Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২০ , ১৩ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (55 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৭-২০১৩

বিকল্প ব্যবসা: ঝিনাইদহে জমজমাট চুলের বাজার


	বিকল্প ব্যবসা: ঝিনাইদহে জমজমাট চুলের বাজার

ঝিনাইদহ, ২৭ আগষ্ট- মানুষের মাথা থেকে ঝরে পড়া চুল বেচাকেনা হয় ঝিনাইদহে। প্রতি কেজি চুল বিক্রি হয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। তবে লম্বা চুলের দাম একটু বেশি। প্রতিদিন ৩০-৩৫ কেজি চুল এখানে বেচাকেনা হয়। চুল কিনতে অফিস খুলে বসেছে চীনা প্রতিষ্ঠান জেডসিডি।

চুল ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও মাগুরা থেকে এখানে পরিত্যক্ত চুল আসে। এসব জেলার বিভিন্ন বাজার ও বিউটি পারলার থেকে এজেন্টের মাধ্যমে চুল সংগ্রহ করেন আজগর আলী। তিনি চুল প্রক্রিয়াকরণ কারখানাও গড়ে তুলেছেন। প্রক্রিয়াকরণের পর তা বিক্রি করেন জেডসিডির কাছে।
 
ঝিনাইদহ জেলা শহরের ঋষিপাড়া ও ষাটবাড়িয়ায় বেশ কয়েকটি চুল প্রক্রিয়াকরণ কারখানা রয়েছে আজগর আলীর। এসব কারখানায় কাজ করছেন কয়েকশ নারী। বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত চুলের জট ছাড়ান তারা। কারখানার নারীরা জানান, আগে তারা বেকার ছিলেন। এখন কাজ পেয়েছেন, নিজেরা আয় করছেন।
 
ষাটবাড়িয়া গ্রামের ঋষি পরিবারের বহু নারী চুলের জট ছাড়ানোর কাজে জড়িত। ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একসঙ্গে প্রায় ৭০ জন নারী চুলের জট ছাড়াচ্ছেন। বিশাল একটি গুদামঘরে সারিবদ্ধভাবে তারা এ কাজ করছেন। দীপু দাস তাদেরই একজন। তিনি জানান, তার স্বামী বৃন্দাবন দাস রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। আগে তাদের সংসার ঠিকমতো চলছিল না। বাড়িতে মাঝে মধ্যে ডালা-কুলা তৈরির কাজ করতেন। এতে সামান্য আয় হতো। স্বামীর আর তার সামান্য আয় দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে ছিলেন। এখন তিনি প্রতিদিন ৭০ টাকা আয় করছেন। প্রবীর দাসের স্ত্রী প্রেয়সী দাস বলেন, ‘চুলের জট ছাড়ানোর কাজ করে প্রতিদিন পারিশ্রমিক পাই। এতে সংসারের অনেক উপকার হচ্ছে।’
 
কারখানার মালিক আজগর আলী জানান, তিনি এ জট ছাড়ানো চুল আগে ঢাকায় পাঠাতেন, এখন ঝিনাইদহে বিদেশীরা অফিস খোলায় সেখানে দেন। ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়া এ কাজে শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ কারণে ঝিনাইদহের ঋষিপাড়াকে বেছে নেয়া হয়েছে। এখানে একটি ঘরভাড়া নিয়ে চুলের কাজ করাচ্ছেন। তার কারখানায় গড়ে ৭০ জন নারী প্রতিদিন কাজ করেন। চিরুনিতে আটকে যাওয়া ও পার্লারের চুল তিনি হকারের মাধ্যমে কেনেন। প্রতি কেজির দাম পড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আর জট ছড়ানোর পর তা ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। ১২ ইঞ্চির বড় চুলের দাম বেশি বলে জানান তিনি।
 
ঝিনাইদহ শহরের স্বর্ণপট্টিতে চীনা প্রতিষ্ঠান জেডসিডির ক্রয় কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, এখানে চুল কিনে তারা দেশে নিয়ে যান। বিভিন্ন ধরনের শৌখিন জিনিস ও ক্যাপ তৈরিতে ব্যবহার হয় এ চুল। ঝিনাইদহ ক্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে ৩০ কেজি চুল সংগ্রহ হয় বলে জানান তারা। এখানে কর্মরত ঢাকার মিরপুরের আক্তারুজ্জামান জানান, গ্রামাঞ্চলে ফ্যাশনের ছোঁয়া ও বিউটি পার্লার ছড়িয়ে পড়ায় এখন আর মেয়েরা চুল বড় করতে চান না। তাই লম্বা চুল সংগ্রহ হচ্ছে কম।

ঝিনাইদহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে