Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৪-২০১৯

বিভিন্ন দেশে নববর্ষ যেভাবে পালিত হয়

বিভিন্ন দেশে নববর্ষ যেভাবে পালিত হয়

ধনী, দরিদ্র, উন্নত কিংবা অনুন্নত, বিশ্বের সব দেশেই পালিত হয় নববর্ষ। নিজ নিজ বর্ষপঞ্জীর প্রথম দিনটিকে বিশেষভাবে পালন করে সবাই। এই বর্ষবরণের মধ্যেই মিশে থাকে একটি জাতির হাজার হাজার বছরের কৃষ্টি, সংষ্কৃতি আর ঐতিহ্য।

হালখাতা, মঙ্গল শোভাযাত্রা আর পান্তা ভাত যেমন বাঙালির বর্ষবরণের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ, ঠিক তেমনি বিশ্বের নানা প্রান্তে বর্ষবরণকে ঘিরে রয়েছে নানা রীতি ও বিশ্বাস। চলুন জেনে নিই, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কীভাবে নতুন বছরকে বরণ করা হয়-

চীন

চীনে নববর্ষে একে অন্যের গায়ে পানি ছুঁড়ে মারে। এভাবে পানিতে ভিজে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে আত্মশুদ্ধির অভিযান। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে তারা ড্রাগন ও সিংহের প্রতীক নিয়ে নাচ-গান করে। চীনারা বিশ্বাস করে ড্রাগন হচ্ছে দীর্ঘায়ু ও সম্পদের প্রতীক। আর সিংহ হলো শৌর্য-বীর্যের অপর নাম।

ইংল্যান্ড

লণ্ডনের অধিবাসীরা বিগবেনের ঘণ্টাধ্বনি শুনে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। এসময় তারা গ্রেট ব্রিটেনের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রার্থনাও করে। ইংল্যাণ্ডে নতুন বছরে ছেলেমেয়েরা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পরিপাটি হয়। এরপর তারা দলবেঁধে গান গাইতে গাইতে প্রতিবেশিদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। সব বাড়ি থেকে তাদের দেওয়া হয় আপেল আর মিষ্টি। অনেকে আবার পকেটে দিয়ে দেয় চকচকে পাউন্ড।

ইংলিশরা মনে করে বছরের প্রথম দিনে যে মানুষটির সঙ্গে দেখা হবে তার যদি লাল চুল হয় এবং সে যদি অসুন্দর মহিলা হয়, তবে বছরটি হবে অবশ্যই দুর্ভাগ্যের। কালো চুলের অধিকারী, রুটি, টাকা অথবা হাতে লবণ নিয়ে আসা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে প্রথম দেখা হলে বুঝতে হবে বছরটি হবে আনন্দঘন।

ইংল্যান্ডের আরেকটি রীতি হলো, মেয়েরা একেবারে ভোরে ডিমের সাদা অংশ ছেড়ে পানিতে ছেড়ে দেয়। তাদের বিশ্বাস, এতে সুপাত্রের সঙ্গে বিয়ে হবে।

জাপান

জাপানে নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে দোকানপাট, কলকারখানা ও অফিস বন্ধ রাখা হয়। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করে দিনটি উদযাপন তারা। এদিন তারা খড়কুটো দড়ি দিয়ে বেঁধে ঘরের সামনে ঝুলিয়ে রাখে। তাদের বিশ্বাস এটা ভূত-প্রেত ও শয়তানদের বাড়ি থেকে দূরে রাখবে। নতুন বর্ষ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপানিরা হাসতে শুরু করে। এতে নাকি নতুন বছরে আনন্দ আসে।

হাঙ্গেরি

হাঙ্গেরীয়রা বছরের শেষ দিন হাঁস, মুরগি বা কোনো ধরনের পাখির মাংস খায় না। তারা বিশ্বাস করে, নতুন বছর শুরুর আগে উড়তে পারে এমন পাখির মাংস খেলে জীবন থেকে সব সৌভাগ্য উড়ে যাবে। হাঙ্গেরিতে প্রচলিত আরেকটি রীতি হলো, তারা নতুন বছরে পরিচিত বা বন্ধুদের যে উপহার দেন, তাতে চিমনি পরিষ্কার করছেন এমন একজন শ্রমিকের ছবি থাকে। তাদের মতে, উপহারে এই ছবিটি থাকলে পুরনো বছরের সব দুঃখ নতুন বছরে মুছে যাবে।

মাদাগাস্কার

পূর্ব আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কারে নতুন বছর শুরুর সাতদিন আগে থেকে মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর বছরের প্রথম দিন সবার বাড়িতে মুরগির মাংস রান্না হয়। বাড়ির কর্তা-গিন্নিরা মুরগির লেজের দিকের অংশটা খান। আর বাড়ির ছেলে মেয়েদের দেওয়া হয় মুরগির পা।

আয়ারল্যান্ড

আয়ারল্যান্ডে দেয়ালে পাউরুটি ছুড়ে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। তাদের বিশ্বাস, এটা করলে অভিশপ্ত আত্মা দূর হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরীয়রা নতুন বছরকে বলে ‘সোল-নাল’। নতুন বছরে ঘরের সামনে খড়ের সেচনী, ঝাঁঝরি বা চালনি ঝুলিয়ে দেয় তারা। এগুলো ভাল ফসল নিয়ে আসে বলে ধারণা তাদের। এদিন বাচ্চারা নতুন কাপড় পরে বড়দের পা ছুঁয়ে সালাম করে। সবাই মিলে একসঙ্গে ‘টুক্কুক’ নামক সুপ খায়। সঙ্গে থাকে চালের পিঠা। তাদের বিশ্বাস, সুপ খেলে বয়স বাড়ে। কোরীয়দের কেউ কেউ বয়সের হিসেব করে নববর্ষ থেকে, জন্মতারিখ ধরে নয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় নববর্ষ শুরুর সময় কেউ ঘুমায় না। তারা বিশ্বাস করে এ সময় ঘুমালে চোখের ভ্রূ সাদা হয়ে যাবে। সূর্যের আলো ফুটলে একে অপরকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানায় তারা। এর আগে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত সবাই অপেক্ষা করে।

পোল্যান্ড

পোল্যান্ডের তরুণীরা বর্ষবরণের রাতে খরগোশের মতো পোশাক পরে জড়ো হয়। এরপর খরগোশের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি জোগাড় করে তারা। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, জোগাড় করা শাকসবজিগুলো খরগোশের মতোই চিবিয়ে খেতে শুরু করে। তাদের ধারণা, খরগোশের মতো শাকসবজি খেয়ে নতুন বছরে পা দিলে সারা বছর শুভ যাবে।

ডেনমার্ক

ডেনিশরা নববর্ষের প্রারম্ভে চেয়ারের ওপর উঠে বসে। এরপর ঝাঁপ দেয় মেঝেতে। এভাবেই তারা নতুন বছরে পদার্পণ করে। তাদের আরেকটি রীতি হলো, বছরজুড়ে বাতিল করা সব বাসনপত্র তারা নববর্ষের দিনে আত্মীয়-বন্ধুদের দরজায় ছুঁড়ে মারে।

স্পেন

স্প্যানিশরা নববর্ষের শুরুতে মুখে ১২টি আঙুর পুরতে চেষ্টা করে। তাদের ধারণা, যে এই কাজটি করতে পারবে বছরটি তার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে।

মেক্সিকো

মেক্সিকোতে নতুন বছরের শুরুতেই ১২ বার ঘণ্টা বাজানো হয়। এ সময় প্রতি ঘণ্টা ধ্বনির সঙ্গে একটি করে আঙুর খাওয়া হয়। তারা বিশ্বাস করে এ সময় যা কামনা করা হয়, তাই পূরণ হয়। তাই এ সময় মেক্সিকানরা ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আশায় ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আঙুর খেয়ে নিজেদের মনের ১২টি ইচ্ছা ঈশ্বরকে জানাতে শুরু করে।

ভিয়েতনাম

ভিয়েতনামে বছরের প্রথম দিনের রান্নায় স্যুপ জাতীয় কোনো খাবার রাখা হয় না। তারা বিশ্বাস করে বছরের প্রথম দিন স্যুপ জাতীয় খাবার খেলে মাঠের ফসল বন্যায় ভেসে যাবে।

রোমানিয়া

রোমানিয়ায় কৃষিজীবীরা বছরের প্রথম দিনে তাঁদের গৃহপালিত গরুর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের চেষ্টা করেন। এই কাজে সফল হলে তা সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে বিশ্বাস তাদের।

প্যারাগুয়ে

প্যারাগুয়েতে বছরের শেষ পাঁচদিন বাড়ির চুলায় আগুন না জ্বালানোর রীতি প্রচলিত। এই পাঁচদিনকে তারা পালন করে ঠাণ্ডা খাবার খাওয়ার দিন হিসেবে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর নতুন বছরের ঘণ্টা বাজলে আগুন জ্বেলে রান্না শুরু করে তারা।

বুলগেরিয়া

বুলগেরীয়দের বিশ্বাস, বর্ষবরণের দিন হাঁচি দেওয়াটা বেশ মঙ্গলের। নতুন বছরে বাড়িতে আসা কোনো অতিথি যদি হাঁচি দেন, তাহলে বাড়ির কর্তা তাকে নিজের খামারে নিয়ে যান। এরপর সেই ব্যক্তির প্রথম নজর খামারে যে পশুটির ওপর পড়ে, সেই পশুটিকে গৃহকর্তা তাকে উপহার দেন। তাদের মতে, হাঁচি দেওয়া অতিথি পুরো পরিবারের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসেন।

ব্রাজিল

ব্রাজিলের কয়েকটি অঞ্চলের মানুষ বিশ্বাস করে, নতুন বছরের প্রথম দিনে সমুদ্রে সাতটি ডুব দিলে এবং সাতটি ফুল ছুড়ে দিলে বছরটি খুব ভালো কাটবে।

আমেরিকা

মার্কিন মুলুকে আতশবাজি ও নাচ-গানের মধ্যে দিয়ে নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে নববর্ষকে স্বাগত জানায় জনতা। অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশে মধ্যরাতে বাড়ির জানালা দিয়ে ঘরের নোংরা পানি বাইরে ছুঁড়ে মারা হয়। এতে করে নাকি গত বছরের সকল অশুভ শক্তি বাইরে চলে যায়। 

চাকমাদের নববর্ষ

চাকমাদের কাছে বিজুর দিনটি থাকে নাচে-গানে ভরপুর। নববর্ষে হালখাতা, মিষ্টি বিতরণ আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেমন্তন্ন খায় চাকমারা। নববর্ষের দিনে আকারে-ইঙ্গিতে বিয়েরও প্রস্তাব দেয় চাকমা তরুণ-তরুণীরা। নববর্ষে চাকমাদের আরেকটি রেওয়াজ হলো সবাই মিলে একসঙ্গে পানি খেলা। বিকালের পর চলে ফানুশ ওড়ানো।

এমএ/ ০৭:২২/ ১৪ এপ্রিল

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে