Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০৮-২০১৯

আকাশছোঁয়া বহুতলের সঙ্গে ধাক্কায় প্রাণ হারাচ্ছে ১০০ কোটি পাখি!

আকাশছোঁয়া বহুতলের সঙ্গে ধাক্কায় প্রাণ হারাচ্ছে ১০০ কোটি পাখি!

আকাশছোঁয়া ইমারত। তাদের দাপটে আকাশটুকুও নজরে আসে না। আর কংক্রিটের সেই বহুতলেই অবশ্য ঝাঁ, চকচকে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জীবন মার্কিন বাসিন্দাদের। কিন্তু মানুষ বাদেও তো এ পৃথিবী প্রাণীময়! আর তাদেরই একটি অংশ এই আকাশছোঁয়া বহুতলের 'তাণ্ডবে' প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছে! তারা পক্ষীকুল। দুই ডানায় ভর দিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে উত্তরের দিকে যাওয়া ও ফেরত আসা- এই দু'পথেই গগনচুম্বী বহুতলের সঙ্গে ধাক্কায় কিংবা তা থেকে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিতে প্রাণ হারাচ্ছে পাখির দল। এবং সে সংখ্যাটা বছরে প্রায় ১০০ কোটি। অন্তত তেমনই বলছে নতুন একটি রিপোর্ট। 

বিপজ্জনক মার্কিন শহরগুলোর মধ্যে সকলের উপরে রয়েছে শিকাগো। প্রতি হেমন্ত ও বসন্তে প্রায় ২৫০ প্রজাতির ৫০ লাখ পাখির যাতায়াতের পথে পরে কাচ ঢাকা সুদৃশ বহুতল-ভর্তি এই শহর। বসন্তের সময় মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তরে কানাডার দিকে ও হেমন্তের সময় ফের দক্ষিণে- এভাবেই বছরে দু'বার যাতায়াত করে পাখির দল। এবং সেই পথেই শিকাগোর পাশাপাশি আর এক বড় 'ডেথট্র্যাপ' ম্যানহ্যাটান। 

নিউইয়র্ক শহরের পাখি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করে চলা এক সংগঠনের ডিরেক্টর সুজান এলবিন বলেন, 'পাখিরা এই সব বহুতল ঘেরা শহরে ঢুকে দিগ্‌ভ্রান্ত হয়ে পড়ে অনেক সময়, গন্তব্য চিনতে না পেরে অন্যত্র চলে যায়। তারপর যখন দিনের আলো ফোটে, যখন খাবারের প্রয়োজন পড়ে, তখন তারা গাছের সন্ধানে উড়ে যায়। কিন্তু আসলে গাছ নয়, ওই কাচের বহুতলে গাছের যে প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে সেগুলোকেই গাছ ভেবে ভুল করে সেগুলোতে গিয়ে আছড়ে পড়ে তারা। সেখানেই মৃত্যু হয় তাদের।' 

এতো গেল দিনের আলোর সমস্যা। মার্কিন মুল্লুক দিয়ে যে সব পরিযায়ী পাখির দল দেশান্তরী হয়, তারা সাধারণত রাতেই উড়তে ভালোবাসে। কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই গগনচুম্বী বহুতলগুলো। কারণ রাতের বেলা ওই বহুতলগুলোর চোখ ধাঁধানো আলোয় দিক ভুল করে শহরের মধ্যে ঢুকে পড়ে পরিযায়ী পাখির দল। কোন শহর এ ধরনের পরিযায়ী পাখির জন্য কতটা বিপজ্জনক সে নিয়ে একটি সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করেছে কর্নেল ল্যাব অব অর্নিথোলজি। তাতেই উঠে এসেছে শিকাগো, ম্যানহাটান, ছাড়াও পরিযায়ী পাখিদের ভ্রমণপথের মধ্যে রয়েছে হিউস্টন, ডালাসের মতো বড় শহরগুলিও। তা বাদে, লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, সেন্ট লুই, এবং আটলান্টা শহরেও একই রকম বিপত্তির মুখে পড়ে পাখির দল। 

ওই সমীক্ষার অন্যতম গবেষক কাইল হরটন অবশ্য দাবি করেছেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য মোটেও ওই শহরের বাসিন্দাদের সমালোচনা করা নয়। তিনি বলেন, 'আমরা শুধু সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছি...তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে এই পাখিদের বাঁচানো যায়।'

নিউইয়র্কে পাখি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করে চলা সংগঠনও একই রকম গবেষণা করেছিল। সেপ্টেম্বর এবং এপ্রিলে একাধিক স্বেচ্ছাসেবক পাঠিয়ে খোঁজ লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, শহরের রাস্তায় এ ভাবে ক'টি পাখির দেহ পড়ে রয়েছে। সেখানেই উঠে এসেছে প্রতি বছর ৯০ হাজার থেকে ২ লাখ পাখি বহুতলের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে মারা যায়। গোটা দেশের নিরিখে সংখ্যাটা বছরে ১০ কোটি থেকে ১০০ কোটির মধ্যে ঘোরাফেরা করে বলে দাবি স্মিথসোনিয়ান'স মাইগ্রেটরি বার্ড সেন্টারের। আরও দেখা গেছে, চড়াই, ওয়ার্বলারের মতো কিছু প্রজাতির পাখির ক্ষেত্রে এ ধরনের সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটে। 

এর সমাধান কী? 
পাথি বিশারদদের দাবি, যখন বছরের যে সময়টা পরিযায়ী পাখিদের যাতায়াতের সময়, সে সময়ে রাতের দিকে বহুতলের আলো নিভিয়ে রাখাটা প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এজন্য 'লাইটস আউট' বলে একটি উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। প্রয়োজন, পাখিদের জন্য নিরাপদ এমন বহুতলের এমন নকশাও। তবেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন
আর এস/ ০৮ এপ্রিল

 

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে