Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯ , ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৭-২০১৯

বিজিএমইএ ভবন ভাঙার খরচ দেবে কে?

গোলাম মওলা ও শাহেদ শফিক


বিজিএমইএ ভবন ভাঙার খরচ দেবে কে?

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল- আদালতের রায়ে রাজধানীর হাতিরঝিলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবন ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। কন্ট্রোলড ডেমোলিশন বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ১৫তলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। আদালতের রায় অনুযায়ী, ভবনটি ভাঙার খরচ দেবে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

জানতে চাইলে রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিজিএমইএ তাদের ভবন ভাঙেনি। সেজন্য আদালতের রায় অনুযায়ী আমরা আজ থেকে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু করেছি। তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের রায় অনুযায়ী, ভবনটি ভাঙতে যে ব্যয় হবে সব বিজিএমইএ বহন করবে।

এদিকে বিজিএমইএ’র বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে আদালতের রায় যেভাবে আছে সেভাবেই হবে। রায় অনুযায়ী ভবন ভাঙার ব্যয় যার বহন করার কথা সেই করবে। ভবন ভাঙার খরচ তাহলে বিজিএমইএ দিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, গার্মেন্টস কারখানা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) প্রধান কার্যালয়টির নাম ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’। এটি বিজিএমইএ ভবন নামে পরিচিত। অ্যাসোসিয়েশনের কর্ণধাররা রাজউকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ি খালের জলাশয়ের মাঝখানে ১৫তলা ভবনটি নির্মাণ করেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে আদালত বিজিএমইএ’র নিজ খরচে ভবনটি ভাঙার পক্ষে রায় দেন।

বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন শুরুতেই অভিযোগ তুলেছিল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে এবং উন্মুক্ত স্থান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ ভঙ্গ করে বেগুনবাড়ি খালের একাংশ ভরাট করার মাধ্যমে ওই ভবন তোলা হয়েছে।

সংবাদপত্রে প্রতিবেদন নজরে আনা হলে ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিল করলে ২০১৬ সালের ২ জুন তাও খারিজ হয়ে যায়।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচ আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা (রাজউক)।

পরে ২০১৭ সালের ৫ মার্চ আপিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা বিজিএমইএ’র আবেদনটিও খারিজ হয়ে যায়। এরপরও ভবন না ভাঙতে আদালতের কাছে বারবার সময় চান বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। তবে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল মুচলেকা দিয়ে ভবন ভাঙতে এক বছর সময় পায় বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ।

বিজিএমইএ’র মুচলেকায় থাকা তিনটি শর্তে বলা হয়, ‘আমাদেরকে এক বছর সময় দেওয়া হলে এক. আমরা আর সময় চাইবো না; দুই. আদালত যে আদেশ দেবেন তা মেনে চলবো; এবং তিন. আদালতের সময় শেষে বিজিএমইএ'র পরিচালনা পর্ষদে যারাই থাকবেন তারা ভবন ভাঙতে দায়বদ্ধ থাকবেন।’

মুচলেকায় থাকা তিনটি শর্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এক আদেশ দেন। ওই আদেশে বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেন আদালত। যার ধারাবাহিকতায় গত ১২ এপ্রিল বিজিএমইএ’কে বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হয়। এরপর মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ভবনটি ভাঙার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হয় রাজউক।

এই ভবনের শুরুটা হয়েছিল দুই দশক আগে, ১৯৯৮ সালে। সরকারের কাছ থেকে জমি বরাদ্দ নিয়ে নিজেদের এই ভবন নির্মাণ শুরু করেছিলেন দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা, যার কাজ শেষ হয় ২০০৬ সালে।

এদিকে ঢাকার উত্তরায় ১১০ কাঠা জমির ওপর ১৩তলা নতুন ভবন তৈরি করছে বিজিএমইএ; গত সপ্তাহে তা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আর/০৮:১৪/১৭ এপ্রিল

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে