Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯ , ১০ ভাদ্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-১৫-২০১৯

ফেসবুক থেকে আসা অর্থে শহরের প্রথম পাঠাগার

ফেসবুক থেকে আসা অর্থে শহরের প্রথম পাঠাগার

নয়াদিল্লি, ১৫ এপ্রিল- ভারতের নাগাল্যান্ডের শহর ডিমাপুর। সেখানকার ব্যবসায়ী ইমতিসুনুপ লংচার ২০১৭ সালের আগস্টে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা চাওয়া হয় ওই পোস্টে। কেননা, শহরটিতে কোনো পাবলিক লাইব্রেরি ছিল না।

অভূতপূর্ব সাড়া মেলে ওই পোস্টে। বই, অর্থ আর পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে আসে মানুষ। পোস্টটি পড়ার পর প্রথমেই যারা এগিয়ে আসেন সুসান লতা তাঁদের অন্যতম। একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরিরও স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

শহরে যে কোন পাবলিক লাইব্রেরি নেই, অবসরে যাওয়া লতার বাবারও দুঃখবোধ ছিল তা নিয়ে।লংচারের সঙ্গে দেখা করলেন লতা। আটজনকে নিয়ে একটি দল গঠন করতে সাহায্য করলেন। দলের সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‌ও ফেসবুকের মাধ্যমে কাজ করতে লাগলেন। লাইব্রেরির ছয় মাসের সদস্যপদ দেওয়ার মাধ্যমে উঠল ৩০ হাজার রুপি (৪৩৭ ডলার)।

মাত্র ১০ মাসেই গড়ে উঠল দীমাপুর পাবলিক লাইব্রেরি। একটি পোস্ট থেকে জন্ম হলো শহরটির একমাত্র সক্রিয়, স্বাধীন পাবলিক লাইব্রেরিটি। ২০১৮ সালের ৪ মে উদ্বোধন করা হলো। ছোট হোক, তবু  গোটা বিশ্বেই এটি একটি নজির।

শহরের শিল্পাঞ্চলের মাঝে স্কুল আর গীর্জা। তার মাঝখানে একটি ছোট জায়গায় দাঁড়াল লাইব্রেরিটি। বড় পরিসর নিয়ে দুটি সজ্জিত কক্ষ। কাঠের তাক, টবে লাগানো গাছ আর একটি ওয়াটার কুলার। এক কোণে, ছয়টি বসার টুল এবং একটি লম্বা টেবিল। সেখানেই পড়ার ব্যবস্থা। একজন মাত্র কর্মচারী দু'রকম দায়িত্ব পালন করেন। একদিকে তিনি লাইব্রেরিয়ান, আবার রিসেপশনিস্টও।

বইয়ের সংগ্রহ ছোটই। তবে নতুন পুরনো মিলে একেবারেই খারাপ নয়। সৃজনশীল বইয়ের পাশাপাশি একাডেমিক বইয়েরও সেকশন আছে একটি।

লংচার বলেন, 'লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি মাথায় রাখা হয় বেশি। তারাই এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কেননা, চাকরি প্রত্যাশীদের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য কাগজপত্র তৈরি, পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি কিংবা গবেষণার জন্য তাদের একটি জায়গা প্রয়োজন। যেসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনার জন্য বাড়িতে আলাদা রুম নেই তারা এখানে পড়ার অনুমতি চাইতে পারে।'

২০০৯ সালে শহরটির একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে যায়। নতুন লাইব্রেরিটি সেই জায়গাটি পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বন্ধ করে দেওয়া লাইব্রেরি সম্পর্কে লতা বলেন, 'ওই লাইব্রেরিটি যাঁরা পরিচালনা করতেন তারা জানতেন না কীভাবে এ নিয়ে কাজ করতে হয়।

লতা আরো বলেন, নাগাল্যান্ডের রাজধানী কোহিমায়  একটি সরকারি লাইব্রেরি ছিল। কিন্তু এখন তা  কার্যকর নয়। রাজ্যের ১২টি জেলার অনেক জেলায় কোনো লাইব্রেরি নেই। তিনি বলেন, পৃথক রাজ্যের জন্য নাগাল্যান্ডকে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে। অবশেষে ১৯৬২ সালে সেই সংগ্রাম সফল হয়। অথচ  আমরা লাইব্রেরির জন্য চিন্তা বা কোনো তহবিল গঠন করিনি।

অনলাইন মার্কেটপ্লেস আইল্যান্ডলো'র প্রতিষ্ঠাতা লংচার জন্য, 'আমাদের এমন অনেক খোলা জায়গা তৈরি করতে হবে যেখানে প্রত্যেকে যেতে পারে, পড়তে পারে; এমনকি পান করতে পারে এক কাপ কফিও। তিনি বলেন, শৈশবে একটি আবেগের জায়গা দখল করেছিল বই। বয়স বাড়ার সাথে সাথে উপযোগী বই তখন ছিল দুর্লভ। আমরা কয়েকজন বন্ধু নিজেদের মধ্যে বই বিনিময় করতাম। এখন বই সহজলভ্য। কিন্তু যাদের অর্থ নেই আমরা তাদেরকে সেই সুযোগটুকু করে দিতে চাই।

লাইব্রেরিটিতে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের উর্ধ্বে বছরেরও এবং অক্ষমরা ফ্রি।  শিক্ষার্থীদেরকে বছরে দিতে হয় ১৫০ রুপি এবং অন্যদের ৩০০ রুপি। এখন পর্যন্ত ১০ জনের ওই দলটি নিজেদের পকেট থেকে ভাড়া মেটাচ্ছে। তারা  সরকারি বিভাগ, স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন, কিন্তু এখনো মেলেনি কোনো সাড়া।

সূত্র: কালের কণ্ঠ 
আর এস/ ১৫ এপ্রিল

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে