Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ , ৮ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৭-২০১৯

বিমানের ঘাটে ঘাটে দুর্নীতি: সন্ধানে দুদকের চার টিম

মিজান মালিক


বিমানের ঘাটে ঘাটে দুর্নীতি: সন্ধানে দুদকের চার টিম

ঢাকা, ১৭ এপ্রিল- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিভিন্ন শাখায় কর্মরত পদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ফাইল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের টেবিলে।

এই সংস্থার ঘাটে ঘাটে ‘ব্যাপক’ দুর্নীতির অনুসন্ধান শক্তভাবে করার জন্য আলাদাভাবে উচ্চ পর্যায়ের চারটি টিম গঠন করেছে দুদক। সব টিম এরই মধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

এর অংশ হিসেবে একাধিক ব্যক্তিকে নোটিশ দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। বিমানের এমডিসহ তালিকার সবাইকেই পর্যায়ক্রমে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এমনকি পছন্দসই কোম্পানিকে কাজ দিয়ে নিজেরা লাভবান হয়েছেন- এমন একাধিক বোর্ড পরিচালককেও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত টিম বিমানের কার্গো হ্যান্ডলিং চার্জের ৭২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। বিমানের একটি সূত্র বলছে, ১০ বছরে ওই খাত থেকে ৭২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু সব তথ্য না থাকায় মাত্র ৪১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হয়।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ তদন্তে কার্গো শাখায় ৪১২ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য বেরিয়ে আসে। এর একটি কপি চেয়ে বিমান সচিবকে চিঠি দিয়েছে দুদক। চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের ওই রিপোর্ট ও এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ ১৬ এপ্রিলের মধ্যে দুদকে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিমানের নন হ্যান্ডলিং কার্গো শাখার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে দুদকের চিঠিতে সরকারি অডিট রিপোর্টের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘সার্কুলার না থাকায় সিডিউলবহির্ভূতভাবে বিমান থেকে কোনো টাকা আদায় করা যায়নি।

২০০২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৭২০ কোটি টাকা আদায় করা যেত। এই দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের তদন্তে কী ধরনের তথ্য রয়েছে তা জানাতে বলেছে দুদক। এই অর্থ তসরুপের সঙ্গে জড়িত বিমানের সবাইকে দুদকে তলব করা হবে। এমনকি অডিট রিপোর্ট ও মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট যারা তৈরি করেছেন তাদেরও বক্তব্য নেবে দুদক।

সূত্র জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে বিমানের ৮ খাতের দুর্নীতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লেফট-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি। এসব দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে অনুসন্ধান করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত টিম।

জানা গেছে, এই টিম বিমানের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে তিন পরিচালকসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে তিনজন পরিচালক ও একজন জিএমসহ পাঁচজনের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে গোপনে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনজন পরিচালক ও একজন ম্যানেজারের বক্তব্য রেকর্ড ও সম্পদের সব ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক। আর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে এক পদস্থ কর্মকর্তাকে। নোটিশ পেয়ে তিনি তার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের হিসাবও দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত অপর টিম বিমানের পাইলট নিয়োগে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে। এ ছাড়া ‘ঋণ-দেনা, অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে খাবি খাচ্ছে বিমান’ এই শিরোনামে দুর্নীতির অনুসন্ধানের জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে।

তিনি এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়ে আজ-কালের মধ্যে বিমান সচিবকে চিঠি দেবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া পছন্দসই কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিয়ে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন- এমন একাধিক বোর্ড পরিচালককেও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে। অনুসন্ধানের স্বার্থে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের চিন্তাভাবনা করছে দুদক।

বিমানের দুর্নীতির অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সোমবার এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানে বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতি-অনিয়মের কিছু সূত্র পাওয়া গেছে।

ওই কমিটি দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশও করেছে, যা আমরা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। পাশাপাশি ওই সংস্থার অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সোর্স থেকে বিমানের দুর্নীতির বিষয়ে যেসব তথ্য পেয়েছি, সে বিষয়ে অনুসন্ধান হবে।

দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, বিমানের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লোপাট সংক্রান্ত একটি অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিমানের পরিচালক (মার্কেটিং) আলী আহসান বাবু, শফিকুর রহমান, মোমিনুল ইসলাম ও জেনারেল ম্যানেজার (জিএসই) মো. তোফাজ্জল হোসেন আকন্দের বক্তব্য নেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন।

অপরদিকে বিমানের কমার্শিয়াল অফিসার মাহফুজুল করিম সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী রুবিনার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ পেয়ে তিনি ৫৩ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দাখিল করেছেন।

তিন পরিচালকসহ বাকি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তারা দুদক কর্মকর্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সম্পদের যে তথ্য দিয়েছেন তা যাছাই-বাছাই চলছে বলে জানা গেছে। বিমানের ম্যানেজার (জিএসই) মো. তোফাজ্জল হোসেন আকন্দ দুদক কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তার ৪২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। পরিচালক মোমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তিনি কুষ্টিয়ায় বাগানবাড়ি করেছেন। রয়েছে তার পরিবহন ব্যবসা ও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ডহোম।

তবে তিনি এসব সম্পদের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, তার সমুদয় সম্পদ ট্যাক্স ফাইলে দেখানো আছে। সদ্য অবসরে যাওয়া পরিচালক শফিকুর রহমান দুদককে জানিয়েছেন, তার ৩৯ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। উত্তরায় রয়েছে একটি প্লট, তিনি পেনশন সুবিধা হিসেবে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পেয়েছেন বলেও জানান। তবে অপর পরিচালক আলী আহসান বাবু কত টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন তা জানা যায়নি।

এদিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিমানের এমডি মোসাদ্দেক আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রকল্পের দুর্নীতি খুঁজে বের করতে। এই টিমের সঙ্গে সহকারী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিনকেও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া সহকারী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিনকে আলাদাভাবে বিমানে পাইলট নিয়োগে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় বলে জানা গেছে। পাইলট নিয়োগে অনিয়মের ঘটনায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি মোসাদ্দিক আহমেদসহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের বক্তব্য নিতে চায় দুদক টিম।

অন্যদিকে বিমান মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, আন্তর্জাতিক স্টেশনগুলোতে কার্গো পণ্য পরিবহনে সবচেয়ে বেশি হরিলুটের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে লন্ডন, জেদ্দা, দুবাই, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর স্টেশনের অবস্থা বেশি খারাপ।

প্রধান কার্যালয়ের কার্গো শাখা, মার্কেটিং বিভাগ ও শীর্ষ পর্যায়ের একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে স্টেশন ম্যানেজার, কান্ট্রি ম্যানেজার ও স্থানীয় জিএসএর (জেনারেল সেলস এজেন্ট) কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এ লুটপাটের সঙ্গে জড়িত।

এর সঙ্গে যুক্ত পরিচালনা পর্ষদেরও দু-একজন অসাধু পরিচালক। যাদের বিষয়ে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানেও ধারণা পাওয়া গেছে। তবে অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদক এ মুহূর্তে বিমানের সংশ্লিষ্ট দায়ী কর্মকর্তাসহ পরিচালনা পর্ষদের অসাধু পরিচালকদের নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। যদিও বিমান মন্ত্রণালয়ের তদন্ত সূত্রে কিছু কিছু নাম এরই মধ্যে জানাজানি হয়ে গেছে।

বিমানের টিকিট ব্লক করে কালোবাজারে বিক্রির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানের ওই সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। বিমান মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তদন্তের তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, চক্রটি এই প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। যার নেতৃত্বে ছিলেন বিমানের পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) আশরাফুল আলম।

দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধান রিপোর্টেও বলা হয়েছে, উড়োজাহাজ কেনা, বিমানের স্পেয়ার্স, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট কেনা এবং এয়ারক্রাফট লিজের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে। কম্পিউটার-নেটসর্বস্ব কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ফার্ম বিমানের সঙ্গে লিয়াজোঁ করার নামে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কতিপয় বোর্ড পরিচালককে অনৈতিকভাবে কনভিন্সড করে মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়।

এসব ফার্ম দরপত্রের স্পেসিফিকেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এমনভাবে নির্ধারণ করে, যাতে পছন্দসই কোম্পানি কাজ পায়। প্রাক্কলিত মূল্য প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হয়। ফলে নিম্নমানের ইকুইপমেন্ট ২-৩ গুণ বেশি দামে কিনতে হয়। বিমানের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বোর্ড ডিরেক্টর এসব ফার্মের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ মালিকানা/লভ্যাংশের অংশীদার বলে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিমান লিজ নেয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী ফার্ম কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে শর্ত দেয়া হয়। এসব শর্তের কারণে বাংলাদেশ বিমানের হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়ে থাকে। ইঞ্জিনের মেজর চেকসাইকেল, এক্সপায়ারি ইত্যাদি ভালোভাবে না দেখায়, বিমান লিজের মেয়াদ শেষে হাজার কোটি টাকা দিয়ে নতুন ইঞ্জিন প্রতিস্থাপন করে বিমান ফেরত দিতে হয়েছিল।

এমনভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়, যাতে ভালো কোম্পানির হাতে লিজ দেয়ার মতো বিমান না থাকে। বাধ্য হয়ে বেশি মূল্যে অসাধুদের পছন্দের কোম্পানি থেকে নিম্নমানের বিমান লিজ নিতে হয়। এ ছাড়া বিমান এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনাকাটায় শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়ে থাকে বলে দুদকের ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদনে তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে আরও বলা হয়, বিমানের বোর্ড পরিচালক ও কর্মকর্তারা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য তাদের পছন্দসই প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ দেয়া হয়।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/১৭ এপ্রিল

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে