Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ , ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৮-২০১৯

প্রাথমিক স্কুলের ভবন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা

প্রাথমিক স্কুলের ভবন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা

ঢাকা, ০৮ এপ্রিল- প্রাথমিক স্কুলের ভবন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্দেশনার বলা হয়েছে, উপযুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ সরেজমিন পরিদর্শন করে অতি ঝুকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনসমূহ চিহ্নিত করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণের জন্য প্রয়োজনে উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

এর আগে শনিবার বরগুনার তালতলী উপজেলার ৫নং ছোটবগী পিকে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের বিম ধসে মানসুরা নামের এক ছাত্রী নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সালে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ স্কুল ভবন নির্মাণ করে। ভবন নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেতু এন্টার প্রাইজ। ওই সময় ভবনটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। নির্মাণের পাঁচ বছরের মাথায় ওই ভবনের বিমে ফাটল ধরে পলেস্তারা খসে পড়ে। ২০১৬ সালে বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষিকা শাকেরিন জাহান ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা জানিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মনিরুজ্জামান রিপনকে অবহিত করেছেন। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওই জরাজীর্ণ ভবনটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা না করে ক্লাস চালিয়ে নেয়ার আদেশ দেন। শনিবার ওই বিদ্যালয়ে প্রথম শিফটের ক্লাস শেষে দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় তৃতীয় শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের ক্লাস চলছিল। ওই শ্রেণীর ১৯ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। এ সময় বিদ্যালয় ভবনের ওই কক্ষের ছাদের বিম ভেঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাথায় পড়ে। এতে ১০ শিক্ষার্থী মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগে আহত হয়। গুরুতর আহত মানসুরা, সাদিয়া, ইসমাইল ও রুমাকে দ্রুত উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে ছুরিকাটা নামক স্থানে আহত মানসুরার মৃত্যু হয়। আহত সাদিয়া, ইসমাইল ও রুমাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত রোজমা ও শাহীনসহ চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। স্কুল ছাত্রীর নিহতের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিভাবকরা ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি করেছেন। নিহত মানসুরার বাড়ি উপজেলার গে-ামার গ্রামে। তার বাবার নাম নজির তালুকদার। মানসুরা তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।

আহত শিক্ষার্থী ইসমাইল, সাদিয়া ও রুমা জানান, বাংলা ক্লাসে শিমু ম্যাডাম আমাদের একটি প্রশ্ন লিখতে দেয়। আমরা ওই প্রশ্নে উত্তর লিখছিলাম। এমন মুহূর্তে একটি বিকট শব্দ হয়ে ছাদের ভিম ভেঙ্গে আমাদের উপরে পড়ে যায়। এতে অনেকজন আহত হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণীতে পাঠদানরত শিক্ষক মোসাঃ শিমু আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীরা লিখতে ছিল এমন মুহূর্তে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়ে একসঙ্গে ছাদের ভিম ধসে শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক আমি শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেছি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুম ও কুমকুম আক্তার জানান, বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে মেজেতে ছাদের বিম পড়ে থাকতে দেখি। পরে ছাত্রদের দ্রুত উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে মানসুরার মৃত্যু হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোঃ শাকেরিন জাহান বলেন, আমি বিশেষ প্রয়োজনে ছুটিতে ছিলাম। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি ভবনের ভিমের পলেস্তারা ধসে শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ভবনটিতে গত তিন বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পরে আছে। ভবনটি জরাজীর্ণের বিষয়টি তালতলী প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কাজী মনিরুজ্জামান রিপনকে অবহিত করেছি এবং তিনি বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে কিন্তু ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেনি। বাধ্য হয়ে ওই জরাজীর্ণ ভবনেরই পাঠদান করাতে হচ্ছে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, আহত মানসুরাকে হাসপাতালে আনার পূর্বেই মারা গেছে। অপর তিন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তারা শঙ্কা মুক্ত।

মেসার্স সেতু এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ কবির উদ্দিন সেতু বলেন, আমার লাইসেন্স দিয়ে ওই বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করিনি। কে বা কারা করেছে আমি জানি না?

তালতলী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মনিরুজ্জামান রিপন জরাজীর্ণ ভবনের কথা স্বীকার করে বলেন, ২০০২ সালে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। সেই ভবন ১৬ বছরের মাথায় ভেঙ্গে শিক্ষার্থী মারা যাবে এটা মেনে নেয়া যায়। যারা ভবন নির্মাণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পরে আছে এ বিষয়টি তালতলী উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি কিন্তু তিনি আমার কথায় কোন কর্ণপাত করেনি।

তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মদ আলী বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে এমন কথা আমাকে কেউ জানায়নি। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিম ধসে পড়েছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাশ শুভ বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এমএ/ ০৫:০০/ ০৮ এপ্রিল

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে