ফিল্টারিং হতো। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেটা হচ্ছে না। তাই ওপেনলি তারা তাদের যা খুশি তাই বলতে পারেন।’

তিনি বলছেন, এসব ঘটনাকে কোন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না বিধায় এসব ঘটনা চলছে।

আইনের প্রয়োগ একই রকম নয় কেন?

বাংলাদেশে সরকার সম্প্রতি খুব কঠোর একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ করেছে। অধ্যাপক কাবেরী গায়েন বলছেন, ‘কোনও নেতা নেত্রীকে কটূক্তি করলে তাদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে মামলা হচ্ছে। তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

কিন্তু তিনি বলছেন যখন কোন মেয়ের ব্যাপারে এসব কথাগুলো বলা হচ্ছে বা ‘মেয়েদের নিয়ে বীভৎস ভাষায় ওয়াজ করা হচ্ছে’, তাদের কিন্তু ধরা হচ্ছে না।

আর শারমিন শামস প্রশ্ন তুলছেন, ‘এই যে মেয়েদের অনলাইনে এত ভয়াবহ কথা বলা হচ্ছে, এই যে সাফা কবিরের ক্ষেত্রে যা ঘটলো বা আমি নিজে অসংখ্যবার পুলিশের কাছে গেছি এসব ক্ষেত্রে একই আইনের প্রয়োগ কেন নেই?’

এমএ/ ০৫:১১/ ১৮ এপ্রিল

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে