Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৩-২০১৯

ধর্মান্ধতায় সংখ্যালঘু প্রশ্ন

নাহিদা নাহিদ


ধর্মান্ধতায় সংখ্যালঘু প্রশ্ন

'অবিভক্ত ভারতবর্ষ ও অবিভক্ত বঙ্গে যদি মাইনরিটি সমস্যা না থাকত কিংবা তা সমাধানে অনতিক্রমণীয় বাধা না থাকত, তবে দেশ বিভাজন বা প্রদেশ বিভাজন কোনোটাই ঘটত না। তার অন্যান্য কারণ থাকলেও মূল কারণ দীর্ঘকালের অমীমাংসিত সমস্যা। সে সমস্যা যে কত জটিল, তার মাত্র একটি উদাহরণই যথেষ্ট। আমরা হিন্দুরা মনে করতাম, আমরা মাইনরিটি। কারণ অবিভক্ত বঙ্গে আমাদের সংখ্যা মুসলমানদের চেয়ে কম। আবার মুসলমানরা মনে করতেন, তারা মাইনরিটি; যেহেতু অবিভক্ত ভারতবর্ষে হিন্দুদের চেয়ে তাদের সংখ্যা কম।' কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্ধৃতি ধরেই বলা যায় সহজেই, সংখ্যালঘু তারাই যারা সংখ্যায় বা গণনায় কম। তিনি আরও বলেন, 'একই মানুষ একইকালে মেজরিটি তথা মাইনরিটি সম্প্রদায়ভুক্ত। ভারতবর্ষে মেজরিটি, বঙ্গদেশে মাইনরিটি। কিংবা ভারতবর্ষে মাইনরিটি, বঙ্গদেশে মেজরিটি।'

পৃথিবীর বয়স আনুমানিক ৪,৫০০ মিলিয়ন বছর। আয়তন ৫১,০১,০০,৫০০ বর্গকি.মি.। এই বিশ্বভূখণ্ডের প্রায় দুইশ' দেশে বর্তমানে বসবাস করছে প্রায় সাত বিলিয়ন মানুষ। প্রতিটা মানুষেরই ধর্ম আছে, এমনকি নাস্তিকেরও।

আবার প্রতিটা দেশেই রয়েছে সংখ্যালঘু। জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে লক্ষণীয়। বৈচিত্র্য কেবল মানুষকুলেই নয়; প্রকৃতিতেও রয়েছে নানাত্ব। উদ্ভিদজগৎ থেকে শুরু করে পশু-পাখি, জলজ প্রাণিকুল- রহস্যময় সব বিভাগেই বিভিন্নতা দেখতে পাই। সৃষ্টিতে অযুত-নিযুত সংখ্যালঘুকে পৃথক করে সংখ্যালঘু সমস্যার নামে নতুন বিভক্তি কেন? সংবাদ মাধ্যমেও ঢালাওভাবে ব্যবহার হয় 'সংখ্যালঘু' শব্দটি। এটার উচ্চারণই আমার অপ্রিয়।

আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ ইংরেজ শাসনের দীর্ঘতা ভেঙে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দু'দুবার স্বাধীনতা অর্জন করে; ১৯৪৭ সালে ইসলামিক রাষ্ট্র পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে প্রথমে, তার পর সর্বশেষ অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রত্যাভিযানে বাংলাদেশ নামে।

কালে ঢেকেছে নগ্নতা
লাল-সবুজ মলমলে
ঝাঁজ ঝাঁজ প্রক্ষালিত রক্ততোড়ে
ঘটে যায় আকিকা- পেয়ে যাই নাম-
বাংলাদেশ
বাংলাদেশি

বলার অপেক্ষা রাখে না, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে 'ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।' সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়।

সংখ্যালঘু প্রশ্নে সাম্প্রদায়িকতা একটা জটিল বিষয়। ইতিহাস ও সংস্কৃতি ঘাঁটলে আমরা দেখতে পাই, দেশভাগের অনেক আগে থেকেই ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিচরণ। যেমন চর্যাপদে দেখি বৌদ্ধদের ব্যাপারে হিন্দুদের ঘৃণা। আবার বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের সময় ব্রাহ্মণরা কুকুর লেলিয়ে তাদের তাড়াত- এ ধরনের বহু ঘটনা বা প্রমাণ আছে। তা ছাড়া মুসলমান শাসকদের ধর্মান্তরকরণের ইতিহাসও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বলা হয়, তরবারি-জোর ধর্মান্তরের পেছনে, যার সম্পূর্ণ ঠিকও বলা যাবে না, আবার ভুলও কিন্তু নয়। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি ধর্মান্ধতায় যেমন ভুল আচরণ করে; তেমনি স্বধর্মের হয়েও তারা বিভিন্ন দল বা বর্ণে বিভক্ত হয়। যেমন, সনাতন ধর্মে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্ররা বর্ণভেদ স্থায়ীরূপে গ্রহণ করে নিচু বর্ণের সদস্যদের প্রতি উঁচু সম্প্রদায়ের সদস্যদের অবজ্ঞা কিংবা অশ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আবার ইসলাম ধর্মেও অনেক দল ও উপদল সৃষ্টি হয়েছে অজ্ঞতার কারণে, কালক্রমে।

এদিকে, সংখ্যালঘু কারা- সে সম্পর্কে যদিও আন্তর্জাতিকভাবে সর্বসম্মত কোনো সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। তবুও জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ১৮ ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৭/১৩৫ সিদ্ধান্ত মোতাবেক গৃহীত জাতিসংঘ সংখ্যালঘু ঘোষণাপত্রের ধারা ১ অনুযায়ী জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ভাষাগত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীদের সংখ্যালঘু হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এটা প্রায়শ জোড়া দিয়ে বলা হয় যে, সংখ্যালঘুর অস্তিত্ব একটি তথ্যগত প্রশ্ন এবং সংখ্যালঘু সংক্রান্ত যে কোনো সংজ্ঞায় অবশ্য অবজেক্টিভ ফ্যাক্টর অর্থাৎ নৃতাত্ত্বিক, ভাষা বা ধর্মের অস্তিত্ব এবং সাবজেক্টিভ ফ্যাক্টর অর্থাৎ নিজেদের স্বতঃস্টম্ফূর্তভাবে সংখ্যালঘু হিসেবে শনাক্ত করার মতো উভয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাস, জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ভাষাগত বৈচিত্র্য একটি সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা প্রণয়নে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হয়। জাতিসংঘ মানবাধিকার ব্যবস্থায় জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সংখ্যালঘু ঘোষণাপত্রে সাধারণত সংখ্যালঘু শব্দটি জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক, ধর্মীয় ও ভাষাগত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয়েছে। বিশ্বের প্রতিটা দেশেই এক বা একাধিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাস লক্ষ্য করা যায়, যাদের নিজস্ব জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক, ধর্মীয় ও ভাষাগত স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের জন্য সে দেশের মূল জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে পৃথক করে রেখেছে।

সংখ্যালঘুর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধ ও তাদের মানবাধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতিসংঘ সাব-কমিশনের সম্মানিত বিশেষ প্রতিবেদক মি. ফ্রান্সেস্কো ক্যাপোটোর্টি ১৯৭৭ সালে সংখ্যালঘুর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, সংখ্যালঘু বলতে সে সম্প্রদায়কে বোঝাবে যারা সংখ্যাতাত্ত্বিক দিক দিয়ে একটি রাষ্ট্রের জনসংখ্যার অবশিষ্ট অংশের চেয়ে নূ্যনতম একটি আধিপত্যাধীন অবস্থানে রয়েছে, যারা জাতিগতভাবে এমন একটি নৃতাত্ত্বিক, ধর্মীয় ও ভাষাগত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, যা তাদের অবশিষ্ট জনসাধারণের কাছ থেকে পার্থক্য নির্দেশ করে এবং তা তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম সংরক্ষণ করে।

কোনো সম্প্রদায় সংখ্যালঘু কি-না, তা নির্ণয়ে সে সম্প্রদায়ের আধিপত্যহীন অবস্থানের নিশ্চয়তা অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সংখ্যাগতভাবে সংখ্যালঘু হয়ে থাকে। কিন্তু সংখ্যাগতভাবে সংখ্যাগুরু হয়েও একটি সম্প্রদায় সংখ্যালঘু হতে পারে, যদি সে সম্প্রদায় জনসংখ্যার অপর অংশের আধিপত্যাধীন থাকে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতিবিদ্বেষ শাসনামলে নিগ্রো সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি সম্প্রদায় সমগ্র রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও একটি বিশেষ অংশে অপর অংশের আধিপত্যাধীন থাকে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিশেষ রাজনৈতিক দল বা বিশেষ সেক্সুয়াল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি (সমকামী, উভকামী, হিজড়া, আন্তকামী) সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে বিবেচিত হবে কি-না, তা প্রায়শ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে থাকে। কারণ, যদিও জাতিসংঘ সংখ্যালঘু ঘোষণাপত্রে জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক, ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে যারা জীবনের প্রতিটি স্তরে বৈষম্যের শিকার হয় তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু সমাজের অন্যান্য অংশ যারা জেন্ডার, ডিজঅ্যাবিলিটি ও সেক্সুয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রতিনিয়িত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তাদের সংখ্যালঘু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সংখ্যালঘু শব্দটি দিনে দিনে তাম্বূলরাগে তিক্ত হচ্ছে। সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু দুটোর পার্থক্যজনিত অথবা গোঁড়ামি মতবাদে অহিষ্ণুতায় হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চলে। সে ক্ষেত্রে অনেকে ধর্মীয় গোঁড়ামি বলেন এটাকে। আমি বলি, মানুষের ধর্মান্ধতায় ধর্মের কী দোষ! যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষার অবকাঠামো দুর্বল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ নয়, গণতান্ত্রিক ও তান্ত্রিক সাম্যতায় উৎকর্ষ সাধনে ব্যর্থতার প্রকট লক্ষণীয়, সেখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু প্রচলিত ব্যপকভাবে। সংখ্যাগরিষ্ঠরা তুচ্ছার্থে ব্যবহূত সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে প্রতিষ্ঠা করে আরেক ধরনের বর্ণবাদ। 'একটা বিষয় শ্রেণি :সংখ্যালঘু', যখন বলা হয় তখন নিজেই নিজের তানকর্তবে ভাষাগত মানবধিকার করছি ভূলুণ্ঠিত। 

আমরা এও দেখেছি, বাকবিতণ্ডায় বর্ণবাদী হুজুগের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের মতো অনুকরণীয়, হৃদয়গ্রাহী নেতার পরাজয়। ইতিহাসের জঘন্যতম অধ্যায়ে দেখেছি ইহুদিদের গণহত্যার চিত্র। কেবল ইহুদি হওয়ার অপরাধে বিভিন্ন দেশের সংখ্যালঘু ইহুদিদের ধরে ধরে গ্যাসকক্ষে পাঠায় হিটলার; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় অধ্যায়ের অনেক বড় সাক্ষী বিখ্যাত অ্যানা ফ্র্যাঙ্কও ছিলেন নিহত প্রায় ছয় মিলিয়ন ইহুদির একজন। এ ছাড়াও ভারতবর্ষজুড়ে কলকাতা দাঙ্গার মতো বহু দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে ১৯৪৬-এ। যার ফলে জন্ম নেয় ১৯৪৭-এ পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র ধর্মের ভিত্তিতে। চোখের সামনে দেখছি, রাখাইন রাজ্য যা বর্তমানে জ্বলন্ত উদাহরণ; মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগণের ওপর সামরিক অভিযান, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ... আরেক ঘৃণ্য অধ্যায়, যা দেশটির সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের দ্বারা চলছে কয়েক দশক ধরে। সংখ্যালঘু মানেই যেন শোষণ-বঞ্চনার শিকার! 

ধর্মান্ধ উগ্রদের ধাক্কায় একবিংশ শতাব্দীতেও এমন বর্বরোচিত আচরণ আমরা দেখতে পাই- বিপন্ন আজ সংখ্যালঘুদের জীবন। এ ধরনের পৈশাচিক কার্যকলাপ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নধারা ও মানবকল্যাণে এক বৃহত্তর বাধা।

তবে এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না মোটেও, বর্তমানে সংখ্যালঘুরা অত্যাচারিত, নিপীড়িত ও ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপদগ্রস্ত হচ্ছে। যার মাপকাঠি বলা হচ্ছে ধর্মীয় চেতনাকে। আমি বলব, এটা ধর্মান্ধতা। পর্যাপ্ত শিক্ষা ও নৈতিকতায় যত উন্নত হবে জাতি, ততই যুগের কুসংস্কার থেকে বের হতে পারবে সে জাতি, দেশ, সংস্কৃতি তথা অসহায় মানবকুল। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু শুনতে চাই না। মুছে দিতে চাই সাম্প্রদায়িকতার কালকূট। হোক না কালক্ষয়, তবুও এ ধরনের কটকটে উচ্চারণ থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে একে অপরের পাশে থেকে জয়ী করতে চাই মনুষ্যত্বকেই। বিষয়টা যখন 'ধর্মান্ধতায় সংখ্যালঘু প্রশ্ন', তখন উদাহরণস্বরূপ কিছু ঘটনার উল্লেখ করছি-

বায়তুল মুকাদ্দাসের খ্রিষ্টানদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে হযরত উমর (রা.) যে সংবিধান লিখে দিয়েছিলেন, তাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সে সংবিধানে বলা হয়েছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটি একটি নিরাপত্তা চুক্তি, যা আমিরুল মুমিনিন ও আল্লাহর বান্দা উমরের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরিত হলো। এ চুক্তি জেরুজালেমে বসবাসরত খ্রিষ্টানদের জানমাল, গির্জা, ক্রুশ, সুস্থ-অসুস্থ তথা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রযোজ্য। সুতরাং এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর তাদের উপাসনালয়ে অন্য কেউ অবস্থান করতে পারবে না, তাদের গির্জা ধ্বংস করা যাবে না এবং কোনো ধরনের ক্ষতিসাধন বা হামলা করা যাবে না। (তারিখুত তাবারি, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪৪৯)

মদিনার ইহুদিরা সর্বদা নবী (সা.) ও ইসলামের বিরোধিতা করত। তথাপি নবী (সা.) তাদের স্বধর্ম পালনে বাধা দেননি বা তাদের উপাসনালয় ভেঙে ফেলেননি। একদা মদিনার মসজিদে বসে নাজরান থেকে আগত এক দল খ্রিষ্টানের সঙ্গে আলাপ করছিলেন। বিরতির সময় তারা মসজিদের ভেতরেই তাদের ধর্মানুসারে প্রার্থনা করার অনুমতি চাইলে নবী (সা.) তাদেরকে অনুমতি প্রদান করেন। (ফুতুহুল বুলদান, পৃ. ৭১) 

বস্তুত প্রতিটা ধর্মই বৈষম্য নীতিবিরুদ্ধ। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। আমাদের সবার রক্তই লাল। কালো, সাদা বা হলুদ কারোরই নয়। একটা উন্নত দেশ গড়ার জন্য আমাদের সবাইকেই বাস্তব বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়কে প্রাধান্যদানে শুধু অসাম্প্রদায়িক সমাজের জন্ম দিতে হবে মানবাধিকারভিত্তিক প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক চেতনায়। 

এমএ/ ০৫:২২/ ১৩ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে