Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ , ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-০৬-২০১৯

ইকুয়েডর দূতাবাসের সামনে অ্যাসাঞ্জ-সমর্থকদের ভীড়, সশস্ত্র অবস্থান পুলিশের 

ইকুয়েডর দূতাবাসের সামনে অ্যাসাঞ্জ-সমর্থকদের ভীড়, সশস্ত্র অবস্থান পুলিশের 

লন্ডন, ০৬ এপ্রিল- উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে বের করে দেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কায় লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের সামনে ভীড় করা শুরু করেছে তার সমর্থকরা। বিতরণ করা হচ্ছে লিফলেট। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছেন অ্যাসাঞ্জ সমর্থকরা। সমর্থকদের এসব তৎপরতার পাশাপাশি সেখানে অবস্থান নিয়েছে সশস্ত্র ব্রিটিশ পুলিশ। শুক্রবার উচ্চ পর্যায়ের সূত্রকে উদ্ধৃত করে উইকিলিকসের টুইট বার্তায় অ্যাসাঞ্জকে বের করে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশের পরই দূতাবাসের বাইরে এসব তৎপরতা শুরু হয়। ইকুয়েডর দূতাবাসের তরফ থেকে অ্যাসাঞ্জের পরিস্থিতি জানানো হয়নি। তবে অ্যাসাঞ্জকে ‘মুক্ত মানুষ’ আখ্য দিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন ইচ্ছা করলেই তিনি দূতাবাস ত্যাগ করতে পারেন। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজের ওয়েবসাইট জানিয়েছে, লাল ইটের দূতাবাস ভবনের জানালা বা ব্যালকনিগুলোতে নিরবতা বজায় রয়েছে।

২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ইকুয়েডর দূতাবাস ভবনের সামনে ২৪ ঘণ্টার দায়িত্ব পালন বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ২০১২ সালের আগস্টের পর এই দূতাবাস ভবনের বাইরে আসেননি অ্যাসাঞ্জ। তার আশঙ্কা ইকুয়েডরের কূটনৈতিক এলাকা ত্যাগ করলেই তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আর হাজার হাজার মার্কিন নথি ফাঁস করে দেওয়ায় সেখানে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

উইকিলিকসের টুইটের পর বৃহস্পতিবার রাতে বিবৃতি দেয় ইকুয়েডর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, কোনও গুজব, তত্ব বা অনুমানের ওপর মন্তব্য করবে না তারা। পরদিন উইকিলিকসের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয় অ্যাসাঞ্জকে জোর করে দূতাবাসের বাইরে বের করে দেওয়া অবৈধ হবে। তা হবে শরণার্থী বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শুক্রবার অ্যাসাঞ্জ সমর্থকরা ইকুয়েডর দূতাবাসের বাইরে একটি বিলবোর্ডবাহী ট্রাক মোতায়েন করে। ট্রাকটিতে মার্কিন পতাকা দিয়ে অ্যাসাঞ্জ আর চেলসি ম্যানিংয়ের মুখ বন্ধ করা ছবি রয়েছে। লেখা রয়েছে: ‘বাকস্বাধীনতা...যুদ্ধাপরাদীদের বাদে’। ইকুয়েডর দূতাবাস ভবনের সরাসরি সামনে বিলবোডবাহী ট্রাকটি পার্ক করে রাখা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই লণ্ডনের পুলিশে এসে ট্রাকের চালককে জানান, দূতাবাসের পার্কিং স্পট আটকে রাখার অভিযোগ পেয়েছেন তারা। সেকারণে শুধুমাত্র সেখান থেকে ট্রাকটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, তার আপত্তি কেবলমাত্র ট্রাকটির অবস্থান নিয়ে। পডরে ট্রাকটি সেখান থেকে সরিয়ে নিলেও অ্যাসাঞ্জ সমর্থকরা লিফলেট বিতরণ করে। ওই লিফলেটে উইকিলিকসকে রক্ষায় আইনপ্রণেতার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে। অ্যাসাঞ্জ সমর্থকরা সেখানে একটি ব্যানার তুলে ধরে। তাতে লেখা ছিল, ‘সত্য আপনাকে মুক্তি দেবে। জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দাও’।

ইকুয়েডর দূতাবাসের সামনে সশস্ত্র পুলিশের অবস্থান বিষয়ে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের দাবি পুলিশের নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের কোনও ব্যত্যয় হয়নি। এক বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে অ্যাসাঞ্জের বিরেুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে এবং সেকারণে তিনি দূতাবাস ত্যাগ করলে পুলিশ পরোয়ানা জারি করতে বাধ্য।

তবে অ্যাসাঞ্জকে মুক্ত মানুষ আখ্যা দিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, যখনই ইচ্ছা তখনই তিনি দূতাবাস ভবন ত্যাগ করতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব এই পরিস্থিতির সমাধান। এই সমাধান কিভাবে হতে পারে জানতে চাইলে হান্ট বলেন, এটা তার (অ্যাসাঞ্জের) ওপর নির্ভর করছে।

বৃহস্পতিবার উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়, ‘ব্রেকিং: ইকুয়েডর সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র উইকিলিকসকে জানিয়েছে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে কয়েক ঘণ্টা থেকে দিনের মধ্যে বহিষ্কার করা হবে। অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আইএনএপেপারস অফশোর স্ক্যান্ডাল। আর এরইমধ্যে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে’। পরে আরেকটি টুইটে বলা হয় দ্বিতীয় আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র থেকে অ্যাসাঞ্জকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে দ্বিতীয় দফায় নিশ্চয়তা পেয়েছে তারা।  

ব্যক্তিগত নথি ও পারিবারিক ছবি প্রকাশ করায় অ্যাসাঞ্জের ওপর ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো ক্ষিপ্ত থাকলেও দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা উইকিলিকসের দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে বের করে দেওয়ার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ওই কর্মকর্তা নিজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার ইকুয়েডরের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো অভিযোগ করেন লন্ডন দূতাবাসে আশ্রয়ের শর্ত ‘বারবার ভঙ্গ’ করছেন অ্যাসাঞ্জ। তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পারিবারিক ছবি প্রকাশের জন্য অ্যাসাঞ্জকে দায়ী করেন মোরেনো। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ সরবরাহ করেননি মোরেনো। অ্যাসাঞ্জের আইনি দলের দাবি,এসব কেলেঙ্কারির ঘটনা ব্যবহার করে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চাইছেন মোরেনো।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এআর/০৬ এপ্রিল

মিডিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে